বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

চট্টগ্রামে তারেক রহমান, প্রস্তুত পলোগ্রাউন্ড মাঠ

ইব্রাহিম খলিল, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম

শেয়ার করুন:

চট্টগ্রামে তারেক রহমান, প্রস্তুত পলোগ্রাউন্ড মাঠ
চট্টগ্রামে পৌঁছার পর তারেক রহমানকে একনজর দেখতে নেতাকর্মীদের বিপুল সমাগম। ছবি: সংগৃহীত

* স্বাগত মিছিল আর পুষ্পমাল্যে নেতাকে বরণ
* কঠোর নিরাপত্তায় সিএমপি
* জনসভায় ১০ লাখ লোকের সমাগমের আশা

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে ঢাকা থেকে বিমানযোগে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করেন তিনি। এ সময় স্বাগত মিছিল আর পুষ্পমাল্যে নেতাকে বরণ করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। 


বিজ্ঞাপন


শনিবার রাতে এ তথ্য জানিয়েছেন দলটির চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত আজম খাজা। তিনি বলেন, দলীয় প্রধান হিসেবে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সফরে এসে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিমানযোগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করেন তিনি। 

নেতাকর্মীরা এ সময় বিমান বন্দরে স্বাগত মিছিল আর পুষ্পমাল্য দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। চট্টগ্রামেই রাত যাপন করবেন তিনি। রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি হোটেল রেডিসন ব্লু বেতে তরুণদের সঙ্গে পলিসি ডায়ালগ' শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় যোগ দেবেন। 

এরপর চট্টগ্রামের পুরাতন সার্কিট হাউজে অবস্থিত জিয়া স্মৃতি যাদুঘর পরিদর্শন করতে পারেন তারেক রহমান। এরপর বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম মহানগরীর ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি আয়োজিত স্মরণকালের জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান।  

618797758_1357675946399329_6141294201014675101_n
চট্টগ্রামে পৌঁছার পর তারেক রহমানকে একনজর দেখতে নেতাকর্মীদের বিপুল সমাগম। ছবি: সংগৃহীত 

 

এছাড়া নেতার আগমণকে স্বাগত জানিয়ে পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এর আগে চট্টগ্রামের প্রবেশ পথ মিরসরাইয়ে স্বাগত জানিয়ে একটি মিছিল করা হয়। মিছিলটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও মিরসরাই উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। 

পরে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আমিন।  

সমাবেশে নুরুল আমিন বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর ৭ মাস পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চট্টগ্রামে আগমন এ অঞ্চলের গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এই সমাবেশ প্রমাণ করবে চট্টগ্রাম আজও বিএনপির ঘাঁটি। জনগণের অধিকার ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারে তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ।

বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, তারেক রহমানের আগমনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রচার-প্রচারণায় গতি পাবে। সমাবেশ থেকে তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে দলের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে কাজ করার নির্দেশনা দিতে পারেন। বিএনপির আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে ধানের শীষের জন্য ভোট চাইবেন সাধারণ মানুষের কাছেও। দীর্ঘদিন পর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি উপস্থিতিতে আয়োজিত এই কর্মসূচি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এখানে শুধু বিএনপির নেতাকর্মী নয়, সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে জনসভায় অংশ নেবেন। জনসভায় অন্তত ১০ লাখ মানুষের সমাগম হবে। দীর্ঘদিন পর তারেক রহমান চট্টগ্রামে আসায় সাধারণ মানুষের মাঝে আলাদা আবেগের জন্ম দিয়েছে। 

Tareq_rahman-24.01_(1)
জনসভায় অন্তত ১০ লাখ মানুষের সমাগমের লক্ষ্য রেখে পলোগ্রাউন্ড মাঠকে বিশেষ ব্যবস্থায় সাজানো হয়েছে

 

প্রস্তুত পলোগ্রাউন্ড মাঠ
জনসভায় অন্তত ১০ লাখ মানুষের সমাগমের লক্ষ্য রেখে পলোগ্রাউন্ড মাঠকে বিশেষ ব্যবস্থায় সাজানো হয়েছে। তৈরী হয়েছে মঞ্চ। ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬০ ফুট প্রশস্ত এই মঞ্চে অন্তত ৩০০ সিনিয়র নেতার বসার সুযোগ হবে।

ভেন্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, শুক্রবার থেকে বিএনপির নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী 'চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স' (সিএসএফ) পলোগ্রাউন্ড মাঠ ব্যবস্থাপনা ও মঞ্চ তৈরীতে কাজ শুরু করে। 

দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সার্বিক নির্দেশনায় পলোগ্রাউন্ড মাঠ প্রস্তুত, মঞ্চ নির্মাণ, দর্শক ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা রক্ষার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।  মঞ্চের ঠিক সামনে নিরাপত্তারক্ষীদের জন্য জায়গা রেখে এরপর নারী ও গণমাধ্যমকর্মীদের বসার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। 

