আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক কে হচ্ছেন?

প্রকাশিত: ১৪ মে ২০২২, ০৭:২৭ এএম
আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক কে হচ্ছেন?

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। ডিসেম্বরে আসন্ন সম্মেলনকে সামনে রেখে সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তনের গুঞ্জন রয়েছে। আবার অনেকেই মনে করেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্বপদে বহাল থাকবেন। দলের এই গুরুত্বপূর্ণ পদ নিয়ে দলের ভেতরে এবং বাইরে রয়েছে নানান আলোচনা। তবে সরাসরি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজী নন কেন্দ্রীয় নেতারা।

২০১৬ সালে দলের ১৯তম জাতীয় সম্মেলনে দলের নবম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ওবায়দুল কাদের। ২০২০ সালের ২১তম সম্মেলনে পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। 

আগামী ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ২২তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই সম্মেলনে টানা তৃতীয়বারের মতো দলের সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদের বহাল থাকবেন কিনা তা অনিশ্চিত। তবে দলের ভেতরে ও বাইরে কেউ কেউ মনে করছেন ওবায়দুল কাদের হয়তো হ্যাটট্রিক সাধারণ সম্পাদক। 

আবার কেউ কেউ দলের সাধারণ সম্পাদকের পদের দাবিদার হিসেবে দেখছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাককে। ২০০১ সালে তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০১৬ সাল থেকে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। 

আলোচনায় আছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য এড. জাহাঙ্গীর কবির নানক। ছাত্রলীগ থেকে উঠে আসা এই নেতা ঢাকা-১৩ আসনের দুইবারের সাংসদ। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তবে ২০১৮ সাল থেকে সংসদের বাইরে নানক। 

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমানও রয়েছেন সাধারণ সম্পাদক হওয়ার আলোচনায়। তিনি ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। 

সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। দলের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা আছে তাকে নিয়েও। অনেকেই হাছান মাহমুদকে আগামী সাধারণ সম্পাদকের পদে দেখতে চান।

আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফও রয়েছেন আলোচনায়। আলোচনায় আছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক যারা:

আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সেল (সিআরআই) সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দলের প্রথম সভাপতি ছিলেন মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। তিনি ১৯৪৯ থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত চারটি সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর ওই বছর একটি বিশেষ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হন আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ। ১৯৬৪ সালে দলের পঞ্চম সম্মেলনে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। সভাপতি পদে ছিলেন ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত। ওই বছর ষষ্ঠ সম্মেলনে দলের সভাপতি হন শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত সভাপতি পদে ছিলেন। ১৯৭৪ সালে দশম সম্মেলনে সভাপতি হন এ এইচ এম কামরুজ্জামান। ১৯৭৫ সালে ঘাতকের গুলিতে কেন্দ্রীয় কারাগারে নিহত হন তিনি। এরপর ১৯৭৮ সালে সম্মেলনে সভাপতি হন আবদুল মালেক। তিনি ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ছিলেন।

আওয়ামী লীগের প্রথম সভাপতি ছিলেন মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। তিনি ১৯৪৯ থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত চারটি সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হন। আর ১৯৬৬ সালে ষষ্ঠ সম্মেলনে দলের সভাপতি হন শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত সভাপতি পদে ছিলেন। 

১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৪১ বছরের বেশি সময় ধরে দলের সভাপতি পদে আছেন শেখ হাসিনা। দলের ১৩তম সম্মেলনে তিনি প্রথম সভাপতি হন। সর্বশেষ ২১তম কাউন্সিলেও তিনি একই পদে নির্বাচিত হয়েছেন।

সাধারণ সম্পাদক:

আওয়ামী লীগ গঠনের পর ১৯৪৯ সালে দলের প্রথম সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক হন শামসুল হক। এরপর ১৯৫৩ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত দলের দ্বিতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৬৬ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত তিন মেয়াদে দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ। এরপর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত জিল্লুর রহমান সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এরপর দুই মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক হন আবদুর রাজ্জাক। ১৯৮৭ সালে সাধারণ সম্পাদক হন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। ছিলেন ১৯৯২ সাল পর্যন্ত। এরপর জিল্লুর রহমান আবারও দুই মেয়াদে ২০০২ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

২০০২ সালের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক হন আবদুল জলিল। ছিলেন ২০০৯ সাল পর্যন্ত। ওই বছর দলের ১৮তম সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করেন ২০১৬ সাল পর্যন্ত। ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের ১৯তম সম্মেলনে দলের নবম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান ওবায়দুল কাদের। ২০২০ সালে ২১তম সম্মেলনেও একই পদে বহাল থাকেন তিনি।

কারই/এএস