কিছু ছেলেপেলে পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া বাঁধাতে চাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তবে তিনি ঝগড়া করতে চান না বলে জানিয়েছেন।
মির্জা আব্বাসের অভিযোগ, ‘কিছু কিছু ছেলেপেলে উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলছেন। কখনো আমার বিরুদ্ধে, কখনো বিএনপির বিরুদ্ধে, আবার কখনো জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে।’
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ‘কয়েকজনের কথা শুনে মনে হয়, নির্বাচন শুধু ঢাকা-৮ আসনে হচ্ছে। মির্জা আব্বাসকে হারাতে পারলে বিএনপিকে হারানো যাবে। সারাদেশে বিএনপিকে হারানো যাবে না ইনশাআল্লাহ, যে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে তা ধরে রাখতে পারলেই হবে।’
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনিস্টিটিউট মিলনায়তনে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনা করে এক দোয়া মাহফিলে মির্জা আব্বাস এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমি একা জিতলেই হবে না। বিএনপিকে জয়লাভ করতে হবে। দেশের মানুষ কতগুলো নোংরা লোক থেকে বাঁচতে চায়। আমার প্রতিপক্ষকে বলব, আপনাদের স্বাগত জানাই। কিন্তু উল্টোপাল্টা কথা বইলেন না। পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া বাঁধাতে চাচ্ছেন। আমি ঝগড়া করব না। প্রয়োজনে বাসায় আসেন চা-বিরিয়ানি খাওয়াবো। দয়া করে দেশটাকে স্থিতিশীল রাখুন। আপনি যদি ভালো থাকেন, ভালো মানুষ হোন, জনগণ আপনাকে ভোট দেবে।’
মির্জা আব্বাস বলেন, ‘রাজনীতিতে আজ অনেক নতুন খেলা শুরু হয়েছে। অনেক ছেলে যুক্ত হয়েছে। তারা বিভিন্নভাবে প্রচার করছে বিএনপি নাকি আওয়ামী লীগকে আশ্রয়-প্রশয় দিচ্ছে। বিএনপির জন্ম হয়েছে জাতীয়তাবাদী ভিত্তির উপরে। জাতীয়তাবাদ ছাড়া অন্য কোনো চিন্তা বিএনপি করে না।’
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ‘বিদেশে আমাদের বন্ধু আছে, প্রভু নেই। আজকে অনেকে বুঝিয়ে দিতে চান দেশে নির্বাচন করতে দেবে না। সচিবালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিভিন্ন জায়গায় পোস্টিং করা হচ্ছে নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে। বিএনপির যারা পোলিং এজেন্ট থাকবেন তাদের বলব, নির্বাচনের দিন কোনোরকম ষড়যন্ত্র বরদাস্ত করবেন না। প্রতিহত করবেন।’
মির্জা আব্বাস তার এলাকার এক প্রার্থীকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘আপনি যদি জনপ্রিয় ব্যক্তি হোন, তাহলে নিজ এলাকায় কেন নির্বাচন করছেন না! অনেকে নিজ এলাকায় ঢুকতে পারেন না। তাই ঢাকা বেছে নেন।’
তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী বলেছিলেন, দেশের বাইরে আমার কোনো জায়গা নেই। মরলে দেশেই মরব। আল্লাহতায়ালা তার ইচ্ছা কবুল করেছেন।’
তার অভিযোগ, ‘প্রয়াত খালেদা জিয়াকে এক কাপড়ে বাড়িছাড়া করা হয়েছিল। বিনা চিকিৎসায় তাকে মৃত্যুর মুখে ধাবিত করা হয়েছে। তবু উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যেতে দেওয়া হয়নি। আজ ভাগ্যের সুপরিহাস, খালেদা জিয়া বীরের মত বিদায় নিয়েছেন। আর শেখ হাসিনার জন্য নির্মম ভাগ্য অপেক্ষা করছে।’
হুঁশিয়ারি তিনি বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা আরও বলেন, ‘যারা আওয়ামী লীগকে আশ্রয়-প্রশয় দিচ্ছেন, তাদেরকেও প্রতিরোধ ও প্রতিহত করতে হবে।’
এএইচ

