বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

ভোটে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

মোস্তফা ইমরুল কায়েস
প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:১৮ এএম

শেয়ার করুন:

ভোটে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
ভোটে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফাইল ছবি
  • এই প্রথম নির্বাচনে ব্যবহৃত হবে বডি অন ক্যামেরা
  • ২৪ হাজার বডি অন ক্যামেরা ও প্রায় ৪৩ হাজার সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে
  • কেউ কোনো ঝামেলা করলেই গ্রেপ্তার
  • ঢাকায় ৩৭ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে থাকবে সাতজন পুলিশ সদস্য

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নানা শঙ্কা থাকলেও প্রশাসন মাঠে নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে। কেউ কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করলেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের আইনের আওতায় আনবেন। কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। যার প্রমাণ বুধবার দিনভর মিলেছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কড়া নজরদারি থাকবে। এবারই প্রথম বাংলাদেশের ভোটের ইতিহাসে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে বডি অন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। এছাড়াও থাকবে সিসি ক্যামেরা। এদিকে রাজধানীর ৩৭টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে ডিএমপি। এসব কেন্দ্রে সাতজন করে পুলিশ সদস্য থাকবে বলে জানিয়েছে তারা।


বিজ্ঞাপন


আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সারা দেশে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা ইতোমধ্যে মাঠে অবস্থান নিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে।

নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হবে এবং ভোট শেষে ব্যালট বাক্স বা নির্বাচনী সরঞ্জাম নিরাপদে সংরক্ষণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যেকোনো বিশৃঙ্খলা কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার পুলিশ, বিজিবি ও সেনাসদস্যরা মাঠে নিরপেক্ষ ভূমিকায় থাকবেন। কোনো ভোটকেন্দ্রে কেউ বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করলেই তাকে ধরে আইনের আওতায় আনা হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একজন এসআই বলেন, স্যারেরা আমাদের বলেছেন, তোমরা যা দেখবে সে অনুযায়ী মাঠে কাজ করবে। কারও পক্ষ নিয়ে কিছু করবে না। ফলে পুলিশের প্রতিটি সদস্য এবার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়াও প্রশাসনের প্রতিটি সদস্যকেও একই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও এবারের ভোটের দিন কী হবে তা নিয়ে অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, কিছুই হবে না। শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।


বিজ্ঞাপন


জানা গেছে, এবারই প্রথম বাংলাদেশে নির্বাচনের নিরাপত্তায় পুলিশ সদস্যরা বডি অন ক্যামেরা ব্যবহার করবেন। পুলিশের নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ বা মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ২৪ হাজার ভোটকেন্দ্রে বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা ক্যামেরা নিয়ে কাজ করবেন। এছাড়াও নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে প্রায় ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। ৯০ শতাংশেরও বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি নজরদারি থাকবে, যাতে ভোটগ্রহণের সময় নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।

আরও পড়ুন: ভোট কেনাবেচার প্রমাণ মিললেই ব্যবস্থা: ইসি

ডিএমপি সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা শহরের ১ হাজার ৯৭টি ভেন্যুতে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ২ হাজার ১৩১টি। এর মধ্যে ১ হাজার ৫১৬টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৫২৫টি সাধারণ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের নিরাপত্তায় প্রায় ২৬ হাজার পুলিশ সদস্য কাজ করছেন। এছাড়া ডিএমপিতে চারটি কন্ট্রোল রুম ও আটটি সাব-কন্ট্রোল রুম থাকবে। এসব কন্ট্রোল রুমে বসবেন শীর্ষ কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে টাকা নিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের কিছু কর্মী আটকের খবর পাওয়া গেছে। বিষয়গুলো নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। এর মধ্যে উত্তরের জেলা সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলালকে ৫০ লাখ টাকাসহ আটক করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। তবে এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এ ঘটনায় বেলালের দাবি, তার গার্মেন্টস ব্যবসা রয়েছে। তিনি ঢাকা থেকে ব্যবসার টাকা নিয়ে গ্রামে ফিরছিলেন। যদিও এর স্বপক্ষে এখনো কোনো শক্ত নথি তিনি দেখাতে পারেননি।

অন্যদিকে রাজধানীতে অর্থের বিনিময়ে ঢাকা-৬ আসনে ভোট কেনার অভিযোগে সূত্রাপুর থানা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মো. হাবিবকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাকে দুই দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন। বুধবার রাজধানীর সূত্রাপুর কমিউনিটি সেন্টার ভোটকেন্দ্রের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সূত্রাপুরের ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডে একটি চালের দোকানে মো. হাবিব ভোটারদের কাছে টাকা দিচ্ছিলেন। এ সময় এলাকাবাসী তাকে ধরে ফেলেন। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাচাই-বাছাই শেষে ঘটনার সত্যতা পেয়ে তাকে দুই দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

picture

জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে অনেক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। এছাড়াও সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ঢুকছে কি না তা নজরদারি করছেন তারা। কক্সবাজারের উখিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্ত্র, গুলি ও ওয়াকিটকিসহ তিনজনকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী। বুধবার ভোরে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী রহমতের বিল এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। আটক অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি একনালা বন্দুক, একটি ওয়ান শুটার, একটি হ্যামার, দুটি চাপাতি, দুটি ওয়াকিটকি সেট, চারটি পিস্তলের গুলি, ৬৯টি একে-২১-এর গুলি, তিনটি কার্তুজ ও রাইফেলের ১৩টি গুলি বলে দাবি যৌথ বাহিনীর। আটকরা হলেন উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী গ্রামের বাসিন্দা আজিজুল হকের ছেলে নূরুল আমিন (৩২), একই ইউনিয়নের রহমতের বিল গ্রামের আহমেদের ছেলে জানে আলম (৩৫) এবং কক্সবাজার সদর পৌরসভার শফিক আহমদের ছেলে সোহেল রানা (২৬)।

বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের মহাপরিচালক একেএম সাহিদুর রহমান বলেন, যারা নির্বাচন ব্যাহত করতে চাইবে, জালভোট দিতে যাবে, ব্যালট বাক্স ছিনতাই করবে বা কেন্দ্রে হামলা চালাবে, তাদের কঠোর ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হবে। নির্বাচনের ফলাফল মেনে না নিয়ে কেউ নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দ্বিধা করা হবে না। আইন ভঙ্গ করলে ঝুঁকি তাদেরই নিতে হবে।

একই দিন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী নির্বাচনকালীন যেকোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড, সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিহত করার জন্য সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন। রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিজিবির একাধিক নির্বাচনী ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় দায়িত্বরত সদস্যদের তিনি এ নির্দেশনা দেন।

এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের এআইজি সাহাদাত হোসেন বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনসম্মত ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনে পুলিশ অঙ্গীকারাবদ্ধ। এ উদ্দেশ্যে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত সব সদস্যকে নির্ধারিত করণীয় ও বর্জনীয় নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। মোট ১ লাখ ৮৭ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

এমআইকে/এআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর