নির্বাচনে কোনো ধরনের ভোট ডাকাতি বা ষড়যন্ত্রের চেষ্টা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেন, দীর্ঘ সতেরো বছর ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত জনগণ এবার ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে রায় দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা-১৫ আসনের ইব্রাহিমপুর বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষে গণসংযোগ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, গণসংযোগকালে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। ডা. শফিকুর রহমান আজ কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেতা নন, বরং ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাজনীতির প্রতীক হিসেবে তিনি সারাদেশে একটি আইকনিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সৎ, ত্যাগী ও আদর্শবান মানুষ। দীর্ঘদিন কারাবরণ, নির্যাতন ও জুলুমের শিকার হলেও তিনি কখনো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি কিংবা আত্মগোপনে যাননি; বরং জনগণের সঙ্গে থেকেই সব পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন।
শিবিরের সভাপতি বলেন, ডা. শফিকুর রহমানের প্রতি যে গণআস্থা তৈরি হয়েছে, তার প্রতিফলন ইনশাআল্লাহ এই নির্বাচনে দেখা যাবে। তবে নির্বাচনী প্রচারণাকালে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের ওপর বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালানো হয়েছে। এসব বিষয়ে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি- এটা উদ্বেগের বিষয়।
নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে যারা সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের দায়িত্ব। তারা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। কিন্তু দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নিয়মতান্ত্রিক ও আইনগত পথে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
শিবির সভাপতি অভিযোগ করেন, নির্বাচন বিধিমালায় অযোগ্য ঘোষিত ব্যক্তিদের নানা কৌশলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। যেসব ব্যক্তি ব্যাংক খাত থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ লোপাটের সঙ্গে জড়িত, তাদের বৈধতা দিলে ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতি আরও ঝুঁকিতে পড়বে। প্রায় ছাব্বিশ হাজার কোটি টাকা লোপাটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা আবার ক্ষমতায় গেলে দেশের ব্যাংকিং খাত ধ্বংসের মুখে পড়বে।
বিজ্ঞাপন
নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, প্রশাসন ও বিচার ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে জনগণের রায় পাল্টানোর ষড়যন্ত্র চলছে। ভোট জালিয়াতি, ভোটকেন্দ্র দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
অস্ত্র উদ্ধারে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি।
শিবিরের সভাপতি বলেন, জনগণ এখন সচেতন ও জেগে উঠেছে। জুলাইয়ের গণআন্দোলনের বাস্তবতা যারা বুঝতে পারেনি, তারা আবারও একই পথে হাঁটছে। যদি কেউ ভোট ডাকাতির চিন্তা করে, জনগণই তার উপযুক্ত জবাব দেবে। দীর্ঘ সতেরো বছর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারা জনগণ এবার ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে রায় দিতে প্রস্তুত। ইনশাআল্লাহ, বারো ফেব্রুয়ারি জনগণের রায়ে ইনসাফের প্রতীক বিজয়ী হবে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার পথে নতুন সূচনা হবে।
এএইচ/এমআর

