আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রতিটি আসনের জন্য আলাদা করে সব প্রতীক সম্বলিত ব্যালট না ছাপিয়ে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার প্রার্থী ও প্রতীকসহ যে সাধারণ ব্যালট ব্যবহার হয়, সেটিই পোস্টাল ব্যালট হিসেবে ব্যবহার করার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। বৈঠকে তার নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, ইসির সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া, বিএনপির আইন সহায়তা উপকমিটির প্রধান ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
বিজ্ঞাপন
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনে এসেছিলাম কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং কিছু আইনি ও আচরণবিধি সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করতে। আজকে আমরা আইনগত কিছু পয়েন্ট এবং আচরণবিধির কিছু বিষয় কমিশনকে বুঝিয়ে দিয়েছি। এ ছাড়া আরও কিছু বিষয়ে আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। এসব বিষয় নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমি মনে করি, এর বেশি কিছু বলার নেই। তারা এসব বিবেচনা করবেন। বৈঠকে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পোস্টাল ব্যালটগুলো প্রবাসীদের জন্য পাঠানো হয়েছে। আমরা আগেও বলেছি, তবে এ বিষয়ে সঠিকভাবে বিবেচনা করা হয়নি। যারা পোস্টাল ব্যালট প্রণয়ন ও প্রেরণের দায়িত্বে ছিলেন, তাদের ব্যাখ্যা দিতে হবে। প্রেরিত ব্যালটগুলো বিভিন্নভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে। এককভাবে কোনো বাড়িতে ২০০–৩০০ ব্যালট পাওয়া যাচ্ছে, কোথাও জব্দ করা হচ্ছে, কোথাও ভোটিং শুরু হয়ে গেছে। যেটা ২২ জানুয়ারি হওয়া উচিত ছিল, সেখানে অনিয়ম ঘটছে। যেহেতু প্রবাসীদের ভোটদানের এই নিয়ম প্রথমবারের মতো কার্যকর হচ্ছে, তাই কিছু ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে। তবে এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রবাসীদের কাছে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে হবে—কীভাবে ব্যালট পাঠানো হয়েছে, ভোট কীভাবে প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং কোথাও একসঙ্গে ২০০-৩০০ ব্যালট থাকলে কী ব্যাখ্যা দেওয়া হবে। এসব বিষয়ের ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কী ব্যবস্থা নেবে, সেটিও দেখার বিষয়।’
আচরণবিধি সংক্রান্ত বিষয়েও তিনি বলেন, ‘ভোটার স্লিপ প্রদানের ক্ষেত্রে আমরা চাই অধিকাংশ ভোটার সহজে ভোট দিতে পারুক। তবে ভোটার স্লিপে কোনো রাজনৈতিক দলের নাম, মার্কা বা প্রার্থীর ছবি থাকা উচিত নয়। এ বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা দরকার। নির্বাচন কমিশন চাইলে এ বিষয়ে পরিবর্তন করতে পারে। প্রত্যেক প্রার্থী ভোটার স্লিপ প্রদান করবে, যাতে ভোটার নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে ভোট কাকে দেবেন। আমাদের লক্ষ্য নির্বাচনের জটিলতা কমানো এবং ভোটার অংশগ্রহণ বাড়ানো।’
বিজ্ঞাপন
বিভিন্ন দলের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনকে পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি। আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সফর স্থগিত করা হয়েছে কমিশনের অনুরোধে এবং এটি রাজনৈতিক সফর ছিল না। কিছু রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য বা ভিডিও প্রকাশিত হলেও কমিশন নির্বিকার রয়েছে। আশা করি তারা বিষয়টি ঠিকভাবে সমাধান করবে।’
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পক্ষপাতিত্ব সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কমিশন ব্যাখ্যা দেবেন।’
পোস্টাল ব্যালট বিষয়ে তিনি বলেন, ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আজকে আপনাদের জানানো উচিত। পোস্টাল ব্যালট দেশের অভ্যন্তরে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হবে। সেজন্য আমরা বলেছি, সমস্ত নির্বাচনি এলাকায় যে কয়জন প্রার্থী থাকবে, তাদের নাম ও মার্কাসহ সাধারণ ব্যালটই সংশ্লিষ্ট এলাকার পোস্টাল ব্যালট হিসেবে ব্যবহার হোক। এ বিষয়ে আমরা স্পষ্ট প্রস্তাব দিয়েছি। সমস্ত মার্কাসহ ব্যালট সব আসনে পাঠানোর প্রয়োজন নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেকটি নির্বাচনি এলাকায় সংশ্লিষ্ট সকল প্রার্থীর নাম ও মার্কাসহ যে সাধারণ ব্যালট ব্যবহার হয়, সেটিই প্রত্যেক এলাকায় পোস্টাল ব্যালট হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব আমরা দিয়েছি। আশা করি নির্বাচন কমিশন এটি গ্রহণ করবে এবং বিবেচনা করবে।’
এমএইচএইচ/এফএ

