বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

‘বন্ধু’ ভারত কি আ.লীগ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০৮ পিএম

শেয়ার করুন:

India
ছবি- সংগৃহীত

প্রতিবেশী দেশ ভারত বাংলাদেশের পতিত ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ‘বন্ধু’। বহু বছর ধরে উভয় পক্ষ এমন নজিরই সৃষ্টি করে আসছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারতের রাষ্ট্রীয় স্তরে সম্পর্ক শুধু ঐতিহাসিকই নয়, পারস্পরিক আস্থারও বটে। 

একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে ভারত ও আওয়ামী লীগের যে সম্পর্কের সূচনা, তা আজ অর্ধশতাব্দী পরেও কমবেশি অটুট থেকেছে। বছর দেড়েক আগেও যখন আওয়ামী লীগ ইতিহাসে তাদের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল, তখনও ভারত দলটির সর্বোচ্চ নেত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে আশ্রয় দিয়েছে এবং সম্মানিত অতিথির মর্যাদায় আজও তাকে কঠোর নিরাপত্তায় মুড়ে রেখেছে।


বিজ্ঞাপন


শুধু তাই নয়, চব্বিশের ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী, সাবেক এমপি-মন্ত্রী, সমর্থক ও অ্যাক্টিভিস্টরাও ভারতে আশ্রয় পেয়েছেন এবং ভারতের মাটি থেকেই যতটা সম্ভব রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই সময়কালের মধ্যে ভারত অজস্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছে, তারা বাংলাদেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক (ইনক্লুসিভ) ও পার্টিসিপেটরি (অংশগ্রহণমূলক) নির্বাচন দেখতে চায়– যেটার অর্থ, ভারত চেয়েছে সে দেশের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ লড়ার সুযোগ পাক।

কিন্তু বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ায় দেশটির নির্বাচন কমিশন সেই সুযোগ দলটিকে দেয়নি এবং আওয়ামী লীগকে ছাড়াই শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন।

এখন বিগত দেড় বছর ধরে বাংলাদেশে একটি ইনক্লুসিভ নির্বাচনের কথা বলে এলেও এখন কিন্তু দেখা যাচ্ছে, ভারত সে দেশে একটি আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচনের বাস্তবতাই মেনে নিয়েছে।


বিজ্ঞাপন


ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে সেই সিদ্ধান্তের কোনো প্রতিবাদ তো জানায়ইনি, বরং যে দুটি দলের ঢাকার ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা আছে– সেই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রতি এক ধরনের ‘আউটরিচ’ও শুরু করেছে।

মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শোক জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ব্যক্তিগত চিঠি পর্যন্ত লিখেছেন। ঢাকায় এসে সেই চিঠি তার হাতে তুলে দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর স্বয়ং।

এসব ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে দিয়ে এই প্রশ্নটা ওঠা খুব স্বাভাবিক, তাহলে এখন দীর্ঘদিনের মিত্র ও আস্থাভাজন আওয়ামী লীগের সম্বন্ধে ভারতের অবস্থান কী হতে চলেছে? ঢাকাতে যখন নানা ধরনের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ গড়ে ওঠার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তখন দিল্লি কি নিজের স্বার্থেই বহু পুরনো এই বন্ধু দলটির থেকে ক্রমশ দূরত্ব বাড়াচ্ছে?

22
আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি নিদর্শন। ছবি- সংগৃহীত

‘চিরস্থায়ী বন্ধু বলে কিছু হয় না’

দিল্লিতে অনেক পর্যবেক্ষকই মনে করেন, বাংলাদেশে একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই চিরকাল ভারত সম্পর্ক রাখবে– এমনটা আশা করা আসলে সত্যিই বাড়াবাড়ি!

সাবেক ভারতীয় কূটনীতিবিদ সৌমেন রায় বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পার্মানেন্ট ফ্রেন্ড বলে কিছু হয় না, তেমনি পার্মাানেন্ট এনিমিও কিছু হয় না। সুতরাং আওয়ামী লীগ যখন ফ্রেন্ড ছিল, তখন হয়েছে– কাজ হয়েছে। কিন্তু ন্যাশনাল ইন্টারেস্টের গুরুত্বই সবচেয়ে বেশি। ইন্ডিয়া তার ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট বা জাতীয় স্বার্থ দেখবে সবার আগে।’

তিনি বলেন, ‘একটা ব্যাপার হচ্ছে, আওয়ামী লীগের সাপোর্টার যারা আছে, তারাও সাধারণ মানুষ। কিন্তু সে করে তো আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে আমরা সম্পর্ক রাখব না– এটা তো করা ঠিক হবে না, আর ইন্ডিয়া গভর্নমেন্ট সেটা করবেও না।’

সৌমেন আরও যুক্তি দিচ্ছেন, ভারতের পররাষ্ট্রনীতির দিশা নির্ধারিত হয় ‘স্ট্র্যাটেজিক সেলফ ইন্টারেস্ট’ দিয়ে– আগামীতে বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সেটাই প্রযোজ্য হবে। সোজা কথায়, ভারত যখন দেখবে আওয়ামী লীগের চেয়ে অন্য কোনো দলের সঙ্গে বন্ধুত্ব হলে তাদের জাতীয় স্বার্থ বেশি সুরক্ষিত হচ্ছে, তখন তারা সেই রাস্তায় হাঁটতে এতটুকুও দ্বিধা করবে না।

আওয়ামী লীগের জন্য নতুন সরকারে তদবির?

ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতারা কেউ কেউ এমনও আশা করছেন, ঢাকায় নতুন নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে ভারত হয়তো দলটির ‘রাজনৈতিক পুনর্বাসন’ নিয়েও কথাবার্তা বলবে। তারা মনে করছেন, ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে দিল্লির যেহেতু অনেকগুলো ‘লিভারেজ’ আছে, তাই সেগুলোকে কাজে লাগিয়ে তারা বন্ধু দলটিকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফেরানোর জন্য নিশ্চয়ই দেনদরবার করবে।

দিল্লিতে পর্যবেক্ষকরা সবাই অবশ্য তেমনটা মনে করছেন না। বরং তাদের ধারণা, এখানে ‘যা করার আওয়ামী লীগের নিজেকেই করতে হবে’।

দিল্লির থিঙ্কট্যাঙ্ক আইডিএসএর সিনিয়র ফেলো স্ম্রুতি পট্টনায়ক বলেন, ‘আমার কিন্তু মনে হচ্ছে না যে আওয়ামী লীগের রিহ্যাবিলিটেশনের জন্য ইন্ডিয়া ওইভাবে কোনো কার্যক্রম নেবে। কারণ ইন্ডিয়া এই স্ট্যান্ড নিয়ে নিয়েছে যে, যা কিছু হয়েছে বাংলাদেশে, সেটার দায়িত্ব অবশ্যই আওয়ামী লীগের। দে ইগনোরড দ্য সাইনস।’

তিনি বলেন, ‘অ্যান্টি-আওয়ামী লীগ সেন্টিমেন্ট যেটা ছিল, সেটা হয়ে গেছে অ্যান্টি-ইন্ডিয়া সেন্টিমেন্ট। তো ভারত কখনোই চাইবে না আমরা আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগ করে ভারতের বিরুদ্ধে সে দেশে সেন্টিমেন্টটা আরও উসকে দিই!’

3

পট্টনায়ক আরও মনে করিয়ে দিচ্ছেন, যেহেতু বাংলাদেশেও ভারতের বিপুল নিরাপত্তাগত, অর্থনৈতিক বা বাণিজ্যিক স্বার্থ আছে– তাই দিল্লিও চাইবে না সে দেশে তাদের সম্পর্ক একটিমাত্র দলের সঙ্গে সীমাবদ্ধ থাকুক।’

তিনি আরও বলেন, ‘হ্যাঁ, কয়েকটা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক থাকবে, আবার কয়েকটা দলের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকবে না। কেননা ওদের আইডিওলজিক্যাল ওরিয়েন্টেশন, ওদের ভোটব্যাংক পলিটিক্স– ওইসব জিনিসগুলো আছে।’

পট্টনায়ক বলেন, ‘কিন্তু মোটামুটিভাবে আমার যেটা মনে হচ্ছে, যে পার্টিই বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসুক, ওদের ‘রিয়েলিটি অব জিওগ্রাফি’ ইন্ডিয়া দেখবে মানে সেটা আপনি কখনো উপেক্ষা করতে পারবেন না।’

হাসিনাকে ঢাকার হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে?

তবে বাংলাদেশে অন্য দলগুলোর সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠতা বাড়লেও সে দেশের আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আওয়ামী লীগ সভাপতি তথা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঢাকার হাতে তুলে দেওয়ার সম্ভাবনা যে নেই, এটাও সবাই মানছেন।

লন্ডন-ভিত্তিক লেখক ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রিয়জিত দেবসরকার যেমন বলেন, ‘ভারত চিরকালই সেকুলারিজম, ডেমোক্র্যাসি, প্লুরালিজম এবং একটা বাঙালি কালচারাল আইডেন্টিটির জন্য লড়াকে– ধর্ম-জাতি নির্বিশেষে জরুরি মনে করেছে। এই জিনিসগুলো ডিফেন্ড করার জন্য, ফান্ডামেন্টাল রাইটসগুলোর জন্য ভারত চিরকালই দরজা খুলে রেখেছিল। আর সেই জন্য নিশ্চয়ই (ভারতের চোখে) তারা থাকবে। আমি মনে করি আওয়ামী লীগও প্রত্যাবর্তন করবে বাংলাদেশের ইতিহাসে।’

এই মুহূর্তে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করা বা বিচারের জন্য ঢাকার হাতে তুলে দেওয়ার কোনো বাস্তবসম্মত সম্ভাবনাও দেখছেন না তিনি। দেবসরকার বলেন, ‘হ্যাঁ, নিশ্চয়ই নতুন যে সরকার আসবে তার সঙ্গে ভারত একটা সুসম্পর্ক চাইবে, কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতারা ও শেখ হাসিনা আমার ধারণা আপাতত ভারতেই থাকবেন। ভবিষ্যতে ইলেকশনের পর এটার আউটকামের ওপর ডিপেন্ড করছে কী হবে।’

‘আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রাসঙ্গিকতা থাকবে’

আপাতত যাবতীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষিত হলেও আওয়ামী লীগকে যে বাংলাদেশের পলিটিক্যাল ল্যান্ডস্কেপ থেকে খুব বেশিদিন বাইরে সরিয়ে রাখা যাবে না, দিল্লিতে অনেকেই অবশ্য সে কথা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।

ঢাকায় ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত রিভা গাঙ্গুলি দাস বলছেন, ‘আপনি কতদিন বাদ দিয়ে রাখবেন? আফটার অল, এত বছর ধরে যত ইলেকশন হয়েছে তার ডেটা দেখলে দেখা যায়, সে দেশে ৩০ পার্সেন্ট বা তার কিছু বেশি সংখ্যক মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়। আর আওয়ামী লীগ একটা লেফট অব সেন্টার পলিটিক্সকে রিপ্রেজেন্ট করে, যেটার একটা স্পেস আছে বাংলাদেশে– প্রচুর স্পেস আছে।’

ঠিক এই কারণেই তিনি ধারণা করছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ আবার একদিন অবধারিতভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। যদিও সেটা ঠিক কীভাবে ঘটবে, তা এখন আন্দাজ করা কঠিন।

রিভা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এ ধরনের চ্যালেঞ্জ আগেও ফেস করেছে, তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সময় লাগে। আমার মনে হয় এটা একটা ওপেন কোয়েশ্চেন, কিন্তু ওরা যে পলিটিক্সটা রিপ্রেজেন্ট করে, আমি মনে করি সেটা প্রাসঙ্গিক। সেই পলিটিক্সটাকে কীভাবে শেষ করা যাবে? আমার মনে হয় না সেটা সম্ভব।’

ভারতে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা কী ভাবছেন?

ভারতে এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগের যে শত শত নেতাকর্মী আশ্রয় নিয়ে রয়েছেন, তারা কিন্তু বিশ্বাস করেন আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারতের যে ‘ঐতিহাসিক বন্ধন’ তা অত সহজে ছেঁড়ার নয়।

rokeya-prac
আওয়ামী লীগ নেত্রী ও অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী। 

সম্প্রতি দিল্লিতে আওয়ামী লীগের হয়ে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত থাকা অভিনেত্রী তথা রাজনীতিবিদ রোকেয়া প্রাচী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ভারত কেবল আওয়ামী লীগের বন্ধু তা না, ভারত বাংলাদেশেরও বন্ধু।’

তিনি বলেন, ‘কংগ্রেসকে বাদ দিলে ভারতে যেমন ইনক্লুসিভ ডেমোক্র্যাসি সম্ভব না, বা ইউএসএ-তে ডেমোক্র্যাটদের বাদ দিলে ইনক্লুসিভ ডেমোক্র্যাসি থাকছে না, তো বাংলাদেশেও একই রকম, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে বাদ দিলে ইনক্লুসিভ ডেমোক্র্যাসি কোথায়?’

রোকেয়া মনে করেন, যেহেতু বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কে ‘ইনক্লুসিভ ডেমোক্র্যাসি’ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের গুরুত্ব আছে, সেই কারণেই বাংলাদেশে আওয়ামী লীগবিহীন রাজনীতিকে ভারত বেশিদিন মেনে নিতে পারবে না।

সেই সঙ্গে তিনি বলছেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে বন্ধু ভারত রাষ্ট্রের যে সম্পর্ক, সেই ১৯৭১ সালের আস্থা, নির্ভরতা, ভালবাসা, আবেগের যে সম্পর্ক– সেই জায়গায় যে আস্থাশীলতা– আমি মনে করি ১২ তারিখের নির্বাচন সেখানে কোনো ম্যাটার করে না।’

রোকেয়া প্রাচী আরও বলেন, ‘আমরা বরং এটা বলতে পারি যে বাংলাদেশে যখন ইনক্লুসিভ ডেমোক্র্যাসি ব্যাহত হচ্ছে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ করতে না দিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটি কিন্তু প্রতিবেশী রাষ্ট্রের জন্যও সঙ্কটের, উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে!’

এই উদ্বেগের জায়গাগুলো অ্যাড্রেস করার জন্য আজ হোক বা কাল, ভারতকে কিছু পদক্ষেপ নিতেই হবে– আওয়ামী লীগের বহু নেতাকর্মীর সে রকমই বিশ্বাস। সূত্র: বিবিসি বাংলা

এএইচ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর