বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

গণসংযোগে বিভিন্ন স্থানে নারীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা: মহিলা জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম

শেয়ার করুন:

‘গণসংযোগকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা হয়েছে’

গণসংযোগকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীদের ওপর পরিকল্পিত হামলা, অতর্কিত আক্রমণ এবং হিজাব টেনে খুলে ফেলার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা শাখা। 

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা–৪ আসনের ধোলাইপার পোস্তগোলা ব্রিজের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এ অভিযোগ করা হয়। সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এ সমাবেশ হয়। 


বিজ্ঞাপন


প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সেক্রেটারি ও মহিলা বিভাগের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নেত্রী আয়েশা সিদ্দীকা পারভীন বলেন, গণসংযোগকালে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নারীদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। অনেক নারী আহত হয়েছেন, কোথাও কোথাও নারীদের হিজাব টেনে খুলে অপমান করা হয়েছে। এর প্রতিবাদেই আজ নারী সমাজ রাজপথে নেমেছে। 

IMG-20260204-WA0012
 
আয়েশা সিদ্দীকা পারভীন বলেন, যারা নারীদের দুর্বল মনে করে তারা মারাত্মক ভুল করছে। জামায়াতে ইসলামের নারীরা কখনোই দুর্বল নয়। বিগত ১৭ বছর ধরে আমরা কখনো গুপ্ত সংগঠন হিসেবে কাজ করিনি। বরং সবসময় প্রকাশ্যেই সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। যারা আজ গুপ্ত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত, তারাই প্রকৃত অর্থে গুপ্ত শক্তি।

জামায়াতের এই নেত্রী বলেন, নারী সেই শক্তি, যে যুগে যুগে পৃথিবীকে ধারণ করে রেখেছে। অথচ আমাদের একটি তথাকথিত বন্ধু সংগঠন নারীদের নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন মন্তব্য করছে, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। নারীদের সম্মান তো দূরের কথা, তারা নোংরা মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, তারা যেন জামায়াতে ইসলামীর নারীদের দুর্বল ভেবে  ভুল না করেন।

আয়েশা সিদ্দীকা বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শুধু বাংলাদেশের নেতা নন, তিনি আন্তর্জাতিক পরিসরেও একজন পরিচিত নেতা। একটি চক্র তাকে নিয়ে নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে। তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি আইডি হ্যাক করে কিছু নারীকে ব্যবহার করে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছে। বিষয়টি এতটাই হাস্যকর যে, যেসব নারীকে সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে, তারাই জানে না কেন তারা সেখানে এসেছে কিংবা কেন তাদের হাতে ঝাড়ু তুলে দেওয়া হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক।


বিজ্ঞাপন


আয়েশা সিদ্দীকা পারভীন বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি গঠনমূলক ও প্রোডাক্টিভ সংগঠন। এই সংগঠন শুধু মানুষ নিয়ে রাজনীতি করে না, বরং মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে কাজ করে। বিগত ২০ বছর ধরে আমরা কখনো আত্মগোপনে যাইনি। জুলাই বিপ্লব ও জুলাই আন্দোলনে আপনারা দেখেছেন, আমাদের সর্বশক্তি নিয়ে আমরা রাজপথে নেমেছি। আমাদের হাজার হাজার সন্তান বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে বাংলাদেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করেছে। তিনি বলেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, একটি বিশেষ দল তাদের পরাজয়ের গন্ধ পাচ্ছে। সেই গন্ধ পাওয়ার পর তারা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে এবং আবোলতাবোল বক্তব্য ও কুৎসা রটানোর আশ্রয় নিচ্ছে।

মিডিয়ার ভূমিকা প্রসঙ্গে আয়েশা সিদ্দীকা বলেন, আমাদের কোনো ছোটখাটো ভুল বা যাচাই-বাছাই ছাড়াই যেভাবে সংবাদ প্রচার করা হয়, অথচ অন্যদের বড় বড় অপরাধ আড়াল করা হয়, তা দুঃখজনক। তিনি সাংবাদিকদের প্রতি বিনয়ের সঙ্গে আহ্বান জানান, যেন তারা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করেন। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর বাংলার মানুষ আর ভয় পায় না। হাদি হত্যার পর মানুষ নতুন করে রাজপথে নেমে এসেছে এবং বিপ্লব ও স্বাধীনতার ডাক দিয়েছে। হাদিকে হত্যা করে বাংলার জমিনে ইসলামী আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।

জামায়াত নেত্রী বলেন, আমাদের তথাকথিত বন্ধু সংগঠন প্রায়ই প্রশ্ন তোলে জামায়াতের নারীরা কোথায়। তারা জানেন না, জামায়াতের নারীরা যদি রাস্তায় নামে, তাহলে তাদের পালিয়ে যেতে বাধ্য হতে হবে। জুলাই আন্দোলনে আপনারা দেখেছেন, যেখানে একজন বোন ছিল সেখানে একজন ভাই ছিল, যেখানে একজন স্ত্রী ছিল সেখানে তার স্বামী ছিল, সন্তানের সঙ্গে মা রাজপথে নেমেছে। এটাই জামায়াতের পারিবারিক ও সাংগঠনিক শক্তির পরিচয়।

প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত নেত্রী বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন উপলক্ষে মা-বোনদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সাধারণ ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সেই নিশ্চয়তা প্রশাসনকে দিতে হবে। বাংলাদেশকে আগামী দিনে এগিয়ে নিতে জামায়াতে ইসলামী ব্যাপক ও সুপরিকল্পিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। জামায়াত জনসমস্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে চায়। আগামী ১২ তারিখে ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে জনগণ তাদের যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নেবে এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে সেই বিপ্লব বাস্তবায়ন করবে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন— কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগীয় সম্পাদিকা ডা. শিরিন আক্তার রুনা, তথ্য প্রযুক্তি বিভাগীয় সম্পাদিকা ও মতিঝিল জোন পরিচালিকা তানহা আজমী, অফিস সম্পাদিকা সেলিনা পারভীন এবং পল্টন জোন পরিচালিকা জান্নাত আরা শেলী প্রমুখ।

এএইচ/ক.ম 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর