কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি আওয়ামী লীগ। দলটির দীর্ঘদিন জোট সঙ্গি কিছু দলও এবার নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তবে জাতীয় পার্টি (জাপা) মতো কেউ কেউ নির্বাচনে অংশও নিয়েছে। সব মিলিয়ে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, জাতীয় পার্টিসহ মোট ৫১টি দল এবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। তবে ভোটের মাঠে জাতীয় পার্টিসহ ৪২দলের কোনো প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেনি। ভোটে বিজয়ী হওয়ায় ত্রয়োদশ সংসদে প্রতিনিধিত্ব পাচ্ছে মাত্র ৯টি রাজনৈতিক দল। এছাড়া স্বতন্ত্র থেকে সংসদে যাচ্ছেন ৭ জন। নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) এয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়। এদিন সকাল সাড়ে ৭ টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হয়। পরে গণনা শেষে রাত থেকে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২৯৭ আসনের মধ্যে দলীয়ভাবে সবচেয়ে বেশি ২০৯টি আসনে জিতেছে বিএনপি। আর দলটির জোট সঙ্গে গণ-অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণসংহতি আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস একটি করে আসন পেয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে। আর জামায়তের জোট সঙ্গি এনসিপি ৬টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি আসনে জয়ী হয়েছে। দুই বড় জোটের বাইরে ইসলামী আন্দোলন ১ টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। আর দলীয় প্রার্থীর বাইরে সাতটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।
অর্থাৎ, ৯ দলের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়ে এয়োদশ সংসদে যাচ্ছেন। তবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৫১ দলের মধ্যে বাকী ৪২টি দলের কোনো প্রার্থী জয় লাভ করতে পারেনি। যারমানে, সরাসরি নির্বাচিত হয়ে এই দলগুলোর কোনো প্রতিনিধি সংসদে যাচ্ছে না।
যদিও নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৭ আসনের ফল প্রকাশিত হয়েছে। বাকী তিনটির মধ্যে একটি আসনে ভোট স্থগিত এবং দুটি আসনের ফল মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ঘোষণা করা হচ্ছে না।
রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিয়েও বিজয়ের খাতা খুলতে পারেনি এমন দলগুলো হলো- লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয় পার্টি (জেপি), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণতন্ত্রী পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ ও জেএসডি), জাকের পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, গণফোরাম, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট বাংলাদেশ, ইসলামী ফ্রন্ট, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি।
এছাড়াও বিএমএল, মুক্তিজোট, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ), এনডিএম, বাংলাদেশ কংগ্রেস, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাসদ, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পাটি), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি), বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), জনতার দল, আমজনতার দল, বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিইপি) ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি।
আরও পড়ুন:
গণভোটে দ্বিগুণ ভোটে ‘হ্যাঁ’-এর জয়
আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন (ইসি) ২৯৭টি আসনের ফল জানানোর পর ফলাফল ঘোষণার কার্যক্রম সমাপ্ত করা হয়। ইসি তথ্য অনুযায়ী, এই নির্বাচনে ভোটার ছিল ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। ২৯৯ আসনের ভোটে ৫০টি দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিল ২,০২৮ জন। নির্বাচনের ১৯৯ আসনে ভোট পড়েছে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
এদিকে সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হয়েছে। ঘোষিত গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখের বেশি ও ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ৩০ লাখের মতো। অর্থাৎ, ‘হ্যাঁ’ ভোটের হার ৬৮ দশমিক ১ শতাংশ ও ‘না’ ভোটের হার ৩১ দশমিক ৯ শতাংশ।
বিইউ/এএম

