জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১১টি দল নিয়ে গঠিত জোটের মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে চরম পর্যায়ের টানাপোড়েন চলছে। আজ বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে এই জোটের আসন সমঝোতার ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে এর মধ্যেই জোটের অন্যতম বড় দল চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বেরিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। দলটি শেষ পর্যন্ত ঘোষণা দিয়ে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করতে পারে বলে জানা গেছে।
বিএনপিবিরোধী বলয়ে গড়ে ওঠা শক্তিশালী এই জোটের মধ্যে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই আসন সমঝোতা নিয়ে চলছে টানাপোড়েন। বারবার ঘোষণা দিয়েও কে কতটি আসনে লড়বে সেটা জানাতে পারেনি এই জোট। গতকাল মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) গভীর রাত পর্যন্তও আসন সমঝোতার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি। আজ আবার দলগুলোর নেতাদের বসার কথা রয়েছে। সেখানে বিষয়টি সুরাহা হলে বিকেলেই ঘোষণা আসতে পারে এই জোটের আসন সমঝোতার।
বিজ্ঞাপন
১১ দলের মধ্যে বেশির ভাগ দলের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত হলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেও সুরাহা করতে পারেনি জামায়াতে ইসলামী। দলটিকে জামায়াত যে কয়টি আসনে ছাড় দিতে চায় এর চেয়ে তাদের চাহিদা অনেক বেশি। কাঙ্ক্ষিত আসন না পেলে ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলন দলের শুরা সদস্য এবং নির্বাচনে প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক করেছে। সেখানে মর্যাদার্পূর্ণ আসন না পেলে জোট থেকে সরে যাওয়ার দাবি জোরালোভাবে উঠেছে। এককভাবে নির্বাচন করার দাবিই জানিয়েছেন বেশির ভাগ নেতা। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হাতপাখা এককভাবে নির্বাচন করবে বলে জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তবে বিষয়টি চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন দলের নেতারা। ইসলামী আন্দোলন আজ তাদের নির্বাহী কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।
আরও পড়ুন
জামায়াত জোটে যোগ দিলো এনসিপি-এলডিপি
জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলন শুরু থেকে শতাধিক আসনে নির্বাচন করতে চেয়েছিল। তবে আলোচনার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে আসনের চাহিদা কমিয়েছে দলটি। সর্বশেষ তাদের দাবি ছিল ৫০টির বেশি আসন। তবে জামায়াত দলটিকে ৪০টি আসন ছাড় দিতে চায়। এটি নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। দলের একটা অংশ মনে করে, ৪০ থেকে ৪৫টি আসনে সমঝোতা হতে পারে। তবে দলের বড় অংশই মনে করে, কাঙ্ক্ষিত আসন না পেলে সমঝোতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। দলটির দাবি, একবাক্স নীতির উদ্ভাবক তারাই। অথচ জামায়াত তাদের সঙ্গে দাদাগিরিসুলভ আচরণ করেছে।
ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, জোটে থাকা এবং না থাকা দুই সম্ভাবনাই আছে তাদের। বিষয়টির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের আমির নেবেন।
এদিকে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র আল রাশেদ প্রধান মঙ্গলবার গভীর রাতে ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের লক্ষ্যে ১১ দলের সমন্বয়ে গঠিত রাজনৈতিক জোটের চূড়ান্ত আসন তালিকা আগামীকাল ঘোষণা করা হবে, ইনশাআল্লাহ।

এদিকে ইসলামী আন্দোলনের পাশাপাশি খেলাফত মজলিসের মধ্যেও রয়েছে হতাশা ও ক্ষোভ। দলটিকে মাত্র ৬/৭টি আসন দিতে চায় জামায়াত। অথচ তাদের দাবি ছিল অন্তত ২০টি আসন। দলটির নেতাদের দাবি, মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সাংগঠনিকভাবে অনেক পিছিয়ে, অথচ তাদের দেওয়া হচ্ছে ১৫টি আসন।
গতকাল খেলাফত মজলিসের নির্বাহী কমিটির বৈঠক হয়েছে। আজ বুধবার বেলা ১১টায় দলের শুরা কাউন্সিলের বৈঠক হবে। সেখান থেকে আসন সমঝোতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শেষ পর্যন্ত খেলাফত মজলিসও জামায়াত জোট ছাড়ার ঘোষণা দিতে পারে বলে জানা গেছে।
আসন সমঝোতার আলোচনায় প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলনকে ৪০টি, জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৫টি, খেলাফত মজলিসকে ৭টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিকে (এলডিপি) ৪ থেকে ৭টি, আমার বাংলাদেশ পার্টিকে (এবি পার্টি) ৩টি ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে (বিডিপি) ২টি আসনে ছাড় দিতে চায় জামায়াত।
জেবি

