রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

জিয়াউর রহমানের মতো একই ভুল করতে যাচ্ছেন তারেক রহমান: আসিফ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম

শেয়ার করুন:

জিয়াউর রহমানের মতো একই ভুল করতে যাচ্ছেন তারেক রহমান: আসিফ

আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরানোর চেষ্টা করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার পিতা জিয়াউর রহমানের মতোই একটি ভুল করতে যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন তিনি।


বিজ্ঞাপন


আসিফ মাহমুদ বলেন, গতকালকে রয়টার্সে একটি দলের প্রধানের বক্তব্য দেখলাম, জনগণ যদি চাইতো তাহলে শেখ হাসিনার সন্তানেরা রাজনীতিতে ফিরতে পারে। জনগণ যদি শেখ হাসিনা বা তার সন্তানদের রাজনীতিতে ফেরাতে চেতো, তাহলে একটা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার পতন ঘটাতো না। ১৪০০ মানুষের জীবন দেওয়ার তো তাহলে কোনো কারণ নেই। জনগণ আসলে ১৯৭৫ সালেও বাকশাল চায়নি। একটা সেনা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাকশালের পতন হয়েছিল।

এনসিপির মুখপাত্র আরো বলেন, জিয়াউর রহমানকে আমরা অনেক শ্রদ্ধা করি। তিনি তলাবিহীন ঝুড়ির অবস্থা থেকে বাংলাদেশকে একটা জায়গায় নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু তিনি তার জীবনে একটা ভুল করেছিলেন। তিনি বাকশালের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিবের মেয়েকে বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিলেন। ফলে আমাদেরকে ১৭ বছর গুম, হত্যা এবং সবশেষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাজার হাজার মায়ের বুক খালি হয়েছে।

‘জিয়াউর রহমানের সেই ভুলের খেসারত তার মৃত্যুর পরেও এই জাতিকে তিন যুগ ধরে দিতে হয়েছে। তার পরিবারকেও দিতে হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়াকে স্লো পয়জনিংয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে এবং তিনি পৃথিবী ত্যাগ করে চলে গেছেন।’

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, কোন কোন রাজনৈতিক দল ক্ষমতার লোভে এতটাই অন্ধ হয়ে গেছে যে, কোন কোন নেতা তার মায়ের সঙ্গে কী পরিণতি হয়েছিল আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার ফলে সেটাও ভুলে গেছে। এই জায়গাগুলোতে আমাদের মনে হয় যে বিএনপি একটা গণবিরোধী অবস্থান নির্বাচনের আগে নিয়েছে।


বিজ্ঞাপন


‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাজার হাজার মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে আবারো ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক দল, গণহত্যাকারী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার মতো একই ভুল তারেক রহমান করতে যাচ্ছেন এবং করার কথা পাবলিকলি বলছেন। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এ ধরনের চেষ্টা যদি কেউ করে তাহলে আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিকভাবে সেটার জবাব দেব।’ 

যৌথ বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা কয়েকটি স্থানে অস্ত্র উদ্ধার করেছে। আমরা এটাও শঙ্কা প্রকাশ করছি যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোন কোন রাজনৈতিক দল অস্ত্রের মজুত করছে। এইটা এক ধরনের ভায়োলেন্সের জন্য ব্যবহার হয়। আমরা এক জায়গায় অস্ত্রের প্রকাশ্য মহড়াও হতে দেখেছি। এটা আমাদের জন্য অ্যালার্মিং। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নির্বাচন কমিশনের আরও কঠোর হওয়া উচিত। অস্ত্রের মজুত যদি থাকে সেক্ষেত্রে নির্বাচনের দিনে ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। অনেক জায়গায় নির্বাচন বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হতে পারে। সেক্ষেত্রে আমাদের আহ্বান থাকবে, যৌথবাহিনীর মহড়া এবং অভিযানগুলো আরও গুরুতরভাবে চালানো উচিত।’

ভোটারদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ করে এনসিপির এই নেতা বলেন, অনেক জায়গায় প্রার্থীদেরও বলতে শুনছি, বিভিন্ন পথসভায় বা উঠান বৈঠকে ভোটারদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে এলার্মিং ছোট ছোট অপরাধে জাতীয় নাগরিক পার্টি ও কিছু স্পেসিফিক রাজনৈতিক দল বেশি শোকজ কিংবা জরিমানার শিকার হচ্ছেন। কিন্তু সরাসরি ভোটারদের যারা হুমকি দিচ্ছেন, তাদেরকে নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন পরিচালনার যারা দায়িত্বে আছেন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এটা একদম পরিষ্কার পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে বলে আমাদের মনে হয়।

এসএইচ/এমআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর