শিক্ষকতা পেশায় থাকার সময় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাকে একপ্রকার বাধ্য করেই রাজনীতিতে নিয়ে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে শোক সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
ড. মঈন খান বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া না চাইলে হয়তো আজ আমি রাজনীতিতে আসতে পারতাম না। শিক্ষকতা পেশায় থাকার সময় বেগম জিয়া আমাকে একপ্রকার বাধ্য করেই রাজনীতিতে নিয়ে এসেছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েই থেমে থাকেননি, সম্মুখসমরে যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছিলেন। সেই কঠিন সময়ে বেগম খালেদা জিয়াও নিজের ও সন্তানদের নিরাপত্তা উপেক্ষা করে মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণায় কাজ করেছেন।’
বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অনুরোধেই গৃহবধূ থাকা সত্ত্বেও বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতিতে আসেন। এরপর প্রায় চার দশক ধরে তিনি অন্যায়, স্বৈরাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। জেল-জুলুম, মামলা-হামলার মুখেও কখনো মাথা নত করেননি।’
বিজ্ঞাপন
ড. মঈন খান আরও বলেন, ‘১৯৮৬ সালের নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেক সমালোচনা হলেও ইতিহাস প্রমাণ করেছে বেগম জিয়ার সিদ্ধান্তই সঠিক ছিল। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ভুয়া ভোট বা প্রশাসনিক সহায়তায় নয়, বরং জনগণের রায়ে তিনি ক্ষমতায় আসেন এবং পরবর্তীতে তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।’
নিজের ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করে মঈন খান বলেন, ১৯৯১ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। কার্জন হলে থাকার সময় বেগম খালেদা জিয়া তাঁকে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন। তাঁর পাঠানো একজন ব্যক্তিই ভাঙা জিপে করে এসে তাঁকে নিয়ে যান। প্রায় ৪৫ বছর পর আজ প্রথমবারের মতো তিনি সেই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে বললেন।
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৯৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের স্বার্থে প্রকাশ্য জনসভায় প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করেন, যা এই অঞ্চলের রাজনীতিতে বিরল। গণতন্ত্র ও জনগণের প্রতি ভালোবাসার এই দৃষ্টান্তই বেগম খালেদা জিয়াকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।’
এএইচ/এমআই

