বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

কোথায় গিয়ে ঠেকল ভিপি নুর-রেজা কিবরিয়ার বিরোধ?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১১:১২ পিএম

শেয়ার করুন:

কোথায় গিয়ে ঠেকল ভিপি নুর-রেজা কিবরিয়ার বিরোধ?
গণঅধিকার পরিষদের দুই শীর্ষ নেতা ডক্টর রেজা কিবরিয়া ও নুরুল হক নুর। ফাইল ছবি

প্রায়ই নানা কারণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ‍উঠে আসে গণঅধিকার পরিষদের নাম। দুই শীর্ষ নেতা ডক্টর রেজা কিবরিয়া ও নুরুল হক নুরের বিরোধের কারণে ইতোমধ্যেই ফাটল তৈরি হয়েছে সংগঠনটিতে। বর্তমানে দুই ভাগে ভাগ হয়েই চলছে সব কার্যক্রম। এমনকি পৃথকভাবেই চলছে সংগঠনটির রাজপথের কর্মসূচিও।

২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যদিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ। পরবর্তীতে ২০২০ সালে তা ‘ছাত্র অধিকার পরিষদ’ নামে নামকরণ করা হয়। সেই সংগঠনের নেতারাই একসময় গড়ে তুলেন বৃহৎ সংগঠন। পরে ২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর বাংলাদেশের রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ করে নতুন রাজনৈতিক দল ‘গণঅধিকার পরিষদ’। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ভালোভাবে চললেও চলতি বছর নানা গুঞ্জন শুরু হয় দলটিকে ঘিরে। ভেতরে ভেতরে দলটির আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া ও সদস্য সচিব নুরুল হকে মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। তবে এতদিন অভ্যন্তরে এমন দ্বন্দ্ব চললেও বর্তমানে সেই বিরোধ এখন অনেকটাই প্রকাশ্যে।


বিজ্ঞাপন


চলতি বছরের ১৯ জুন ডক্টর রেজা কিবরিয়া এক ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘গতকাল ১৮ জুন, ২০২৩ (রবিবার) সন্ধ্যা ৭টায় গুলশান-২ এর ৫৫ রোডস্থ ২০ নম্বর বাড়িতে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়ার আহ্বানে তার সভাপতিত্বে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সদস্য সচিব ভিপি নুরুল হক নুরসহ গুরুত্বপূর্ণ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভা রাত ৯টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলে। সভায় দলীয় শৃঙ্খলা আনয়নের ক্ষেত্রে সদস্য সচিবকে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এবং রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সাথে যোগাযোগের কারণ ব্যাখ্যা চেয়ে আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়ার মতামত দিলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি উদ্ভব হয়। বয়োজ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ এমন পরিস্থিতিতে চরম অস্বস্তিতে পড়েন। এমতাবস্থায় সভার সভাপতি সভা স্থগিত করে সভাস্থল ত্যাগ করেন।’ 

আরও পড়ুন

অপপ্রচার ঠেকাতে শেখ হাসিনার কঠোর নির্দেশ

সেই পোস্টে তিনি আরও লিখেন, ‘সভা চলাকালীন সময়ে প্রবাসী অধিকার পরিষদের কমিটি পুনর্গঠন, ইতোমধ্যে সংগৃহীত অর্থের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এবং সুষ্ঠু হিসাব ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা, দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে হুমকি- এমন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও ইসরাইলের বিতর্কিত মোসাদ সদস্য মেন্দি এন সাফাদির সাথে গোপন বৈঠক, দলীয় নেতৃবৃন্দদের নিয়ে সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যমে অসত্য সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে সদস্য সচিব ভিপি নুরুল হক নুরকে দায়ী করা হয়। দল পরিচালনার ক্ষেত্রে একক কর্তৃত্বের পরিবর্তে যৌথ নেতৃত্বের বিকাশে দলীয় গঠনতন্ত্র মোতাবেক উচ্চতর পরিষদ ও নির্বাহী পরিষদ গঠনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পরবর্তী বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে অভিমত প্রকাশ করা হয়।’

 


