রোববার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের প্রমাণ দেখানো হলো প্রজেক্টরে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম

শেয়ার করুন:

জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকিংয়ের প্রমাণ দেখানো হলো প্রজেক্টরে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত বিতর্কিত পোস্টটি একটি পরিকল্পিত সাইবার হ্যাকিংয়ের ফল-দাবি করে এর বিস্তারিত টাইমলাইন, ই-মেইল নোটিফিকেশন ও ফরেনসিক তথ্য উপস্থাপন করেছে দলটি।

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এসব তথ্য জানান। এ সময় প্রজেক্টরের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সামনে সংশ্লিষ্ট স্ক্রিনশট, ভিডিও ফুটেজ ও ডাটা দেখানো হয়।


বিজ্ঞাপন


সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিতর্কিত পোস্টটি প্রকাশিত হয় ৩১ জানুয়ারি বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে। ওই সময় জামায়াত আমির ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জের কোনাখোলা এলাকায় একটি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন। বিষয়টির প্রমাণ হিসেবে একই সময়কার ভিডিও ফুটেজ ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

জামায়াত জানায়, পোস্টটি নজরে আসার পরপরই অ্যাকাউন্ট সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিকেল ৫টা ৯ মিনিটে এক্স কর্তৃপক্ষ থেকে ‘Your password has been changed’ শিরোনামে একটি ই-মেইল আমিরে জামায়াতের অফিসিয়াল ই-মেইলে আসে। টাইম জোনের কারণে সময়ের পার্থক্য দেখা গেলেও স্ক্রিনশট ও ডাটার ভিত্তিতে এটি বিকেল ৫টা ৯ মিনিটেই পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের নোটিফিকেশন ছিল বলে দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, শুধু পাসওয়ার্ড পরিবর্তন নয়—আগের সব সেশন লগআউট করে নতুন সেশন জেনারেটের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টটি পুনরুদ্ধার করা হয়। এরপর বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে জামায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় যে অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছিল এবং তা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।

জামায়াত নেতারা বলেন, এটি যদি নিজস্ব বা ভুলবশত দেওয়া কোনো পোস্ট হতো, তাহলে ই-মেইল রিকভারি, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন কিংবা ফরেনসিক ডাটা দেখানোর প্রয়োজন পড়ত না। এ সময় সাংবাদিকদের সামনে সরাসরি আমিরে জামায়াতের ই-মেইল ইনবক্স দেখানো হয়, যেখানে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন, লগইন লোকেশন, নতুন আইপি অ্যাড্রেস ও সেশন পরিবর্তনের তথ্য রয়েছে।


বিজ্ঞাপন


সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, একই ধরনের একটি পোস্ট একই দিন বিকেল ৪টা ৫৩ মিনিটে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকেও প্রকাশিত হয়। সময় ও বিষয়বস্তুর মিল দেখিয়ে এটিকে সংঘবদ্ধ সাইবার আক্রমণের অংশ বলে দাবি করা হয়।

জামায়াত জানায়, গত এক মাসে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা এবং একাধিক নেতার সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্টে ধারাবাহিকভাবে সাইবার আক্রমণের চেষ্টা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেনের অ্যাকাউন্টেও অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সাইবার আক্রমণের একটি পদ্ধতির কথাও তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, ‘Case Study BGI Election’ বা অনুরূপ শিরোনামে সরকারি বা অফিসিয়াল ই-মেইলের আদলে ভুয়া ই-মেইল পাঠানো হয়, যেখানে ‘অত্যন্ত জরুরি’ উল্লেখ করে এক্সেস ফাইল বা অ্যাটাচমেন্ট যুক্ত থাকে। এসব ফাইলের মাধ্যমে ম্যাক্রো, ডাটাবেজ বা ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ ধরনের ই-মেইল ১০ জানুয়ারিসহ একাধিকবার পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

জামায়াত জানায়, ফরেনসিক পরীক্ষায় এসব ফাইলকে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট সাইবার সিকিউরিটি কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন ছড়ানো হচ্ছে। যাচাই ছাড়াই কয়েকটি গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

নারীদের বিষয়ে জামায়াত জানায়, নির্বাচনী প্রচারণায় নারীদের ভোট চাইতে গেলে কোথাও কোথাও হামলা, বোরকা খুলে দেওয়া ও অশালীন ভাষা ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি ‘৪০ লাখ বোরকা’ সংক্রান্ত বক্তব্য দিয়ে নারীদের ভোটাধিকার থেকে নিরুৎসাহিত করার অপচেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, বিতর্কিত পোস্টের মাত্র দুই ঘণ্টা আগেই আমিরে জামায়াত নারীদের উচ্চশিক্ষা ও অগ্রগতির পক্ষে একটি ইতিবাচক পোস্ট দিয়েছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ অংশে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত বলে, আসন্ন নির্বাচন যেন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে অনুষ্ঠিত হয়। গুজব, অপপ্রচার ও সাইবার আক্রমণের মাধ্যমে নির্বাচনী পরিবেশ যাতে নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও সংশ্লিষ্ট সব ডাটা, স্ক্রিনশট ও ফরেনসিক রিপোর্ট উপস্থাপন করার কথা জানায় দলটি।

টিএই/এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর