বিএনপির সাবেক নেতাদের নিয়ে গড়া তৃণমূল বিএনপি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন পাওয়ার পর এবারই প্রথম ভোটে অংশ নিচ্ছে। নির্বাচনের আগে বিএনপির সাবেক দুই নেতাকে দলে ভিড়িয়ে মূল নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হয় তাদের হাতে। বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর বর্জনের মধ্যেও বিএনপির সাবেক নেতা শমসের মবিন চৌধুরী এবং তৈমুর আলম খন্দকারের নেতৃত্বাধীন এই দল শতাধিক আসনে প্রার্থী দিয়েছে। সরকারের কাছ থেকে দলটি সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস পেয়েছে বলেও দাবি করেছে। তবে বিএনপির সাবেক নেতা প্রয়াত নাজমুল হুদার গড়া তৃণমূল বিএনপিতে এবার ভাঙনের সুর লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে তৃণমূল বিএনপির ৬০ জন প্রার্থীর পক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে বেইমান হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। দলের চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী ও মহাসচিব তৈমুর আলম খন্দকার বেইমানি করে তাদের নির্বাচনী মাঠে নামিয়ে এখন যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ তোলেন প্রার্থীরা। এ ব্যাপারে তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার দেন এবং সরকারপ্রধানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
আলোচনা সভায় তৃণমূল বিএনপির কো-চেয়ারপারসন কে এ জাহাঙ্গীর মাজমাদার প্রধান অতিথি এবং ভাইস চেয়ারপারসন মেজর (অব.) ডা. শেখ হাবিবুর রহমান খান সভাপতিত্ব করার কথা ছিল। তবে তারা আসেননি। তাদেরকেও বেইমান হিসেবে আখ্যায়িত করেন উপস্থিত প্রার্থীরা।
তৃণমূল বিএনপি থেকে যশোর-৫ আসনের প্রার্থী মোস্তফা গণি বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে একাত্মতা ঘোষণা করে যে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করতে যাচ্ছি। সেখানে প্রচণ্ড বাধা সৃষ্টি করেছেন শমসের ও তৈমুর আলম খন্দকার। তারা আমাদের সঙ্গে নজিরবিহীন অসমন্বয় করে, বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। আমাদের অভিভাবক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী আপনি এর বিচার করুন। আমরা দলের কোনো বিচ্ছিন্ন অংশ নই।’
এই প্রার্থী বলেন, ‘আপনারা যদি আজকে শমসের ও তৈমুর আলমকে জিজ্ঞেস করেন তারা বলবে, দলে বিচ্ছিন্ন অংশ ষড়যন্ত্র করছে। আমি মেজর গণি বলতে চাই, আমরা দলের কোনো বিচ্ছিন্ন অংশ নই। দলের যারা অবহেলিত সংসদ সদস্য প্রার্থী তাদের পক্ষ থেকে কথা বলতে দাঁড়িয়েছি। তৈমুর-শমসের ও অন্তরা হুদা আমাদের নির্বাচনের মাঠে দাঁড় করিয়ে যে তামাশা করছেন, জাতির কাছে তার হিসাব দেন।’
তিনি আলটিমেটাম দিয়ে বলেন, ‘আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি আমাদের সমস্যা সমাধান না করেন তাহলে আমরা কঠোর হতে বাধ্য হবো এবং আমরণ অনশনে যেতে বাধ্য হবো।’
জেবি




