রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা একই রকম আছে। দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে তার চিকিৎসা চলছে।
সোমবার মধ্যরাতে হাসপাতালে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও চেয়ারপারসনের দুই উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। তারা দেশবাসীর কাছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়ারও আবেদন করেন।
বিজ্ঞাপন
৭৯ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনি, লিভার, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।
স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ২৩ নভেম্বর রাতে তাকে ঢাকার বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরীক্ষা নিরীক্ষায় বুকে ‘সংক্রমণ’ ধরা পড়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এর মধ্যে বৃহস্পতিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা ‘সংকটাময়’।
বিজ্ঞাপন
দুই দিন পর খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এজেডএম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে সার্বিকভাবে তার শারীরিক সুস্থতা এবং মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত ও সুপারিশের ওপর।
গতকাল সোমবার বিএনপি প্রধানের সাবেক প্রেস সেক্রেটারি মারুফ কামাল খান সোহেল সামাজিক মাধ্যমে জানান, খালেদা জিয়াকে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে।
পরে খালেদা জিয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানিয়ে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমরা মনে করি যে, দ্রুতই তিনি সেরে উঠবেন, উনি আরোগ্য লাভ করবেন, উনি সুস্থ হয়ে উঠবেন…এটাই কোটি কোটি মানুষের প্রত্যাশা। মানুষের এই প্রত্যাশার সাথে আমরা সবাই জাতীয়তাবাদী শক্তি এবং বিএনপির নেতাকর্মী যারা আমাদেরও একই প্রত্যাশা। প্রত্যাশা করি, আল্লাহ তাকে দ্রুতই সুস্থ করে তুলবেন।’

রিজভী বলেন, তাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে সার্বক্ষণিক চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন, চিকিৎসার সব কিছু সমন্বয় করছেন।
এদিকে গতকাল খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করার পর এভারকেয়ার হাসপাতালে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সোমবার রাত দেড়টার দিকে হাসপাতালের মূল ফটকের পাশে ব্যারিকেড বসায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রাতভর এভার কেয়ারে বিএনপির নেতারা চেয়ারপারসনের খোঁজখবর নিতে উপস্থিত ছিলেন।
হাসপাতালের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ডিএমপি সড়কে ব্যারিকেড বসিয়েছে। দলের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের হাসপাতালে ভিড় না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কোনো তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এমআর

