নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে চূড়ান্ত সফলতা না আসায় আক্ষেপ প্রকাশ করলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।
শনিবার (২৯ জুন) বিকেলে নয়াপল্টনে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এই আপেক্ষের কথা জানান।
সভাপতির বক্তব্যে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘২৮ তারিখে (২৮ অক্টোবর) আমরা আন্দোলনের ফসল ঘরে আনতে পারি নাই। কারণ আমাদের মৃত্যু ভয় ছিল।’
বিএনপির অন্যতম এই নীতিনির্ধারক বলেন, ‘আমরা যারা আজকে এখানে উপস্থিত আছি। মঞ্চে আছি, মঞ্চের নিচেও আছি। আমরা আজকে ১৫টা বছর আন্দোলন করছি। আন্দোলনের কোনো ফল আমরা ঘরে আনতে পারিনি। আমরা যথাসময়ে মাঠে থাকি না। ২৮ তারিখে (২৮ অক্টোবর) যে আন্দেোলন আমরা করেছিলাম, সেদিনই কিন্তু ফলাফল চূড়ান্ত হয়ে যেত। যদি আমরা পাল্টা একটা মিছিল নিয়ে দাঁড়াতে পারতাম। কিন্তু কেন পারি নাই। কারণ মৃত্যু ভয় ছিল, রক্ত দেওয়ার ভয় ছিল। যদিও আমরা হাজার কণ্ঠে বলি-খালেদা জিয়া ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই..খালেদা জিয়ার কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে-ঘরে ইত্যাদি স্লোগান দেই।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে আমাদের এই কথা শুনিয়ে লাভ নাই। আমাদের তৈরি হতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া অসুস্থ হওয়ার কারণে পুরোদেশ আজ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। সারাদেশ আজ চোর বাটপারে ভরে গেছে। ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে সরকারের অনেক অপকর্ম ফাঁস হচ্ছে।’
আব্বাস বলেন, ‘মওলানা ভাসানী বলেছিলেন, পাকিস্তানিদের থেকে মুক্ত হয়েছি দিল্লির দাসত্ব করার জন্য নয়। বিদেশে আমাদের বন্ধু থাকতে পারে, প্রভু নয়। আজকে আওয়ামী লীগ ভারতের সেবাদাসে পরিণত হয়েছে।’
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতেই হবে। চোর-ডাকাতরা মুক্তি পেলেও তিনি মুক্তি পাচ্ছেন না। চিকিৎসকরাও বলেছেন এদেশে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সম্ভব নয়। অথচ, সরকার বলছে তিনি ভালো আছেন। খালেদা জিয়ার মুক্তির যে আন্দোলন তা শুরু হয়েছে। আমরা আর সুচিকিৎসার দাবি করছি না। আমরা তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি। আওয়ামী লীগ আর গণতন্ত্র একসাথে যায় না। খালেদা বন্দী মানে গণতন্ত্র বন্দী। খালেদা জিয়া মুক্তি পেলে মুক্তি পাবে গণতন্ত্র।’
বিইউ/জেবি