আগত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, যাতায়াত ও স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জনসভার জন্য পলোগ্রাউন্ড মাঠে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন জনসভায় নেতাকে দেখার জন্য উম্মুখ হয়ে আছেন চট্টগ্রামের আপামর জনসধারণ।   

Tareq_rahman-24.01_(4)
জনসভায় অন্তত ১০ লাখ মানুষের সমাগমের লক্ষ্য রেখে পলোগ্রাউন্ড মাঠকে বিশেষ ব্যবস্থায় সাজানো হয়েছে

 

কঠোর নিরাপত্তায় সিএমপি
তারেক রহমানের নিরাপত্তায় চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) সকল ধরণের অস্ত্র বহন ও অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। 

শুক্রবার দিনগত রাতে এক গণবিজ্ঞপ্তিতে সিএমপি জানায়, বিএনপির জনসমাবেশকে কেন্দ্র করে আগামী ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় সকল প্রকার অস্ত্র বহন ও অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। 

জনসমাবেশ এলাকায় ড্রোন নিবন্ধন ও উড্ডয়ন নীতিমালা-২০২০-এর ৯ ও ১৩ ধারার আলোকে অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন স¤পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। এছাড়া চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৮-এর ২৯ ধারার ক্ষমতাবলে কোনো ব্যক্তি অস্ত্রশস্ত্র, তলোয়ার, বর্শা, বন্দুক, ছোরা, লাঠি, বিস্ফোরক দ্রব্য, ইট-পাথরসহ যেকোনো ধরনের ক্ষতিকর বস্তু বহন বা ব্যবহার করতে পারবেন না। 

একই সঙ্গে রাষ্ট্রের নিরাপত্তাবিরোধী কোনো কিছু প্রদর্শন, প্ল্যাকার্ড বা অনুরূপ সামগ্রী বহনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।  আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জনসমাবেশ উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় জনশৃঙ্খলা, শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ। 

Tareq_rahman-24.01_(3)
তারেক রহমান (ফাইল ছবি)

 

ফিরে দেখা 
দলীয় সূত্র জানায়, দলীয় প্রধান হিসেবে সর্বশেষ ২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে ভাষণ দিয়েছিলেন বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এরপর কারাবরণ, দীর্ঘ অসুস্থতা এবং সরকারি নানা বিধিনিষেধের কারণে তিনি আর চট্টগ্রাম সফর করতে পারেননি। প্রায় ১৪ বছর পর সেই একই মাঠে দলীয় প্রধান হিসেবে এবার ভাষণ দেবেন খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি ও সন্তান তারেক রহমান।

এর আগে ২০০৫ সালের ৬ মে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে সর্বশেষ চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন তারেক রহমান। তখন তিনি বিএনপির তৎকালীন মেয়র প্রার্থী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেন। বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। ফলে দলীয় প্রধান হিসেবে এটিই হবে প্রথমবারে মতো তাঁর চট্টগ্রাম সফর।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক স¤পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, 'চট্টগ্রাম নগর, দক্ষিণ ও উত্তর জেলা, তিন পার্বত্য জেলা এবং কক্সবাজার থেকে দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ সমাবেশে যোগ দেবেন। সমাবেশে গণ মানুষকে স¤পৃক্ত করা হবে। সিলেট-হবিগঞ্জের মতো সাধারণ মানুষ যোগ দেবেন সমাবেশে। অতীতের সকল জনসমাগমের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছি।'

তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর দলীয় প্রধানের এই সফরকে কেন্দ্র করে বন্দরনগরীসহ পুরো চট্টগ্রামে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠন ছাড়াও বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীরা ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা করছেন। বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ট্রাকে করে সমাবেশ নিয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। স্বাগত মিছিল ও সমাবেশ করা হচ্ছে। পাড়া-মহল্লায় গানের মাধ্যমে র্ব্যান্ডিং করা হচ্ছে। তরুণ, যুবকদের স¤পৃক্ত করতে কাজ চলছে। দলীয় নেতা-কর্মীর বাইরেও তরুণ-যুবকরা এতে অংশ নেবেন। তারা তারেক রহমানের বক্তব্য শুনতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

যোগ দিবেন আরও চার জেলার কর্মসূচিতে
পলোগ্রাউন্ডের সমাবেশ শেষে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কপথে যাত্রা করবেন তারেক রহমান। কারণ রবিবার বিকেল ৪টায় ফেনী পাইলট স্কুল মাঠে, সাড়ে ৫টায় কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠ, সন্ধ্যা ৭টায় কুমিল্লা সোয়াগাজী হাইস্কুল মাঠ, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কুমিল্লা দাউদকান্দি উপজেলার কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ মাঠ, রাতে সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জ জেলার কাঁচপুর বালুরমাঠে নির্বাচনী সমাবেশে যোগদান করবেন। এরপর রাত ২টায় গুলশানস্থ বাসভবনে প্রত্যাবর্তন করবেন। 

প্রতিনিধি/ক.ম/ 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর