আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চব্বিশের জুলাই–আগস্টে ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়কে “ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। তাদের দাবি, গণহত্যার দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধূরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ে জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, এই রায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রতি ন্যায়বিচারের প্রথম ধাপ। তারা আশা প্রকাশ করেন, ঘোষিত সাজা দ্রুত কার্যকর করা হলে প্রকৃত অর্থে সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
বিজ্ঞাপন
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের সেই অভ্যুত্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা দেশজুড়ে গণহত্যা চালিয়েছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সারা দেশে সহস্রাধিক মানুষকে হত্যা করা হয়, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছিলেন ছাত্র-জনতা এবং ১৩৩ জন শিশু।
ছাত্রশিবিরের নেতারা বলেন, “আজকের এই রায় সবার জন্য শিক্ষা। আগামীতেও কেউ ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে তাদের পরিণতিও হবে একই।” তারা পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের দেশে ফেরাতে ইন্টারপোলের সহযোগিতা নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে মানবতাবিরোধী অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে কেবল জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনাই নয়, পিলখানা হত্যা, শাপলা চত্বরসহ বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত গুম, খুন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচারও নিশ্চিত করতে হবে। যারা স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছে বা নানা উপায়ে সেটি টিকিয়ে রাখতে ‘সম্মতি উৎপাদন’ করেছে—তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানায় সংগঠনটি।
ভারত সরকারের প্রতি দণ্ডিত ও পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণের আহ্বান জানিয়ে ছাত্রশিবিরের নেতারা বলেন, এটি দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখার জন্যও জরুরি। তাদের দাবি, প্রত্যর্পণ না হলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দায়ভার ভারতকেই বহন করতে হবে।
বিজ্ঞাপন
টিএই/এআর

