বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

শোকে পাথর বাবার পাশে শক্তি হয়ে দাঁড়ালেন জাইমা রহমান

বোরহান উদ্দিন
প্রকাশিত: ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম

শেয়ার করুন:

শোকে পাথর বাবার পাশে শক্তি হয়ে দাঁড়ালেন জাইমা রহমান
  • দেশে ফিরেই শোকের মুখোমুখি জাইমা, হারালেন দাদুকে
  • শোকে পাথর বাবার পাশে পাশে মেয়ে জাইমা তারেক 
  • শেষ বিদায় থেকে রাষ্ট্রীয় সমবেদনা সবখানে জাইমার উপস্থিতি
  • খালেদা জিয়ার পর নতুন প্রজন্মের পদচারণা

মাত্র ক’দিন আগে বাবা–মায়ের সঙ্গে দেশে ফিরেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। দেশে ফেরার দিন নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি দাদু সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পাশে থাকার কথা জানান। পাশাপাশি বাবা তারেক রহমানকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার কথা বলেন।


বিজ্ঞাপন


ওই পোস্টে উঠে আসে দাদুর সঙ্গে কাটানো শৈশবের স্মৃতি, প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা এবং দেশের সেবায় নিজেকে যুক্ত করার প্রত্যয়। তবে এত দ্রুত যে সেই সহযোগিতার দায়িত্ব বাস্তবে নিতে হবে, তা হয়তো ভাবেননি জিয়া পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের বড় সন্তান জাইমা রহমান। দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেছেন।

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোর ছয়টায় এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে জিয়া পরিবার হারায় তাদের শেষ অভিভাবককে। বাবাকে হারানোর ৪৪ বছর পর মাকে হারালেন তারেক রহমান। আর দাদাকে সরাসরি না দেখলেও স্মৃতির গল্প শুনে বড় হওয়া জাইমা রহমান ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর সন্তানরা হারালেন তাদের প্রিয় ‘দাদু’কে।

গত বৃহস্পতিবার দেশে ফিরে দলীয় নেতাকর্মীদের সংবর্ধনা ও পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি শেষে কিছুটা গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন তারেক রহমান। এর মধ্যেই আসে মাকে হারানোর বড় ধাক্কা। ব্যক্তিগত শোক, পরিবারকে সামলানো এবং নেতাকর্মীদের আবেগ সবকিছু একসঙ্গে বহন করতে গিয়ে তিনি যেন শোকে পাথর হয়ে যান।

যে কারণে হয়তো ১৯ বছর পর বাবার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে নীরবে চোখের পানি ফেললেও, মায়ের মৃত্যুতে প্রকাশ্যে কাঁদতে দেখা যায়নি ১৭ বছর নির্বাসন শেষে দেশে ফেরা তারেক রহমানকে।


বিজ্ঞাপন


7

এমন বাস্তবতায় জিয়া পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে বড় সন্তান হিসেবে জাইমা রহমানের কাঁধেই যেন এসে পড়লো বাবাকে সহযোগিতা ও পরিবারের দেখভালের দায়িত্ব। দেশে ফেরার পর খুব একটা প্রকাশ্যে দেখা না গেলেও, জাইমাসহ খালেদা জিয়ার মৃত্যুর দিন পুরো পরিবারকে  হাসপাতালে একসঙ্গে দেখা গেছে মঙ্গলবার। 

এদিকে বুধবার সকালে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে লাল-সবুজে মোড়ানো কফিনে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ গুলশানের বাসভবনে আনা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জিয়া পরিবার ও তাদের স্বজনরা।

বাসার সামনে থেকে শেষ বিদায়ের সময় ক্যামেরায় ধরা পড়ে তারেক রহমান বসে কোরআন তিলাওয়াত করছেন। অন্য স্বজনরা মুনাজাত করছেন। এসময় শোকাহত বাবার ঠিক পাশে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় জাইমা রহমানকে।

>> আরও পড়তে পারেন

জাইমার বয়ানে ‘জেবু’র বেড়ে ওঠার গল্প

বিএনপিতে কি সক্রিয় হচ্ছেন তারেককন্যা জাইমা?

ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথা বলছেন। জাইমার চোখেমুখেও তখন দাদুকে হারানোর গভীর বেদনা স্পষ্ট।

গুলশান থেকে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজার জন্য মরদেহ নেওয়া হয়। পরে তারেক রহমান পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিশেষ বাসে জানাজাস্থলে যান। জাইমা রহমানসহ পরিবারের নারী সদস্যরা নির্ধারিত স্থানে জানাজার নামাজ আদায় করেন।

জানাজা ও দাফনে জিয়া পরিবার থেকে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান সিঁথি, কন্যা জাহিয়া ও জাফিয়া রহমানসহ স্বজনরা। দাফন শেষে তারা দোয়া করে বিদায় নেন।

এদিকে জানাজার পর সংসদে বিদেশি অতিথিদের সমবেদনা গ্রহণের সময় বাবার পাশেই দেখা গেছে জাইমা রহমানকে। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসা অতিথিরা তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাবিক, ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডি এন ধুঙ্গেল, মালদ্বীপের মন্ত্রী আলি হায়দার আহমেদ, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা এবং শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজিতা হেরাথ একে একে সমবেদনা জানান।

এসময় কখনো দাঁড়িয়ে, কখনো বসে বাবার সঙ্গে অতিথিদের আলোচনায় অংশ নেন জাইমা রহমান। করেন সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়। জিয়া উদ্যানে খালেদা জিয়াকে দাফনের সময়ও বাবার পাশেই দাঁড়িয়ে মোনাজাতে অংশ নেন তিনি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ থাকায় বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে আর সক্রিয় হওয়া সম্ভব নয়, এমনটাই ধরে নেওয়া হয়েছিল। তবে তার মৃত্যুর পর দলের ও পরিবারের পুরো দায়িত্ব এখন তারেক রহমানের কাঁধে। আর সেই দায়িত্ব পালনে ধীরে ধীরে বাবার পাশে আরও সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যেতে পারে ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে।

দাদুকে নিয়ে জাইমার ফেসবুক পোস্ট

দেশে ফেরার দিন নিজের ফেসবুক পোস্টে সবচেয়ে তার দাদুকে নিয়ে লিখছেন। তার অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন, রাষ্ট্র পরিচালনায় তার দৃঢ়তার কথাও তুলে ধরছেন পোস্টে। করেছেন নিজের স্মৃতিচারণ।

জাইমা রহমান লেখেন, অনেক বছর পর দেশে ফিরছি। দেশে ফেরা মানে আবেগ আর অনুভূতির অনন্য সংমিশ্রণ। ইনশাআল্লাহ, দেশে ফিরে দাদুর পাশে থাকতে চাই। এই সময়টাতে আব্বুকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই।

তিনি লেখেন, একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই। নিজের চোখে বাংলাদেশকে নতুন করে দেখতে চাই।

দাদুকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে জাইমা লেখেন, লাখো মানুষের কাছে তিনি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু আমাদের কাছে তিনি ছিলেন শুধু আমাদের দাদু একজন মমতাময়ী অভিভাবক।

দাদাকে না দেখার আকুতির কথা জানিয়ে জাইমা লিখেছেন, আমি আমার দাদাকে কখনো দেখিনি। কিন্তু তার সততা আর দেশপ্রেমের গল্প সব সময় শুনে এসেছি। দাদু ও আব্বু সেই আদর্শই বহন করে চলেছেন।

বিইউ/এএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর