মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

যেসব স্বর্ণের জিনিস মিলল শেখ হাসিনার লকারে!

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:১৪ পিএম

শেয়ার করুন:

যেসব স্বর্ণের জিনিস মিলল শেখ হাসিনার লকারে!
শেখ হাসিনার লকার থেকে জব্দ করা হয় বিপুল স্বর্ণালঙ্কার।

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুটি ব্যাংক লকার থেকে বিপুল স্বর্ণালঙ্কার জব্দ করা হয়েছে। আদালতের অনুমতিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) যৌথ তদন্তে মোট ৮৩২ ভরি স্বর্ণ পায়। এসব স্বর্ণালঙ্কারের মধ্যে চুরি, নৌকা ও কানের দুলসহ নানা অলঙ্কার ছিল।

আদালতের অনুমতি পেয়ে গতকাল মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রাতে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) এবং দুদকের যৌথ টিম লকার দুটি খুলে এসব স্বর্ণালঙ্কার জব্দ করে।


বিজ্ঞাপন


কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা বলেন, স্বর্ণালঙ্কারের মধ্যে উপহার হিসেবে পাওয়া দলীয় প্রতীক নৌকা রয়েছে অনেক। শেখ হাসিনার ভাই শেখ কামাল ও মেয়ে পুতুলের বিয়ের আংটিও রয়েছে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার দিলকুশায় অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে শেখ হাসিনার লকার দুটি জব্দ করে সিআইসি, যার নম্বর ৭৫১ ও ৭৫৩।

তখন অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আনোয়ারুল ইসলাম বলেছিলেন, “তিনি (শেখ হাসিনা) দুটি লকার ভাড়া নিয়েছিলেন। সে দুটি নিয়ম অনুযায়ী সেভাবেই ব্যাংকে সংরক্ষিত অবস্থায় আছে। তারা (এনবিআর) এসেছিল লকারের অবস্থান জানতে। আইন অনুযায়ী গ্রাহকের অনুপস্থিতিতে লকার খুলতে হলে আদালতের অনুমতি লাগবে। আদালতের অনুমতি ও একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লকার খোলা যাবে। আদালতের আদেশ পেলে ব্যাংক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও তখন জানিয়েছিলেন তিনি।

hasina-2এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর পূবালী ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় (সেনা কল্যাণ ভবন) শেখ হাসিনার একটি লকার জব্দ করে সিআইসি। ১২৮ নম্বর লকারটি শেখ হাসিনার নামে থাকার তথ্য পেয়ে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল।


বিজ্ঞাপন


নিয়ম অনুযায়ী, একটি লকারের দুটি চাবি থাকে। একটি গ্রাহকের কাছে এবং আরেকটি ব্যাংকের লকার নিরাপত্তা শাখায়। লকার খুলতে হলে দুটি চাবিই লাগে।

অগ্রণী ব্যাংকে শেখ হাসিনার একটি ব্যাংক হিসাবও গত বছরের আগস্ট থেকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) নির্দেশে।

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই আদালত তার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করারও আদেশ দিয়েছেন।

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেদিনই পালিয়ে ভারতে চলে যান। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের কর ফাঁকি ও দুর্নীতির তদন্তে নামে।

টিএই/এমআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর