ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন নারী নেত্রীরা।
ডা. শফিকুর রহমানের ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের জেরে তার প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে এই আবেদন করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রোববার (০৮ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাতে নারী নেত্রীরা এ সংক্রান্ত লিখিত আবেদন দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু।
তিনি বলেন, সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ভ্যারিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে যে অবমাননাকর, কুরুচিপূর্ণ ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করা হয়েছে, তা শুধু নারীদের প্রতি চরম অবমাননাই নয় বরং দেশের কোটি কোটি শ্রমজীবী, আত্মমর্যাদাশীল ও অবদানশীল নারীর শ্রম, সম্মান ও সামাজিক ভূমিকার সরাসরি অস্বীকৃতি।
বিজ্ঞাপন
মোশরেফা মিশু বলেন, পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট দলের পক্ষ থেকে ওই মন্তব্যকে ‘হ্যাকিং’-এর ফল বলে ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও ভ্যারিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত এমন বক্তব্যের ক্ষেত্রে এই দাবি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলে আমরা মনে করি।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, প্রামাণ্য তথ্য বা স্বচ্ছ তদন্তের ফলাফল এখনো পর্যন্ত জনসমক্ষে উপস্থাপিত হয়নি।’
মিশু বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, ওই ‘হ্যাকিং’ অভিযোগে বঙ্গভবনের এক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার দেখানো হলেও এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী তথ্য এসেছে। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনাপ্রবাহ তথাকথিত ‘হ্যাকিং’ দাবিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
এই নেত্রী বলেন, বিগত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের শ্রমজীবী নারীরা তাদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে পরিবার, সমাজ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তাদের এই অবদানকে অবমূল্যায়ন করে প্রকাশ্যে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া সংবিধানস্বীকৃত সমতা, মানবাধিকার, নারী মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের চরম পরিপন্থি।
তিনি আরও বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে মনে করি, এ ধরনের বক্তব্য নারীর প্রতি ঘৃণা, বৈষম্য ও সহিংসতার সংস্কৃতিকে উসকে দেয় এবং নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কর্মপরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলে। একজন রাজনৈতিক নেতৃত্বের আসনে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
এ সময় নারী নেত্রীদের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। সেগুলো হলো- অবিলম্বে ওই অবমাননাকর বক্তব্য প্রকাশ্যে প্রত্যাহার করতে হবে, কর্মজীবী নারী ও নারী শ্রমিকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে, ভবিষ্যতে নারীর মর্যাদা ও শ্রমকে হেয় করে- এমন বক্তব্য থেকে বিরত থাকার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করতে হবে, নির্বাচন কমিশনের নৈতিকতা ও আচরণবিধি অনুযায়ী এ ধরনের বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং ওই ব্যক্তির প্রার্থিতা বাতিল করতে হবে।
সিইসির সঙ্গে বৈঠকে অন্যদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, এনপিএ মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমী, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের সংগঠক নাফিসা রায়হানা, আইনজীবী ও অধিকার কর্মী তাবাসসুম মেহেনাজ মিমি উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ৩১ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে একটি আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়। বঙ্গভবনের ই-মেইল ব্যবহার করে আইডিটি হ্যাক করা হয় বলে জানা যায়। নানা মহলে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা।
এ ঘটনায় গত ১ ফেব্রুয়ারি ভোরে জামায়াতের পক্ষ থেকে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
জিডির পর গত মঙ্গলবার ৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন অডিটোরিয়ামের পূর্বপাশের সরকারি কোয়ার্টারে অভিযান চালিয়ে বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার ছরওয়ার আলমকে আটক করে ডিবি পুলিশ। পরে তাকেসহ ২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করে জামায়াত।
তবে দুই দিনের মাথায় গত ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জামিন পেয়ে যান ছরওয়ার আলম। এর দুদিন না যেতেই উঠল জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি।
এএইচ

