ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের সরকার বিচার, সংস্কার ও নির্বাচনের পথে না হেঁটে দেশকে ক্রমশ একটি অন্ধকার চোরাবালির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার পরিবর্তে তারা এমন এক খুনোখুনির পথ প্রশস্ত করছে, যেন হরর সিনেমার স্ক্রিপ্টই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে— এমন মন্তব্য করেছেন ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশের (আপ বাংলাদেশ) প্রধান সংগঠক নাঈম আহমাদ।
আজ (৮ জানুয়ারি) শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে আপ বাংলাদেশের আয়োজনে স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বির হত্যার প্রতিবাদ ও খুনিদের বিচারের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
নাঈম আহমাদ বলেন, গত এক বছরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বির, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিসহ অন্তত সাড়ে তিন হাজার মানুষ সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হয়েছে। হাসিনাবিহীন বাংলাদেশে এ ধরনের খুনোখুনির ঘটনা চরম হতাশাজনক। এমন দৃশ্য সাধারণত হরর মুভিতেই দেখা যায়। এই স্ক্রিপ্ট হাসিনার আশ্রয়দাতা দিল্লি থেকে আসছে কিনা, আমরা জানি না। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আমরা এমন পরিস্থিতি আর দেখতে চাই না।
তিনি আরও বলেন, গত এক বছরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে প্রায় শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরায় দলে আর কোনো খুনোখুনি হবে না— এমন প্রত্যাশা আমরা রাখতে চাই। কিন্তু মুসাব্বির হত্যার বিচারের দাবিতে তারেক রহমানের ভূমিকা আশানুরূপ নয়। কোনো কঠোর কর্মসূচি তার দলের পক্ষ থেকে আমাদের চোখে পড়েনি। নিজ দলের কর্মীদের জীবনের নিরাপত্তা দিতে না পারলে ২০ কোটি মানুষের জীবনের নিরাপত্তা আপনি কীভাবে নিশ্চিত করবেন? তাই দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। অন্যথায় আমরা ধরে নিতে বাধ্য হব, নিজ দলের নেতাকর্মীদের জানমাল রক্ষায় বিএনপি উদাসীন।
একটি চক্র বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে উল্লেখ করে নাঈম আহমাদ আরও বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে না পারলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এর ফলে বাংলাদেশ একটি দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পতিত হবে। সেই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করতে, দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, প্রতিটি জীবন গুরুত্বপূর্ণ, প্রতিটি প্রাণের নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত না করা গেলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়।
বিজ্ঞাপন
যুগ্ম প্রধান সংগঠক আবরার হামিম বলেন, হত্যাকাণ্ডের শিকার মুসাব্বির ভাইও ওসমান হাদি ভাইয়ের জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি নিজেও হাদি হত্যার বিচার চেয়েছিলেন। কিন্তু আজ তিনি নিজেই একইভাবে নির্মম হত্যার শিকার হয়েছেন। এই হত্যার ধারাবাহিকতা বন্ধ করতে হলে প্রতিটি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান আব্দুল আলীম বলেন, এই হত্যাকাণ্ড একটি দীর্ঘমেয়াদি চক্রান্তের অংশ। নির্বাচনের আগে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড দেশের পরিস্থিতির অবনতির জন্য পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হচ্ছে।
বিক্ষোভ সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন আপ বাংলাদেশের মুখপাত্র শাহরিন ইরা, কেন্দ্রীয় সদস্যবৃন্দ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।
বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বিরের হত্যাকাণ্ডসহ সকল হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দল-মত নির্বিশেষে সকলকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এমআর/এফএ

