ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। প্রতীক বরাদ্দের পরদিন বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকেই মাঠে নেমেছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা। উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনী এলাকায় ছুটে গিয়ে ভোটারদের কাছে ভোট চাইছেন তারা। পাশাপাশি দিচ্ছেন উন্নয়ন ও পরিবর্তনের নানা প্রতিশ্রুতি।
সিলেটে শ্বশুরবাড়ি থেকে ধানের শীষে ভোট চেয়ে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে স্ত্রী জুবাইদা রহমানের পৈতৃক বাড়ি বিরাইমপুরে পৌঁছার পর উপস্থিত লোকজনের কাছে ধানের শীষে ভোট চান তিনি।
বিজ্ঞাপন
এ সময় তারেক রহমান বলেন, ‘শাহজালাল এবং শাহপরাণের মাজার জিয়ারত শেষে ১২ ফ্রেব্রুয়ারি যে নির্বাচন হবে সেই নির্বাচনের কার্যক্রম দলের পক্ষে এখান থেকেই শুরু করলাম। আপনাদের সবার কাছে দোয়া চাই, আল্লাহ যেন আমাদের ওপর রহমত কায়েম করেন।’
দেশের মানুষের কাছে দেওয়া বিএনপির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান তারেক রহমান। নারী, কৃষি, আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের সমর্থন চান তিনি। জনগণের ভোটে ধানের শীষ জয়যুক্ত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দেবেন তারেক রহমান।
বিএনপি ছাড়াও জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দলের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরাও প্রচারণা শুরু করেছেন। তাদের এমন প্রচারণায় অন্যরকম নির্বাচনী আবহ সৃষ্টি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এর আগে গতকাল বুধবার ২৯৮টি নির্বাচনী এলাকায় ১ হাজার ৯৭৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়। সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সারাদেশে রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রতীক বরাদ্দ করেন।
প্রতীক হাতে পাওয়ার পরপরই শুরু হয় আনন্দমিছিল ও স্লোগান। কাঙিক্ষত প্রতীক পাওয়ার পর অনেক প্রার্থীই সরাসরি চলে যান নিজ নির্বাচনি এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, সারাদেশে মোট ১ হাজার ৯৭৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘প্রতীক বরাদ্দের পর রিটার্নিং কর্মকর্তারা কোন আসনে কতজন প্রার্থী, তা নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) জানাবেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তালিকা সংক্রান্ত ফরম-৫ পূরণ করে পাঠাবেন। সেই আলোকে ব্যালট পেপার ছাপানো হবে।’ বৃহস্পতিবার থেকে ব্যালট পেপার ছাপানোর কাজ শুরু হতে পারে বলেও জানান তিনি।
রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, প্রতীক বরাদ্দ হওয়ায় আগামীকাল ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু করতে পারবেন।
নির্বাচনী প্রচারণার সময়
এ বিষয়ে ইসির রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এ বলা হয়েছে, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা তৎকর্তৃক মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাহাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের ৩ (তিন) সপ্তাহ সময়ের পূর্বে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে পারবেন না এবং ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পূর্ববর্তী ৪৮ (আটচল্লিশ) ঘণ্টা পূর্বে নির্বাচনী প্রচারণা সমাপ্ত করবেন।
ইসি’র কর্মকর্তারা জানান, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলে ২৯৮ আসনে (পাবনা-১ ও ২ বাদে) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ১ হাজার ৯৭৩ জন প্রার্থী। নির্বাচনে ৩০০ আসনে ২ হাজার ৫৮০টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ১ হাজার ৮৫৫ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ছিল এবং ৭২৫ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে ৬৪৫ জন আপিল করেন এবং আপিল শুনানি শেষে প্রার্থিতা ফেরত পান ৪৩৭ জন। মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়ে সারাদেশে মোট ৩০৫ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।
তফসিল অনুযায়ী, আজ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে এবং ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পূর্ব পর্যন্ত এই প্রচারণা চালানো যাবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ হবে। ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হবে।
এর আগে, গত ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল ২৯ ডিসেম্বর।
এমআর

