রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন যেসব প্রকৌশলী

আব্দুল হাকিম
প্রকাশিত: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০০ পিএম

শেয়ার করুন:

Election
বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির মতো দলগুলো একাধিক প্রকৌশলী প্রার্থীকে ভোটের মাঠে এনেছে। ছবি: কোলাজ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনীতির মাঠে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে—প্রকৌশলী পেশাজীবীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন পাওয়া এসব প্রার্থী শুধু দলীয় রাজনীতির প্রতিনিধি নন, তারা প্রযুক্তি, পরিকল্পনা ও বাস্তবভিত্তিক উন্নয়ন চিন্তার বাহক হিসেবেও আলোচনায় এসেছেন। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির মতো দলগুলো একাধিক প্রকৌশলী প্রার্থীকে ভোটের মাঠে এনেছে, যা নির্বাচনী রাজনীতিতে পেশাগত বৈচিত্র্য ও নীতিনির্ভর নেতৃত্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

চট্টগ্রাম-৫, নওগাঁ-২, ঢাকা-৬, ঢাকা-১৪, কুষ্টিয়া-৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩, নরসিংদী-৫, ফরিদপুর-২, মানিকগঞ্জ-২, শেরপুর-২, ঢাকা-২০, ঢাকা-১৬ ও ঢাকা-১৩—এইসব গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রকৌশলী পরিচয়ের প্রার্থীরা সরাসরি জনগণের মুখোমুখি হচ্ছেন। অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, নাগরিক অধিকার, সামাজিক ন্যায় এবং প্রযুক্তিনির্ভর পরিকল্পনাকে সামনে রেখে তারা ভোট চাইছেন। মাঠপর্যায়ের রাজনীতির সঙ্গে পেশাগত দক্ষতার সমন্বয় ঘটিয়ে এসব প্রার্থী নিজেদের আলাদা অবস্থান তৈরি করতে চাচ্ছেন, যা ভোটারদের মধ্যেও কৌতূহল ও প্রত্যাশা বাড়িয়েছে।  


বিজ্ঞাপন


 

 

বিএনপি 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রকৌশলী প্রার্থী ভোটের মাঠে নামিয়েছে। ঢাকা, কুষ্টিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ ও শেরপুরসহ বিভিন্ন আসনে তারা ভোট প্রার্থনা করছেন। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পেশাগত দক্ষতা ও মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার সমন্বয় নির্বাচনি রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে।

ইশরাক হোসেন (ঢাকা-৬)
ইশরাক হোসেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা এবং প্রযুক্তি প্রকৌশলী। রাজনীতিতে প্রবেশের পর তিনি জনগণের সার্বিক উন্নয়ন, ন্যায়বিচার এবং সামাজিক সংগঠনে মনোযোগ দিয়েছেন। স্থানীয় জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখে তিনি জনসভা, পথসভা এবং মতবিনিময় সভার মাধ্যমে প্রচারণা পরিচালনা করছেন। যুব ও নাগরিক অংশগ্রহণ, দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় তার দীর্ঘদিনের কর্মকাণ্ড তাকে পরিচিত করেছে। ইশরাক হোসেন তার নির্বাচনি প্রচারে প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং নাগরিক সুবিধার উন্নয়নের জন্য বাস্তবভিত্তিক সমাধান তুলে ধরেন। তিনি বিশ্বাস করেন, নির্বাচনি রাজনীতিতে প্রকৌশলীদের যুক্ত হওয়া জনগণের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। 
 
সানজিদা ইসলাম তুলি (ঢাকা-১৪)
সানজিদা ইসলাম তুলি দীর্ঘদিন স্থানীয় সমাজ উন্নয়নে কাজ করছেন। নারীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক অংশগ্রহণের জন্য নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। স্থানীয় উন্নয়ন ও জনগণের অভিযোগ শোনার জন্য মাঠে সরাসরি উপস্থিতি তার জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ। তুলি যুব সমাজকে ইতিবাচক দিকনির্দেশনা দিয়ে দেশের সার্বিক উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন। তিনি নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্যসেবা প্রসার এবং সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠায় নিরলস প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। স্থানীয় জনগণ তাকে ভালোভাবে গ্রহণ করেছেন, কারণ তিনি শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, জনগণের বাস্তব সমস্যার সমাধানে সরাসরি অংশ নিচ্ছেন। 

 


 
জাকির হোসেন সরকার (কুষ্টিয়া-৩)
জাকির হোসেন সরকার দীর্ঘদিন প্রকৌশল পেশায় যুক্ত থেকে বাস্তব জীবনের সমস্যা, পরিকল্পনা এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তিনি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানীয় পানি ও কৃষি ক্ষেত্রে কাজ করছেন। যুব, মহিলা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংগঠন গড়ে তোলার কাজও তিনি করছেন। সামাজিক পর্যায়ে তিনি বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে যুক্ত থেকে নাগরিক সচেতনতা, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও স্বচ্ছতার পক্ষে বক্তব্য রেখেছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি সাধারণ মানুষের কাছে উন্নয়ন, চাকরির সুযোগ, শিক্ষার প্রসার এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩)
শ্যামল দীর্ঘদিন প্রযুক্তি ও উন্নয়ন সংক্রান্ত কাজে অভিজ্ঞ। তিনি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং ডিজিটাল উন্নয়নে অংশ নিচ্ছেন। যুব ও কৃষিজীবীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং সুযোগ সৃষ্টি বাড়াতে তিনি কাজ করছেন। শ্যামল ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলের সমাজ ও উন্নয়ন ক্ষেত্রের সঙ্গে পরিচিত এবং স্থানীয় জনজীবনের সমস্যাগুলো সমাধানে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা পালন করছেন।
 
আশরাফ উদ্দিন বকুল (নরসিংদী-৫)
আশরাফ উদ্দিন বকুল স্থানীয় মানুষের অধিকার, অবকাঠামো উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। তিনি মাঠ পর্যায়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে তাদের সমস্যাগুলো শোনেন এবং সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। যুব, কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগসূত্র তৈরি করে তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রমে সমর্থন দেন। তিনি শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন এবং রায়পুরা এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, পরিবেশ সচেতনতা, নিরাপদ পানীয় পানি প্রকল্প এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে নিয়োজিত।

শামা ওবায়েদ (ফরিদপুর-২)
শামা ওবায়েদ দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিযাত্রায় দলীয় কাঠামো শক্ত করার পাশাপাশি স্থানীয় স্তরে সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও যুব উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতি জোর দেন। স্থানীয় জনসমর্থনের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় সভা, পথসভা এবং কমিউনিটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে গণমানুষের সমস্যা শোনেন এবং সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন। সামাজিকভাবে তিনি স্বল্প আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, পরিবেশ সচেতনতা এবং মানবিক সহায়তায় নিয়মিত কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
 
মইনুল ইসলাম খান শান্ত (মানিকগঞ্জ-২)
শান্ত দীর্ঘ সময় শিক্ষা ও প্রকৌশল ক্ষেত্রে দক্ষতা সঞ্চয় করেছেন এবং তা বাস্তব জীবনের উন্নয়ন কার্যক্রমে কাজে লাগিয়েছেন। তিনি যুব, কৃষক ও শ্রমজীবী সম্প্রদায়ের সমন্বিত উন্নয়ন, শিক্ষা সম্প্রসারণ ও সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে কাজ করছেন। স্থানীয় পর্যায়ে সরাসরি মাঠে নেমে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে মানুষের বাস্তব সমস্যাগুলোর সমাধানে অংশগ্রহণ করেন। তিনি সমাজের দুর্বল শ্রেণীর জন্য সুযোগ সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং স্বচ্ছ প্রশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন।
 
ফাহিম চৌধুরী (শেরপুর-২)
ফাহিম চৌধুরী প্রযুক্তিগত পটভূমি থাকা সত্ত্বেও সমাজ ও রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। তিনি যুব, শ্রমিক এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের উন্নয়নকে মূল লক্ষ্য বানিয়েছেন। স্থানীয় সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবী দলের সঙ্গে কাজ করে গ্রামের যুবসমাজকে ইতিবাচক দিকনির্দেশনা দিতে উৎসাহিত করেন। নারী ক্ষমতায়ন ও দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ তাকে স্থানীয় জনগণের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বচ্ছতা এবং আইনশৃঙ্খলা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন।
 
জামায়াতে ইসলামী 
জামায়াতে ইসলামী এবারও প্রকৌশলী পেশাজীবীদের নির্বাচনী অগ্রভাগে রেখেছে। চট্টগ্রাম-৫ ও নওগাঁ-২ আসনে দলটির মনোনীত প্রার্থীরা ইঞ্জিনিয়ার পরিচয়ে ভোটের মাঠে সক্রিয়। তারা জামায়াতের রাজনৈতিক দর্শন, নৈতিকতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে প্রযুক্তিগত দক্ষতার সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করছেন। পরিকল্পিত উন্নয়ন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে প্রকৌশলীদের ভূমিকা দলের মূল আলোচ্য বিষয়।

ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম (চট্টগ্রাম-৫)
সিরাজুল ইসলাম চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনের জন্য জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী। তিনি প্রযুক্তি ও প্রকৌশল ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। স্থানীয় সমাজসেবামূলক এবং ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত থেকে গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি গ্রামীণ ও নগর এলাকায় জনসভা, পথসভা এবং সেমিনার আয়োজন করে জনমত তৈরি করছেন। স্থানীয় জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সমাধানে সক্রিয় অংশ নিচ্ছেন।

ইঞ্জিনিয়ার মো. এনামুল হক (নওগাঁ-২)
মো. এনামুল হক ইঞ্জিনিয়ারিং পেশায় দক্ষ এবং দীর্ঘকাল সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত। তিনি গ্রামীণ মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন, স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিচ্ছেন। শিক্ষা, সেচ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে তার কার্যক্রম এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি জনগণকে ভোটের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করছেন এবং ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছেন।

এনসিপি 
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রকৌশলী প্রার্থীদের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রযুক্তি, পরিকল্পনা এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার সংমিশ্রণ আনছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপি তাদের পক্ষ থেকে ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদকে ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনে প্রার্থী করেছে। দলের বক্তব্য অনুযায়ী, বাস্তবভিত্তিক উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে প্রকৌশলীদের দক্ষতা সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
 
ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ (ঢাকা-২০)
নাবিলা তাসনিদ একজন প্রশিক্ষিত ইঞ্জিনিয়ার এবং ব্যবসায়িক দক্ষতাসম্পন্ন। তার প্রচারণায় প্রযুক্তি এবং স্থানীয় উন্নয়নকে কেন্দ্রীয়ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ধামরাইয়ের গ্রামীণ ও নগর দুই অঞ্চলের জনগণের সঙ্গে সরাসরি পথে বের হয়ে মতামত সংগ্রহ করছেন। তার “ঝসধৎঃ উযধসৎধর” পরিকল্পনায় ফ্রি ওয়াইফাই, তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ, পরিবেশ‑বন্ধু উদ্যোগ এবং উত্তম পরিষেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, পরিবেশ ও যুব‑নারী উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম প্রস্তাব করেছেন। স্থানীয় জনগণের সমস্যার বাস্তব সমাধান ও পরিষেবা‑ভিত্তিক নেতৃত্বের মাধ্যমে নাবিলা ভোটারদের কাছে আস্থা সৃষ্টি করছেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ 
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও এবারের নির্বাচনে প্রকৌশলী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। ঢাকা-১৬ ও ঢাকা-১৩ আসনে তাদের মনোনীত প্রার্থীরা ইঞ্জিনিয়ার পরিচয়ে ভোট করছেন। নৈতিকতা, সামাজিক ন্যায় এবং পরিকল্পনাভিত্তিক উন্নয়নকে সামনে রেখে দলটি প্রকৌশলীদের নির্বাচনী মাঠে নামাচ্ছে।

ইঞ্জিনিয়ার মো. সাইফুল ইসলাম (ঢাকা-১৬)
মো. সাইফুল ইসলাম ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দল থেকে ঢাকা-১৬ আসনের প্রার্থী। তিনি দলের পক্ষে নির্বাচনি প্রতীক হাতপাখা নিয়ে ভোট করছেন। পেশাগতভাবে প্রকৌশলী হওয়া সত্ত্বেও তিনি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় উন্নয়ন, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার সংরক্ষণে মনোযোগী। নির্বাচনি প্রচারে ধর্ম, শিক্ষা এবং নৈতিকতার ভিত্তিতে সমাজ গঠনে তার উদ্যোগ দৃশ্যমান।
 
ইঞ্জিনিয়ার মুরাদ হোসেন (ঢাকা-১৩)
মুরাদ হোসেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দল থেকে ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর-আদাবর) আসনের প্রার্থী। তিনি দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের জয়েন্ট সেক্রেটারি। পেশাদার প্রকৌশলী  হিসেবে তিনি প্রযুক্তি ও প্রকৌশল-ভিত্তিক দক্ষতা ব্যবহার করে স্থানীয় সমস্যার সমাধানে কাজ করছেন। নির্বাচনি প্রচারে উন্নয়ন, নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং নাগরিক অধিকার সংরক্ষণকে প্রধান অঙ্গ হিসেবে তুলে ধরছেন। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে তিনি জনসংযোগ, মতবিনিময় এবং পথসভা পরিচালনা করছেন।

স্বতন্ত্র

দলীয় রাজনীতির বাইরে থেকেও এবারের নির্বাচনে একাধিক প্রকৌশলী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে রয়েছেন। তারা দলীয় শৃঙ্খলার বাইরে থেকে সরাসরি জনগণের কাছে নিজেদের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরছেন। অবকাঠামো উন্নয়ন, স্থানীয় সমস্যা সমাধান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি তাদের মূল লক্ষ্য।

ইঞ্জিনিয়ার তানভীর উদ্দিন রাজিব (নোয়াখালী-৬)
তানভীর উদ্দিন রাজিব স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে অংশগ্রহণ করছেন। দীর্ঘদিন প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়ন ক্ষেত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি স্থানীয় জনগণের বাস্তব চাহিদা এবং উন্নয়নগত সমস্যা সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ করেছেন। নির্বাচনি প্রচারে জনসভা, মতবিনিময় ও সচেতনতা কর্মসূচি পরিচালনা করে সরাসরি জনগণের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করছেন। উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে প্রযুক্তি এবং স্থায়ী সমাধানের সংমিশ্রণ তার প্রচারণার মূল দিক। যুবদের দক্ষতা উন্নয়ন, নারীর শিক্ষা ও কর্মসংস্থান, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দুর্নীতি বিরোধী কার্যক্রমে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ স্থানীয় পর্যায়ে স্বীকৃত।
 
এএইচ/ক.ম 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর