সাবেক সংসদ সদস্য ও মধুমতি ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল এবং তাঁর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত অভিযোগে ১২৩টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে। সেসব ব্যাংক হিসাবে থাকা ৪৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আবু তালেব এ তথ্য জানিয়েছেন।
সিআইডি জানায়, শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েল এবং তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত অভিযোগের অনুসন্ধান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট ১২৩টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করেছে। এসব ব্যাংক হিসাবের ৪৮ কোটি ৪৭ লাখ ২৩ হাজার ৫৭০ টাকা, ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং আইসিবি সিকিউরিটিস ট্রাডিং কোম্পানি লি. ও রোয়্যাল ক্যাপিটাল লি. এর তিনটি বিও হিসাব রয়েছে, যেগুলো ফ্রিজ করা হয়েছে।
অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন- শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েল, তার স্ত্রী শাহানা ইয়াসমিন শম্পা, পরিচালক মধুমতি ব্যাংক পিএলসি; তার তিন ভাই শেখ জালাল উদ্দিন রুবেল, সাবেক সহসভাপতি, খুলনা বিভাগীয় অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ মালিক গ্রুপ ও স্বত্বাধিকারী, মেসার্স জালাল কর্পোরেশন শেখ সোহেল উদ্দিন, প্রেসিডিয়াম সদস্য, যুবলীগ, সাবেক চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) গভর্নিং বডি, সাবেক পরিচালক, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, সাবেক সভাপতি, খুলনা ক্লাব এবং সাবেক সভাপতি, খুলনা বিভাগীয় অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহণ মালিক গ্রুপ শেখ বেলাল উদ্দিন বাবু বোন তাহমিনা খবির তিন ভাবী শিরিন শেখ, ফারমিনা খানম (স্বত্বাধিকারী, টুঙ্গীপাড়া নেভিগেশন) ও শেখ ওয়াহিদা সুলতানা এবং ভাতিজি শেখ তাসমিয়া সুনেহরা।
আবু তালেব বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে চাঁদাবাজি ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আদায় করে মানিলন্ডারিংয়ের প্রমাণ পাওয়ায় সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট মহানগর দায়রা জজ (বিশেষ জজ) বরাবর আবেদন করে। এর প্রেক্ষিতে আদালত আজ ওই ব্যাংক হিসাব, সঞ্চয়পত্র ও বিও হিসাবগুলো ফ্রিজের আদেশ দেন।
সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েল ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অনুসন্ধান শেষে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একেএস/ক.ম

