সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

নেত্রী জানিয়েছিলেন গোপালগঞ্জের নাম পরিবর্তনের কথা বলা ঠিক হয়নি: রিজভী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম

শেয়ার করুন:

zia
প্রেসক্লাবে খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত শোকসভায় কথা বলছেন রুহুল কবির রিজভী। ছবি- ঢাকা মেইল

‘গোপালগঞ্জের নামই পাল্টে দেওয়া হবে’ কথাটি বেগম খালেদা জিয়া রাগের মাথায় বলেছিলেন উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘নেত্রী জানিয়েছিলেন, গোপালগঞ্জের নাম পরিবর্তনের কথা বলা ঠিক হয়নি।’

শনিবার (৩ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন।


বিজ্ঞাপন


রিজভীর ভাষায়, ‘একবার আন্দোলনের সময় তাঁর (খালেদা জিয়া) বাসা পুলিশ দিয়ে ঘেরাও হলে রাগের মাথায় তিনি গোপালগঞ্জের নাম পরিবর্তনের কথা বলেছিলেন। কিন্তু পরে নিজেই সংশোধন করে বলেন, এটা বলা আমার ঠিক হয়নি। গোপালগঞ্জও বাংলাদেশের একটি জেলা, আমি একজন জাতীয় নেতা। এই উপলব্ধিই তাঁর নেতৃত্বের গভীরতা।’

তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান আমল থেকে বিভিন্ন সময়েই সংবাদপত্রের ওপর কমবেশি নিয়ন্ত্রণ ছিল। কিন্তু বাকশালের মাধ্যমে যেভাবে সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল, তা আর কখনো হয়নি। অনেক মানুষ ও পরিবার সাংবাদিকতা কিংবা লেখালেখির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন, তাদের সবকিছু বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।’

বিএনপি নেতা বলেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমান সেই অবস্থা থেকে দেশকে ফিরিয়ে আনেন। সংবাদপত্র শিল্প, সাংবাদিকতা, লেখনি ও মুক্তবাক্যের অবাধ প্রবাহ আবার চালু হয়। আর সেই ধারাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যান বেগম খালেদা জিয়া। ফলে সংবাদপত্র ও সাংবাদিক সমাজের সঙ্গে তাঁর গভীর ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে।’


স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘২০০৮ সালে কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার পরপরই তিনি (খালেদা জিয়া) সাংবাদিকদের নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেটির জন্য তাঁকে বিশেষভাবে অনুরোধ করতে হয়নি। সম্ভবত রমজান মাসের একটি ইফতার মাহফিল ছিল। সাংবাদিকদের কথাতেই তিনি সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন।’


বিজ্ঞাপন


বিএনপির মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা তাকে কাছ থেকে দেখেছি। তার ব্যক্তিত্বের ব্যাপ্তি ছিল বিশাল। তার ইন্তেকালের পর মানুষের যে আবেগ, শোক ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে, তা প্রমাণ করে সমাজের গভীরে তিনি কিভাবে নিজের অবদান রেখে গেছেন।’

রিজভী বলেন, ‘তার জানাজার দিন মানুষের যে ঢল নেমেছিল, তা কোনোভাবেই সংগঠিত ছিল না। কেউ কাউকে ডাকেনি। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই সাধারণ মানুষ নিজ নিজ তাগিদে রাস্তায় নেমে এসেছিল। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, কেরানি, পানের দোকানদার সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অন্তরের টানেই সেখানে উপস্থিত হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘অনেকে বলেছেন, ইমাম খোমেনির জানাজার পর এত বড় জানাজা আর দেখা যায়নি। আমার মনে হয়েছে, পুরো ঢাকা শহর যেন মানুষের স্রোতে ভেসে যাচ্ছিল। এটি নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়, ছিল মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ।’

রিজভী বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) ছিলেন এক মহীরুহ। মহীরুহের ছায়ায় আশ্রয় পাওয়া বড় সৌভাগ্যের বিষয়। আমরা এমন এক মহীরুহের ছায়াতলে বসবাস করতাম, আজ সেই ছায়া যেন সরে গেছে। একটি পরিবারে বাবা-মা বৃদ্ধ হলেও তাদের অস্তিত্বই এক ধরনের সাহস দেয়। সেই অভিভাবকত্বের অনুভূতিটাই আজ আমরা হারিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে বহু কটূক্তি ও অশ্লীল কথা বলা হলেও তিনি কখনো একই ভাষায় জবাব দেননি। সৌজন্য কিংবা নীরবতার মাধ্যমেই জবাব দিয়েছেন।’


রিজভী অভিযোগ করে বলেন, ‘কারাগারে নেওয়ার পর তাকে (খালেদা জিয়া) উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। পরিকল্পিতভাবে চিকিৎসাবঞ্চিত করে তাকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। দেশ-বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা দেওয়া হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘সব প্রতিকূলতার মধ্যেও খালেদা জিয়া দেশের মানুষের জন্য অটল ছিলেন। অসীম ধৈর্য নিয়ে সংকট মোকাবিলা করেছেন। তিনি যে দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, সেই পথ অনুসরণ করলেই দেশ এগোতে পারবে।’

বিএনপি নেতা আরও বলেন, ‘এই কারণেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে বারবার দমন করেও ধ্বংস করা যায়নি। কারণ এর নেতৃত্বে ছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, যিনি রাজনীতিকে নৈতিকতার উচ্চতায় তুলে ধরেছেন।’

এসময় বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন রিজভী।

শোকসভায় ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলমের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি কবি আব্দুল হাই সিকদার, সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, সাংবাদিক নেতা একেএম মহসিন,রাশেদুল হক, বাছির জামাল, এরফানুল হক নাহিদ, জাহিদুল ইসলাম রনি, দিদারুল আলম,সাঈদ খান, নুর উদ্দিন আহমেদ নুরুসহ বিএফইউজে ও ডিইউজের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

বিইউ/এএইচ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর