বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চলন্ত বুলেটপ্রুফ গাড়িতে মাথায় হেলমেট পড়া দুই যুবক মোটরসাইকেল নিয়ে এসে আঠা দিয়ে একটি খাম লাগিয়ে দিয়ে দ্রুতবেগে চলে যায়। তবে, এ ঘটনাটি প্রকাশ হওয়ার পর তারেক রহমানের নিরাপত্তা শঙ্কা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এই ঘটনার পর স্ব-উদ্যোগে একটি জিডি করে গুলশান থানা পুলিশ। ঘটনার ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও ওই মোটরসাইকেল এবং মোটরসাইকেল আরোহীদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।
তবে, পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনার পর তারেক রহমানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ফোর্স কিংবা বিএনপির পক্ষ থেকে থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ কিংবা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেনি। কিন্তু থানা পুলিশকে বিএনপির পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছিল। এরপর পুলিশ স্ব-উদ্যোগে এ ঘটনায় গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। এ ছাড়াও, এ ঘটনায় মোটরসাইকেল কিংবা মোটরসাইকেল আরোহী কাউকে এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘তারেক রহমানের গাড়িতে লাগানো খাম আমাদের হাতে দেওয়া হয়নি। তবে বিএনপি ও তারেক রহমানের নিরাপত্তায় যারা নিয়োজিত তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খামের ভেতরে কোনো চিরকুট কিংবা চিঠি ছিল না। খামের ভেতর ফাঁকা ছিল। খালি খামটি টেপ দিয়ে লাগানো ছিল। তবে কী উদ্দেশ্যে এমন কাজ করা হয়েছে তা আমরা তদন্ত করে দেখছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। শুধু মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা নিজ উদ্যোগে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। কিন্তু ফুটেজের ভিজ্যুয়াল পরিষ্কার না থাকায় মোটরসাইকেল ও চালককে শনাক্ত করতে পারছি না। তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
এ ঘটনায় একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাত ১১টা ৪০ মিনিট। গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে বাসায় ফিরছিলেন তারেক রহমান। এ সময় সামনে এবং পিছনে কঠোর নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছে। তারেক রহমান তার ব্যবহৃত বুলেটপ্রুফ গাড়িতে চড়ে যাচ্ছেন। এ সময় গাড়িটি ৬৫ নম্বর সড়ক পার হওয়ার সময় পেছন থেকে হেলমেট পরিহিত দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল এসে তারেক রহমানের গাড়ি স্পর্শ করে কিছু একটা লাগিয়ে দ্রুত সরে পড়ে।
এ বিষয়ে তারেক রহমানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা শামসুল ইসলাম এর বক্তব্যের জন্য কয়েক দফায় যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
একেএস/এফএ

