বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

ভোটের ফল না নিয়ে কেউ ঘরে ফিরবেন না: জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:২৭ এএম

শেয়ার করুন:

jamat
জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল হাতে না নিয়ে কেউ ঘরে ফিরবেন না বলে দলীয় ও জোটের নেতামকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। 

তিনি আরও বলেছেন, ‘ভোট দেওয়ার পরেও যেন কোনোভাবে ভোট নষ্ট না হয়, সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’


বিজ্ঞাপন


মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান।

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা কারও আনুকূল্য চাই না, আবার অন্য কাউকে আনুকূল্য দেখানো হোক—এটাও আমরা দেখতে চাই না। সবাই যেন নিরপেক্ষতার সঙ্গে যার যার দায়িত্ব পালন করেন, সেটাই আমরা চাই।’

নির্বাচনের দিন নানা ধরনের গুজব ও রিউমার ছড়ানো হতে পারে আশঙ্কা করে এ বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান জামায়াত আমির। 

তিনি বলেন, ‘১১ দলের পক্ষ থেকে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য না আসা পর্যন্ত বিভ্রান্তিমূলক কথায় কান না দিতে আমরা জনগণকে আহ্বান জানাব।’ শফিকুর রহমান বলেন, ‘পরাজয়ের ভয়ে ভীত কোনো পক্ষ মিথ্যা অপবাদ, ভয়ভীতি কিংবা আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে।’


বিজ্ঞাপন


তিনি বলেন, ‘সবকিছুকে মোকাবিলা করেই ইনশাআল্লাহ আপনারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন এবং ভোটের ফলাফল হাতে নিয়ে ঘরে ফিরবেন। ভোট দেওয়ার আগেও বা পরে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হতে পারে, তবে এই বীর জাতি সব বাধা মোকাবিলা করেই নির্বাচন সফল করবে।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘১২ তারিখের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে সরকার গঠিত হবে, সেটিই হবে নতুন বাংলাদেশের সরকার। এই সরকার হবে জনআকাঙ্ক্ষার সরকার। এই সরকার হবে কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি জনতার সরকার, মাঝি-মজুরসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সরকার, নারী-পুরুষের সরকার, শিশু-আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার সরকার। এই সরকার কোনো দল, গোষ্ঠী কিংবা পরিবারের সরকার হবে না—এই সরকার হবে জনগণের সরকার।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা বললেই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না, আবার আমরা সুষ্ঠু হয়নি বললেও সেটি চূড়ান্ত হবে না। জনগণ যদি বলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, আমরা তা শ্রদ্ধার সঙ্গে মেনে নেব।’ 

শফিকুর রহমান বলেন, সরকারে থাকা বা বিরোধী দলে বসা—কোনোটিই মুখ্য নয়, বরং জনগণের রায়ের প্রতিই তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যদি আমরা বিজয়ী হই, তাহলে অতীতের নির্যাতন ও নিপীড়নের অবসান ঘটবে এবং যৌক্তিক ও ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করা হবে। আবরার থেকে শুরু করে বিপ্লবী শরীফ ওসমান হাদি পর্যন্ত সবার পরিবার বিচার পাবে।’

একই সঙ্গে তিনি ১৪০০ শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং জুলাই যোদ্ধাদের অবদানের কথা স্মরণ করেন।

জামায়াত আমির বলেন, ‘সংস্কার ও পরিবর্তনের প্রশ্নে আমাদের অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট। দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কারণে গত ৫৪ বছরে জাতি অনেক পিছিয়ে পড়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান এবং সমাজে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই জামায়াতের অঙ্গীকার। এ দুটি নিশ্চিত করা গেলে সমাজের পশ্চাৎপদ অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব হবে।’

এসময় জামায়াত আমিরের সঙ্গে খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও এনসপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদসহ জোটের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এএইচ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর