জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা বছরের পর বছর কারাবরণ করেছেন, গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তবু কখনো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি বরং জনগণের পাশে ছিলেন বলে মন্তব্য দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর গ্রিন রোড সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার মাঠে ঢাকা-১০ আসন জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
শফিকুর রহমান বলেন, ‘যারা বছরের পর বছর দেশের বাইরে ছিল, তারাই এখন আমাদের গুপ্ত ও সুপ্ত বলছে। অথচ গত ১৭ বছরে দেশের মানুষ তাদের কোথাও দেখেনি। আমরা কারাগারে ছিলাম, নির্যাতনের শিকার হয়েছি। কারাগারে থাকলে যদি কেউ গুপ্ত হয়, তবে আমরা গুপ্ত—কিন্তু দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাইনি।’
মীর কাসেম আলীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘বিদেশে থাকার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি দেশে ফিরে এসেছিলেন এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসির মঞ্চে গিয়েছেন, তবুও দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি কিংবা আধিপত্যবাদের সঙ্গে আপস করেননি।’
আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ‘২০০৯ সালের পর থেকে দেশে বিচার-বহির্ভূত হত্যা, গুম ও নির্যাতনের মাধ্যমে একটি ভয়ংকর দমন-পীড়নের রাজনীতি কায়েম করা হয়।’
বিজ্ঞাপন
তিনি পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং জামায়াত নেতাদের বিচারকে ‘বিচারের নামে অবিচার’ হিসেবে আখ্যা দেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা ক্ষমতার প্রতিশোধে বিশ্বাস করি না। তবে কেউ বিচার চাইলে তাকে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। আমরা চাঁদাবাজি, দখলবাজি কিংবা মামলা-বাণিজ্য করিনি। বরং আমাদের কর্মীদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে বলেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমি জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, আমি ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। মানুষের দুঃখ-কষ্ট জানতেই আমি ভোট চাইতে এসেছি।’ মা-বোনদের ওপর সহিংসতার অভিযোগ তুলে তিনি এসব ঘটনার জন্য দোষীদের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হুঁশিয়ারি দেন।
জামায়াত ক্ষমতায় এলে মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘যুব সমাজকে দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সুপরিকল্পিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
পাশাপাশি চামড়া শিল্প ধ্বংসের জন্য দায়ীদের সমালোচনা করে জানান, ভবিষ্যতে এই শিল্পকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মানের উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. জসীম উদ্দীন সরকার বলেন, ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা ঈমানের দাবি।’ তিনি এলাকাবাসীর বিদ্যমান সমস্যা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের আশ্বাস দেন।
জনসভায় আরও বক্তব্য দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা।
সভায় কেন্দ্রীয় ও মহানগরী নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীলরা এবং বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
টিএই/এএইচ

