আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তরুণদের নেতৃত্বাধীন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কোন বলয়ে যাচ্ছে এই আলোচনার মধ্যেই দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, তারা নির্বাচনে কারও সঙ্গে আসন সমঝোতা করবেন না।
নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপি তার অবস্থান পরিষ্কারভাবে ব্যক্ত করেছে যে, আমরা এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা আমাদের নিজেদের রাজনীতি নিয়ে জনগণের কাছে যেতে চাই। তবে আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার, আমাদের যেসব দাবি রয়েছে সেই দাবি এবং আমাদের নীতি আদর্শের সঙ্গে যদি কোনো দল বা কোনো শক্তি ঐকমত্য পোষণ করে- তাহলে তাদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে আমরা ওপেন রয়েছি। আমরা বলেছি, আমাদের যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতা যদি হয় সেটা একটা নীতিগত এবং আদর্শিক জায়গা থেকে হতে হবে। কোনো ধরনের ক্ষমতার জন্য, আসনের জন্য আমরা কারও সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা করবো না।
বিজ্ঞাপন
রোববার (২৩ নভেম্বর) রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ কনভেশন সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আমরা যদি একটি আসনও না পাই- জাতীয় নাগরিক পার্টি তার যেই আদর্শ, তার যে নীতি, তার যেই লক্ষ্য- সেই লক্ষ্যে অটুট থাকবে। আপনাদের কাছে এবং দেশবাসীর কাছে আমাদের এই অঙ্গীকার আমরা আবারও পুনর্ব্যক্ত করছি। আমাদের এনসিপির যেকোনো প্রক্রিয়া আমরা খুবই স্বচ্ছভাবে নেওয়ার চেষ্টা করি, জনগণের কাছে সবসময় আমরা আমাদের বক্তব্য হাজির রাখি। আমাদের পুরো নির্বাচনি প্রক্রিয়া খুবই স্বচ্ছতার সঙ্গে এগিয়ে চলছে। ফলে আমরা যদি কারও সঙ্গে কোনো ধরনের জোট বা কোনো ধরনের আলোচনা করি সেটার জন্য কিন্তু আপনাদের সঙ্গে খুবই খোলামেলাভাবে কথা বলতে প্রস্তুত।
দলীয় অবস্থান তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, সারাদেশ থেকে আমাদের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা এসেছেন। আমরা তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করব এবং এর আগের সপ্তাহগুলোতে আমরা দেখেছি যে, আমাদের জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় অফিস এবং অনলাইনে প্রচুর দক্ষ, যোগ্য ব্যক্তিরা মনোনয়ন নিয়েছেন। আমরা একটি আহ্বান জানিয়েছিলাম সবার জন্য, শুধু জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাকর্মীদের জন্য নয়। যেহেতু জাতীয় নাগরিক পার্টি এখন একটি উদীয়মান দল এবং সাধারণ মানুষের দল, সাধারণ নাগরিকের দল- ফলে আমাদের আহ্বান ছিল সবার প্রতি, যারা নতুন করে রাজনীতি করতে চায়, দেশ গড়তে চায়। যারা একটি গণতান্ত্রিক বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ এবং যারা কখনো হয়তো ভাবেনি যে সংসদে যাবে, নির্বাচনে দাঁড়াবে।
বিজ্ঞাপন
নাহিদ বলেন, আমরা মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে মতবিনিময় করব। তাদের স্বপ্নের কথা শুনব। তাদের দক্ষতা, যোগ্যতার কথা শুনব এবং এনসিপির পক্ষ থেকেও আমরা আমাদের পরিকল্পনার কথা বলব। সর্বোপরি আমরা একটা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে এখান থেকে ৩০০ আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে চাই। সেই ৩০০ আসনের প্রার্থী আমরা চূড়ান্ত করব। এখানে একটা প্রাথমিক যাচাই-বাছাই হবে। পরবর্তী সময়ে আমাদের যে রাজনৈতিক পরিষদ রয়েছে তার কেন্দ্রীয় সংসদীয় বোর্ড হিসেবে তারা কাজ করবে। তারা চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবেন এই ৩০০ জন প্রার্থীকে।
এ সময় তিনি নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আমরা খুবই উদ্বেগ জানাচ্ছি যে, নির্বাচনের জন্য যেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকার কথা সেই ধরনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি না। আমরা অনেক আগে থেকে এটা বলে আসছিলাম যে, বাংলাদেশের যে নির্বাচনি সংস্কৃতি, এখানে জবর দখল, প্রশাসনের দখল এবং টাকার ব্যবহার, কালো টাকার ব্যবহার, মাসল পাওয়ারের ব্যবহার ইত্যাদি আমরা নির্বাচনে সবসময় দেখে এসেছি, শুনে এসেছি। এর আগের সময়গুলোতে এবং এর আগের ফ্যাসিবাদী সময়ে তো মানুষ ভোট দিতেও পারিনি। ফলে এইবারের নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে এবং অনেক তরুণ এবং স্বপ্নবাজ দেশপ্রেমী মানুষেরা সংসদে আসবে এটা আমাদের প্রত্যাশা।
নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সেটার (সুষ্ঠু নির্বাচনের) জন্য যেই নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের এবং সরকার এবং প্রশাসনকে যে শক্ত অবস্থানে থাকা প্রয়োজন সেটা আমাদের কাছে মনে হচ্ছে না। আমরা দেখতে পাচ্ছি যে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা তারা প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছে যে, প্রশাসনকে কীভাবে দখল করতে হবে, প্রশাসনকে কীভাবে হাতে রাখতে হবে। ফলে আমরা এর আগেও বলেছি যে প্রক্রিয়াকে জুলাই সনদকে দর কষাকষি করে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো এখন মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। একসময় তারা বন্ধু ছিল, তারা কিন্তু একটা চক্রান্ত করছে এই নির্বাচনকে একটা ভাগভাটোয়ারা একটা সাজানো নির্বাচন, একটা সমঝোতা নির্বাচন করার পরিকল্পনা করছে। এ ধরনের একটি নির্বাচন হলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাংলাদেশের যে নতুন সম্ভাবনা এবং গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের যে নতুন রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, সেটা কিন্তু ব্যর্থ হবে। ফলে এনসিপি এ ধরনের নির্বাচন, এই ধরনের নির্বাচনি সমঝোতা বা বন্দোবস্তে কখনোই সায় দেবে না। বরং আমরা এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেবো।
জেবি




