জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘেরাও কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজের সঙ্গে আলোচনা শেষে তিনি এ তথ্য জানান। বৈঠকে সভাপতির সঙ্গে ছিলেন সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাসির।
বিজ্ঞাপন
রাকিবুল ইসলাম বলেন, “ইসির অনুরোধে আমরা আমাদের কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছি। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে পরামর্শ করে আবার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
তিনি বলেন, আবারও কোনো গোষ্ঠী অপকৌশল ব্যবহার করে ইসির উপর চাপ সৃষ্টি করলে আমরা এর উপযুক্ত জবাব দেব।
আরও পড়ুন: শাকসু নির্বাচন হাইকোর্টে স্থগিত
তিনি বলেন, ছাত্রদল প্রমাণ করেছে, দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে তারা আপসহীন। গতকাল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একটি প্রতিনিধিদল ইসির সিনিয়র সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আমাদের দাবি মানার বিষয়ে আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে। এবং আজকে ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি আমাদের জানিয়েছেন, দেশের ভিতরে পোস্টাল ব্যালটে যে ব্যালট দেওয়া হবে সেখানে পরিবর্তন আনা হবে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনেরও স্থগিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান বলেন, আর যদি কেউ হট্টগোল সৃষ্টি করে কোনো কিছু আদায় করতে চায়, তাহলে তাদের প্রতিহত করা হবে। ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের গুপ্ত রাজনীতি চর্চা করা চলবে না। ৫ আগস্টের পর একটি পক্ষ দেশের সকল ধরণের নিয়োগ ও পদোন্নতিতে প্রভাব বিস্তার করছে। আমরা অবিলম্বে এসব বন্ধের দাবি জানাই।
গত রোববার থেকে তিন বিষয়ে ইসির সামনে ‘ইসি ঘেরাও কর্মসূচি’ পালন করে ছাত্রদল।
ছাত্রদলের তিনটি ইস্যু হচ্ছে—
১. পোস্টাল ব্যালট–সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে।
২. বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে ইসি, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
৩. বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে ইসি নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত।
এমএইচএইচ/এআর

