শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে নতুন রাজনৈতিক দল ‘এনপিএ’

প্রকাশিত: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম

শেয়ার করুন:

আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে নতুন রাজনৈতিক দল ‘এনপিএ’
নতুন দল ‘নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশনের (এনপিএ) আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান। ছবি: ঢাকা মেইল

আসন্ন এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো। এমন সময়ে ‘নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ)’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটতে যাচ্ছে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনুষ্ঠানিক এই দলের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সংগঠন স্লোগান ঠিক করা হয়েছে- ‘জনগণের শক্তি, আগামীর মুক্তি’।


বিজ্ঞাপন


উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, পাঁচটি মূলনীতির ভিত্তিতে তাদের দলটি আত্মপ্রকাশ ঘটবে। এই নীতিগুলো হলো– গণতন্ত্র, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও প্রাণ ও প্রকৃতি সুরক্ষা।

নতুন এই দলটির পক্ষ থেকে আহ্বান হবে- ‘জনগণের উদ্যোগে, জনগণপন্থী রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে আসুন ঐক্যবদ্ধ হই’। 

28699
নতুন দল ‘নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশনের (এনপিএ) আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান। ছবি: ঢাকা মেইল

 


বিজ্ঞাপন


শহীদ মিনারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নতুন রাজনৈতিক দলের প্রকাশ উপলক্ষে শহীদ মিনারে আসছে দলটির নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। প্রস্তুত করা হয়ে মঞ্চ। প্যান্ডেলে বসে আছে দলটির নেতাকর্মীরা। তবে এখনও আত্মপ্রকাশের অনুষ্ঠান শুরু করা হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান শাসনকেন্দ্রিক ক্ষমতাকাঠামোয় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ শাসক ও ক্ষমতাসীন শ্রেণির অনুগত থেকে জনগণের ওপর ক্ষমতাচর্চার অংশীদার হয় এবং এই ক্ষমতাকে সম্পদ বানানোর কাজে ব্যবহার করে। ফলে জনগণের রক্ষক ভক্ষকে পরিণত হয়। আমরা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে জনগণের অধিকার সুরক্ষা ও সেবাভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে রূপান্তর করতে চাই। এর জন্যে দরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে সরকার, সরকার প্রধান ও সরকার গঠনকারী দলের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবমুক্ত স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা এবং জনগণের নিকট জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

তারা আরও বলছেন, আইন বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের সম্পূর্ণ ও কার্যকর পৃথকীকরণ চাইবেন। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের জন্য শক্তিশালী, আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং কেন্দ্রের প্রভাব মুক্ত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করবেন।

দলটির উদ্যোক্তারা বলছেন, আমরা বাংলাদেশের লুটপাট, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটকেন্দ্রিক এবং পরনির্ভরশীল অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন চাই। সে জায়গায় আমরা গড়ে তুলতে চাই স্বনির্ভর, আত্মমর্যাদাশীল, উৎপাদনমুখী ও জনকল্যাণমূলক একটি অর্থনীতি। আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জনসম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে কৃষিজ ও বহুমুখী শিল্প উৎপাদনের বিকাশের মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো, কৃষিঋণের সহজলভ্যতা, উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি প্রদান, এবং শিল্পশ্রমিকদের জন্য ন্যায্য ও সম্মানজনক মজুরি কাঠামোসহ নিয়মিত মজুরি ও ভাতা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে চাই। আমরা একটি শক্তিশালী ও নিয়ন্ত্রিত বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই। প্রগতিশীল কর ব্যবস্থা (Progres-sive Tax System) চালুর মাধ্যমে অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস, রাষ্ট্রীয় আয় বৃদ্ধি এবং সেই আয়ের মাধ্যমে জনগণের সেবায় গড়ে তোলা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে সারাদেশজুড়ে প্রতিটা নাগরিকের দোরগোড়ায় পৌছায় দিতে চাই, যা বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও সক্ষম হবে।

তারা জানান, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। বিগত আমলে গ্রহণ করা সর্বগ্রাসী উন্নয়ন প্রকল্প ও মেগা-প্রকল্পগুলোতে দেশের প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ সুরক্ষার প্রয়োজনটি অগ্রাহ্য করা হয়েছে। একদিকে আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি উপেক্ষা করে প্রতিবেশী দেশ কর্তৃক আমাদের নদীগুলোর ওপর বাঁধ, ব্যারাজ ও ড্যাম নির্মাণ এবং পানি প্রত্যাহারের ফলে বহু নদী শুকিয়ে মরেছে; অন্যদিকে দেশীয় নদীখেকো দস্যুদের দৌরাত্ম্যে অসংখ্য নদী-নালা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। খাল-বিল ভরাট ও বনজঙ্গল উজাড় করে অপরিকল্পিত নগরায়ন, পরিবেশ ধ্বংসকারী শিল্পায়ন, মাত্রাতিরিক্ত বায়ুদূষণ, প্লাস্টিক-সীসা বা লেড দূষণ এবং রাজধানী ও শহরমুখী জনস্রোত বাংলাদেশকে ক্রমাগতভাবে অবাসযোগ্য করে তুলছে। আমরা প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এবং প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহারের মাধ্যমে একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।

সংগঠনটি বলছে, বাংলাদেশের জনগণ তাদের মৌলিক, নাগরিক গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। আমরা এমন একটি রাষ্ট্র তৈরীতে অবদান রাখতে চাই, যা প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্মত ও গণতান্ত্রিক শিক্ষা নিশ্চিত। করবে এবং জনগণের সুস্বাস্থ্যের দায়িত্ব নেবে। প্রতিটি পরিবারের কর্মক্ষম সদস্যের কর্মসংস্থান ও সম্মানজনক জীবনধারণের উপযোগী মজুরি নিশ্চিত। করা এবং কর্মবিহীন নাগরিকদের সামাজিক সুরক্ষা বলয়ে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে সকলের অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থান নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ ও শ্রেণি নির্বিশেষে নাগরিক হিসেবে সকলের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবে রাষ্ট্র। রাষ্ট্র জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, যেকোনো জুলুম-নিপীড়নের বিরুদ্ধে নাগরিককে আশ্রয় দেবে ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে, এবং প্রতিটি নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।

এসএইচ/এএম

 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর