বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট (সাবেক টুইটার) হ্যাক করে নারীদের নিয়ে কটূক্তিমূলক পোস্ট করা হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সারাদেশে নারীদের মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এমন ঘটনায় ডিবি পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ শুরু করে।
এ ঘটনায় রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমিরের এক্স হ্যান্ডেল হ্যাক হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন জামায়াতের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইটি) সেলের দুই সদস্য প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম ও প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান। এ সময় জামায়াতের আমিরের এক্স হ্যান্ডেল কীভাবে হ্যাক হয়েছে, তা দেখান প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, "সরকারি মেইল ব্যবহার করে জামায়াতের আমীরের এক্স আইডি হ্যাক করা হয়েছে। কেউ [email protected] সরকারি এই মেইল ব্যবহার করে জামায়াতের মেইলে একটি ফাইল পাঠিয়েছে। যেখানে নির্বাচনসংক্রান্ত তথ্য আছে বলে একটি ফাইল সংযুক্ত করে মেইলটি পাঠানো হয়। যাঁর মেইল থেকে এসেছে, তাঁর নাম ছরওয়ারে আলম, তিনি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে কাজ করেন।"
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে জামায়াতের আমিরের এক্স হ্যান্ডেল অ্যাকাউন্ট থেকে ইংরেজিতে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্টের একটি অংশে লেখা হয়, ‘আমরা বিশ্বাস করি, যখন নারীদের আধুনিকতার নামে ঘর থেকে বের করা হয়, তখন তারা শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় এবং নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হন। এটি অন্য কিছু নয় বরং পতিতাবৃত্তির অন্য একটি রূপ।
এদিকে, এ ঘটনার পর মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনস অডিটোরিয়ামের পূর্ব পাশের সরকারি কোয়ার্টার থেকে ছরওয়ারে আলমকে আটক করা হয়। তাঁর মুঠোফোন ও ল্যাপটপ জব্দ মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ডিএমপির ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় ছরওয়ারে আলম নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
একেএস/এমআই

