বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে যে ভূমিকা পালন করা দরকার বিএনপি তাই করবে।’
রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপির নির্বাচনি অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম খান এসব বলেন।
বিজ্ঞাপন
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই আমাদের নেতা তারেক রহমান ১৭ বছর পরে দেশে ফিরে এক বিশাল গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বারবার শান্তির কথা বলেছেন। কাজেই একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে যে ভূমিকা পালন করা দরকার বিএনপি তাই করবে। সেজন্যই আমাদের দল এবং দল কর্তৃক গঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটি অবাধ সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্যই কাজ করবে।'
এর আগে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রথমবারের মতো বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনী কমিটির প্রথম সভার বৈঠকের বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, 'আমরা আজকে যে সভা করেছি সেই সভায় শুধু পরস্পরের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দ্বিতীয় এবং আরো গুরুত্বপূর্ণ যেটা ছিল তা হলো যে আমরা এই কমিটিটা কিভাবে আগামী দিনগুলোতে এই কমিটিতে এখানে যাদের দেখছেন এরা প্রায় সবাই কোন না কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে টিম লিডার হিসেবে কাজ করবেন। এই টিম লিডারদের নেতৃত্বে ওই বিষয়ে প্রাসঙ্গিক বিষয়ে উপকমিটি গঠিত হবে।'
বিএনপি স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, আমরা তাদেরকে অনুরোধ করেছি সেই উপকমিটিতে কারা থাকতে পারেন সেটার একটা প্রস্তাবনা আমাদের কাছে আগামী দুই দিনের মধ্যে দেওয়ার জন্য। এরপরে আমরা আলোচনা করে সেই উপকমিটিগুলো চূড়ান্ত করবো এবং তারা কাজ আরো সক্রিয়ভাবে শুরু করবেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘বৈঠকে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অনেক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কীভাবে আমরা আমাদের প্রার্থীদেরকে সহযোগিতা করতে পারি। কীভাবে শান্তিপূর্ণ অবাদ এবং সুষ্ঠু একটা নির্বাচন অনুষ্ঠানে আমরা ভূমিকা পালন করতে পারবো। কীভাবে ভোটারদেরকে যথাসময়ে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হতে আমরা উদ্দীপ্ত করতে পারবো। এবং আমাদের যে দল দলের প্রতীক আমাদের দলের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দেওয়ার ব্যাপারে আমরা উৎসাহিত করতে পারবো।
বিএনপির এই নেতা বলেন, এই বিষয়গুলি এড্রেস করার জন্য আমাদের যে উপকমিটিগুলো তারা তাদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কাজ করবেন। আমাদের পরামর্শ দিবেন এবং আমাদের প্রার্থীদের সহযোগিতা করবেন।
বিএনপি বরাবর অবাধ এবং সুষ্ঠ নির্বাচনের কথা বলেছে উল্লেখ করে দলটির এই সিনিয়র নেতা বলেন, 'বিএনপি বরাবর যথাসম্ভব দ্রুত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দাবি জানিয়েছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেন যে নির্বাচন হলেই বিএনপি ক্ষমতায় যাবে। সেজন্য বিএনপি তাড়াতাড়ি নির্বাচন চায়। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসাবে অবশ্যই বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। উজ্জ্বল সম্ভাবনা আছে। কিন্তু সেই কারণে আমরা নির্বাচন চাইনি।'
নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ ১৬ বছর যাবত আমরা স্বৈরাচারী সরকার যেটা পরবর্তীতে ফ্যাসিবাদী সরকারে পরিণত হয়েছিল সেই সরকারের পতন এবং দেশে গণতন্ত্রপূর্ণ প্রতিষ্ঠা চেয়েছি। আমরা যে এক দফা দাবির আন্দোলন করছিলাম সেটা ছিল ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদের নির্বাচন।’
‘২০২৪ সালের জুলাই আগস্টের গণঅভুত্থানের মাধ্যমে আমরা ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিদায় করতে পেরেছি। কিন্তু দেশে গণতন্ত্র কোন প্রতিষ্ঠা হয় নাই। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা শুধুই একটা অবাধ সুষ্ঠ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটের মাধ্যমে জনগণের সমর্থনের দ্বারা পূর্ণ প্রতিষ্ঠা হতে পারে। সেই কারণেই আমরা বারবার নির্বাচনের কথা বলেছি। বিএনপির ইতিহাস এটাই।’ বলেন নজরুল।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ২৪ এর ছাত্র-শ্রমিক গণঅভুত্থান, সেই অভ্যুত্থানে আমরা সক্রিয় ছিলাম। যে লড়াইটা আমরা শুরু করেছিলাম সে লড়াইয়ের সুষ্ঠু একটা পরিসমাপ্তির জন্যই আমরা কাজ করেছি। আর সেটা হতে যাচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। এই নিবাচন আমাদের দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলনের ফসল। ফলে এই নির্বাচন আমাদের বহু কাঙ্খিত একটি নির্বাচন। বাংলাদেশের মানুষ বহুবছর ভোট দিতে পারেনি। পছন্দের প্রার্থী নির্বাচিত করতে পারে নাই। আমরা আশা করছি যে এবার জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের পছন্দনীয় প্রার্থীদের নির্বাচিত করতে পারবে এবং তাদের পছন্দনীয় একটা সরকার পাবে।'
আগামী নির্বাচনে আটটি দল অংশ নিচ্ছে না, অনেকে প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হচ্ছে এমন অবস্থায় বিএনপি কি মনে করে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, একসময় যখন বহু দল নির্বাচন অংশ নেয়নি, তবুও বলা হয়েছে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয়েছে। এই মুহূর্তে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের যে আয়োজন চলছে সেখানে কোনো দল যদি স্বেচ্ছায় নির্বাচন করতে না চায়, সেখানে অংশগ্রহণমূলক হবে না এটা বলা যাবে না।
বিএনপির নির্বাচন কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সমন্বিতভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল নেতাদের নিয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান ও ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকে।
বিইউ/ক.ম