বিজ্ঞাপন


এর পরেই পাল্টা এক ফেসবুক পোস্টে গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর বলেন, ‘বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট পরিচয়ে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতায় জনৈক মাসুদ করিম/এনায়েত করিমের বিএনপি ভাঙা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উকিল আব্দুস সাত্তার মডেলে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিতে কথিত সরকারবিরোধী প্রোগ্রামের নামে রেজা কিবরিয়ার ব্যাংকক, কাঠমান্ডুতে একাধিকবার মিটিংয়ে অংশ নেওয়া এবং দেশে এসে মনোনয়ন বিক্রি ও বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা শওকত মাহমুদের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ এবং সর্বশেষ ইনসাফের প্রোগ্রামে অংশ নেওয়ার বিষয়ে গতকাল রেজা কিবরিয়ার বাসায় জরুরি মিটিংয়ে এসব বিষয়ে জবাবদিহিতা চাইলে তিনি সদুত্তর না দিয়ে নেতৃবৃন্দের প্রশ্নে বিরক্ত হয়ে বাসার ছাদের মিটিং স্থান ত্যাগ করে বাসায় ঢুকে আর মিটিংয়ে আসেনি। যে কারণে আমরা তার উপস্থিতিতে আর মিটিং করতে পারিনি। তাই উপস্থিত সদস্যদের মতামতে আমরা বাকি আলোচনা সম্পন্ন করে আজকে পূর্ব নির্ধারিত মিটিংয়ে অসমাপ্ত আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে সকলে একমত হই যে, মিটিং এখনো কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে চলমান।’ 

আরও পড়ুন

বিএনপির নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

পরবর্তীতে পাল্টা এমন পোস্টের পরপরই গণঅধিকার পরিষদের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খাঁনকে আহ্বায়ক ঘোষণা একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয় দলটি। এরপর ২০ জুন আবার পাল্টা বিজ্ঞপ্তিতে গণঅধিকার পরিষদ থেকে নূরুল হক নুর ও রাশেদ খাঁনকে অব্যাহতি দেওয়ার পর হাসান আল মামুনকে নতুন সদস্য সচিব ঘোষণা করেন ড. রেজা কিবরিয়া।

 

এ নিয়ে পরে ১০ জুলাই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় নুরের নেতৃত্বাধীন অংশের। ওইদিন নুরুল হক নুর সভাপতি ও রাশেদ খাঁন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। অপরদিকে ২০ জুলাই ড. রেজা কিবরিয়ার নেতৃত্বাধীন অংশের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব ঘোষণা করা হয় ফারুক হাসানকে। এরপর থেকে পৃথকভাবেই চলছে সংগঠনটির কার্যক্রম। মাঝখানে নুরপন্থীদের অফিস থেকে বের করে দেন বাড়িওয়ালা মালিক কর্নেল মিয়া মসিউজ্জামান। তারপর থেকেই কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছাড়াই চলছে নুরুল হক নুর ও রাঁশেদ খানের নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদের কার্যক্রম। যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি পৃথকভাবেই পালন করছে দুই পক্ষ। আবার বিএনপি বা অন্য কোনো দল গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে কোনো বৈঠক করলে দুই পক্ষকেই ডাকতে দেখা গেছে। 

আরও পড়ুন

‘ভারত ও হিন্দুদের সঙ্গে সম্পর্ক ফাটলের চেষ্টা হবে, সতর্ক থাকুন’

বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে সম্পর্ক কেমন জানতে চাইলে গণঅধিকার পরিষদের একাংশের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন ঢাকা ঢাকা মেইলকে বলেন, আমাদের জায়গা থেকে আমরা অনেক উদারতার জায়গা ধরে রেখেছি। আমরা সবাইকে আহ্বান জানিয়েছি, আপনারা আসেন, আমরা একসাথে কাজ করব। তারা যদিও সংখ্যায় খুব বেশি না। তারপরেও অনেকেই ফিরে আসতেছে। আমরা তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সবসময় উদার থাকব। একজন কর্মীও যদি ফিরতে চায় তাকে আমরা স্বাগত জানাব।

 

অপরদিকে রেজা কিবরিয়ার নেতৃত্বাধীন অংশের যুগ্ম আহবায়ক আরিফুর রহমান তুহিন ঢাকা মেইলকে বলেন, যারা গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে নুরুল হক নুরের সাথে কাউন্সিলে অংশ নিয়েছে, তাদের ২৯ জনকে আমরা ফাইন্ডআউট করেছি, তাদের পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারা অধিকাংশই রিপ্লে দিয়েছে। আমরা সেগুলো যাচাই-বাছাই করেছি। এছাড়াও যারা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রয়েছে তারা স্ব-পদেই রয়েছে। আমরা সবার সাথেই একসাথে চলতে চাই। আমরা বৈরিতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। সে হিসেবে তারা যেহেতু আমাদেরই সহযোদ্ধা ছিলেন, সবার সাথেই আমাদের যোগাযোগ আছে।

টিএই/আইএইচ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর