বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

গণঅধিকারে গণ্ডগোল, বেরিয়ে আসছে ‘থলের বিড়াল’

মুহা. তারিক আবেদীন ইমন
প্রকাশিত: ২১ জুন ২০২৩, ০৯:৩৯ এএম

শেয়ার করুন:

গণঅধিকারে গণ্ডগোল, বেরিয়ে আসছে ‘থলের বিড়াল’

বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্য এবং একে অপরকে বহিষ্কারের মধ্য দিয়ে মহাগণ্ডগোল চলছে দেশের আলোচিত সংগঠন গণঅধিকার পরিষদে। গড়ে উঠতে না উঠতেই ভেঙে যাচ্ছে সংগঠনটি। ইতোমধ্যে ভাগ হয়ে গেছে দুই ভাগে। বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে অর্থ কেলেঙ্কারিসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথা। একপক্ষ দোষারোপ করছে আরেক পক্ষকে। এমন একসময় দলটিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে যখন নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধনের অপেক্ষায় রয়েছে গণঅধিকার পরিষদ।

আরও পড়ুন: গণঅধিকার পরিষদের ওপর চটেছে ইনসাফ কায়েম কমিটি!


বিজ্ঞাপন


২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ। পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালে তা ‘ছাত্র অধিকার পরিষদ’ নামে নামকরণ করা হয়। সেই সংগঠনের নেতারাই একসময় গড়ে তোলেন বৃহৎ সংগঠন। ২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর দেশের রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ করে নতুন রাজনৈতিক দল ‘গণঅধিকার পরিষদ’। আনুষ্ঠানিকভাবে দল ঘোষণার পর সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সব মহলে আলোচনার শিরোনাম হয় গণঅধিকার পরিষদ। অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়াকে আহ্বায়ক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে সদস্য সচিব করে ৮৩ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তী সময়ে কমিটির পরিধি বাড়ানো হয়।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে ভালোভাবে চললেও চলতি বছরে নানা গুঞ্জন শুরু হয় দলটি ঘিরে। দলটির আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া ও সদস্য সচিব নুরুল হক নুরের মধ্যে দেখা দেয় দ্বন্দ্ব। এতদিন ভেতরে ভেতরে চললেই সম্প্রতি তা প্রকাশ্যে রূপ নেয়।

গেল সোমবার (১৯ জুন) রেজা কিবরিয়া এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, ‘গতকাল ১৮ জুন ২০২৩ রোববার সন্ধ্যা ৭টায় গুলশান ২ এর ৫৫ রোডস্থ ২০নং বাড়িতে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়ার আহ্বানে তার সভাপতিত্বে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।  সভায় সদস্য সচিব ভিপি নুরুল হক নুরসহ গুরুত্বপূর্ণ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভা রাত ৯.৩০ মিনিট পর্যন্ত চলে।  সভায় দলীয় শৃঙ্খলা আনয়নের ক্ষেত্রে সদস্য সচিবকে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এবং রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সাথে যোগাযোগের কারণ ব্যাখ্যা চেয়ে আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়ার মতামত দিলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি উদ্ভব হয়। বয়োজেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ এমন পরিস্থিতিতে চরম অস্বস্বিতে পড়েন। এমতাবস্থায় সভার সভাপতি সভা স্থগিত করে সভাস্থল ত্যাগ করেন।’


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন: রেজা কিবরিয়াকে ‘ধুয়ে দিলেন’ ভিপি নুর

রেজা কিবরিয়া আরও বলেন, ‘সভা চলাকালীন প্রবাসী অধিকার পরিষদের কমিটি পুনঃগঠন, ইতোমধ্যে সংগৃহীত অর্থের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এবং সুষ্ঠু হিসাব ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা, দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে হুমকি এমন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও ইসরাইলের বিতর্কিত মোসাদ সদস্য মেন্দি এন সাফাদির সাথে গোপন বৈঠক, দলীয় নেতৃবৃন্দদের নিয়ে সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যমে অসত্য সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে সদস্য সচিব ভিপি নুরুল হক নুরকে দায়ী করা হয়। দল পরিচালনার ক্ষেত্রে একক কর্তৃত্বের পরিবর্তে যৌথ নেতৃত্বের বিকাশে দলীয় গঠনতন্ত্র মোতাবেক উচ্চতর পরিষদ ও নির্বাহী পরিষদ গঠনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পরবর্তী বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে অভিমত প্রকাশ করা হয়।’

gono2

এর পরেই পাল্টা এক ফেসবুক পোস্টে গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর বলেন, ‘বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট পরিচয়ে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার পৃষ্ঠাপোষকতায় জনৈক মাসুদ করিম/এনায়েত করিমের বিএনপি ভাঙা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উকিল আব্দুস সাত্তার মডেলে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিতে কথিত সরকারবিরোধী প্রোগ্রামের নামে রেজা কিবরিয়ার ব্যাংকক, কাঠমুন্ডুতে একাধিকবার মিটিংয়ে অংশ নেওয়া এবং দেশে এসে মনোনয়ন বিক্রি ও বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা শওকত মাহমুদের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ এবং সর্বশেষ ইনসাফের প্রোগ্রামে অংশ নেওয়ার বিষয়ে গতকাল রেজা কিবরিয়ার বাসায় জরুরি মিটিংয়ে এসব বিষয়ে জবাবদিহিতা চাইলে তিনি সদুত্তর না দিয়ে নেতৃবৃন্দের প্রশ্নে বিরক্ত হয়ে বাসার ছাদের মিটিং স্থান ত্যাগ করে বাসায় ঢুকে আর মিটিংয়ে আসেনি। যে কারণে আমরা তার উপস্থিতিতে আর মিটিং করতে পারিনি। তাই উপস্থিত সদস্যদের মতামতে আমরা বাকি আলোচনা সম্পন্ন করে আজকে পূর্ব নির্ধারিত মিটিংয়ে অসমাপ্ত আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে সকলে একমত হই যে, মিটিং এখনো কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে চলমান।

আরও পড়ুন: নুর-রাশেদকে অব্যাহতি, গণঅধিকারের সদস্য সচিব হাসান আল মামুন

নুর আরও বলেন, ‘নিজের অপকর্ম ঢাকতে আমাকে নিয়ে রেজা কিবরিয়ার অসত্য বক্তব্য ও মিথ্যাচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ। রেজা কিবরিয়া কতটুকু অযোগ্য সেটা তার কাজকর্মে ইতোমধ্যে আপনারা পর্যবেক্ষণ করেছেন। গণঅধিকার পরিষদের মতো একটা সম্ভাবনাময় দলের আহ্বায়ক হয়েও তিনি ঐভাবে দলের মিটিং-মিছিল, কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন না। বরং টাকার লোভে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার ফাঁদে পড়ে তিনি বিএনপি ভেঙে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দুঃস্বপ্নে বিভোর। আমরা সেটাতে সমর্থন না দেওয়ায় আমাকে নিয়ে মিথ্যাচার করে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে গণঅধিকার পরিষদে ভাঙন ও সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। নিশ্চয়ই আপনারা অবগত আছেন, এই রেজা কিবরিয়ার কারণেই গণফোরামও ভেঙেছিল।’

এর পরপরই গণঅধিকার পরিষদের ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খাঁনকে আহ্বায়ক ঘোষণা করে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয় দলটি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘অদ্য ১৯ জুন তারিখে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পূর্বনির্ধারিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম সদস্য সচিব মোহাম্মদ আতাউল্লাহ এর সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন সদস্য সচিব নুরুল হক নুর। সভায় সাংগঠনিক আলোচনা ছাড়াও গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়ার বিভিন্ন রাজনৈতিক তৎপরতায় উদ্ভূত পরিস্থিতি ও দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনা সভায় নিম্নলিখিত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সুশৃঙ্খলভাবে দলের নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার নিমিত্তে ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাশেদ খাঁনকে সর্বসম্মতিক্রমে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে মনোনীত করা হয়।’

সব কিছু গুছিয়ে আমরাই তাকে একটা গোছানো প্ল্যাটফর্মে এনেছিলাম। তিনি সে সম্মান ধরে রাখতে ব্যর্থ হন। সুতরাং গণঅধিকার পরিষদের সংগঠকদের কাউকে বহিষ্কার করা বা গণঅধিকার পরিষদকে বিভক্ত করার যোগ্যতা রেজা কিবরিয়া রাখেন না।

এরপর মঙ্গলবার (২০ জুন) এক পাল্টা বিজ্ঞপ্তিতে গণঅধিকার পরিষদ থেকে নূরুল হক নুর ও রাশেদ খাঁনকে অব্যাহতি দেওয়ার পর হাসান আল মামুনকে নতুন সদস্য সচিব হিসেবে ঘোষণা করেন ড. রেজা কিবরিয়া। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আমি ড. রেজা কিবরিয়া, আহ্বায়ক, গণঅধিকার পরিষদ। সাংগঠনিক ক্ষমতাবলে পরবর্তী নির্বাহী সংসদের সভার আগ পর্যন্ত সদস্য সচিব হিসেবে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও গণঅধিকার পরিষদের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা হাসান আল মামুনকে (মো. আল মামুন) ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব হিসেবে মনোনীত করছি। একই সঙ্গে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের আন্দোলন বেগবান করার নির্দেশনা দেওয়া হলো।’

এর প্রতিক্রিয়ায় নুরুল হক নুর বলেন, ‘রেজা কিবরিয়া গণঅধিকার পরিষদের ১২১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির ২১ জনকেও ভালোভাবে চিনেন না, নামও বলতে পারবেন না। ৫৪ জেলা কমিটির ১০ জনকে চিনেন কি না সন্দেহ! গত পৌনে দুই বছরে রেজা কিবরিয়া সংগঠনে পৌনে দুই লাখ টাকাও খরচ করেননি, ২০টা প্রোগ্রামেও ছিলেন না। গণঅধিকার পরিষদ কিংবা গণঅধিকার পরিষদের অঙ্গসংগঠন/ভ্রতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্র অধিকার পরিষদ, যুব অধিকার পরিষদ, শ্রমিক অধিকার পরিষদ, প্রবাসী অধিকার পরিষদ, পেশাজীবী অধিকার পরিষদ গঠনে রেজা কিবরিয়ার কোনো ভূমিকা নাই। সব কিছু গুছিয়ে আমরাই তাকে একটা গোছানো প্ল্যাটফর্মে এনেছিলাম। তিনি সে সম্মান ধরে রাখতে ব্যর্থ হন। সুতরাং গণঅধিকার পরিষদের সংগঠকদের কাউকে বহিষ্কার করা বা গণঅধিকার পরিষদকে বিভক্ত করার যোগ্যতা রেজা কিবরিয়া রাখেন না। বিদেশ বসে মাতাল হয়ে তিনি কী প্রেস রিলিজ দিলেন তাতে আমাদের কিচ্ছু যায়/আসে না। আমরা কেন্দ্রীয় মিটিং ডেকে নিয়মতান্ত্রিকভাবেই ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক করেছি।’

আরও পড়ুন: রেজা কিবরিয়াকে একহাত নিলেন আসিফ নজরুল

এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ড. রেজা কিবরিয়া দেশের বাইরে অবস্থান করায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। নুরুল হক নুরকে কয়েকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির এক সদস্য (যুগ্ম আহ্বায়ক) নাম প্রকাশ না করে ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘গত ১৮ জুন আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়ার বাসার ছাদে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়ার আলোচিত-সমালোচিত ইনসাফ কমিটির মিটিংয়ে যাওয়া এবং সদস্য সচিব নুরুল হক নুরের ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কথিত সদস্য মেন্দি সাফাদির সঙ্গে দেখা করার কারণ ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। ওই ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের অনুগত সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে সভার সভাপতি ড. রেজা কিবরিয়া সভাস্থল ত্যাগ করেন এবং সঞ্চালক সভা মুলতবি ঘোষণা করেন। তার পরদিন গত ১৯ জুন সদস্য সচিব নুরুল হক নুর একটি সভার আহ্বান করেন, যা গঠনতন্ত্রের ৩৬(খ), ৩৭(ক), ৩৮, ৩৯(খ) ও ৩৯ (ঘ) অনুযায়ী অবৈধ।’

gono3

এই নেতা বলেন, ‘তবু আমাদের কয়েকজন দলের স্বার্থে সেখানে উপস্থিত হই এবং কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে আহ্বায়ক দেশে আসার পূর্ব পর্যন্ত প্রটোকল অনুযায়ী ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁনকে অন্তর্বর্তীকালীন আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করার পরামর্শ দিই। কিন্তু উপস্থিত সবার মতামতকে উপেক্ষা করে একটি বানোয়াট প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়, যেখানে মুহাম্মদ রাশেদ খাঁনকে সরাসরি দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ঘোষণা করা হয়। অবৈধ এই সিদ্ধান্তে দলের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এদিকে আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়ার দলের ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন ও সদস্য সচিব নুরুল হক নুরকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হাসান আল মামুনকে ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব ঘোষণা করেন। আমরা মনে করি, আহ্বায়কের এই কাজটি সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। এমন পাল্টাপাল্টি কার্যক্রমে দলে বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আমরা পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি এবং সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছি।’

দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদ খাঁন ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আসলে আমাকে যে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক করা হয়েছে সেটা মূলত আমাদের আহ্ববায়ক রেজা কিবরিয়া দেশের বাইরে থাকার কারণে রুটিন দায়িত্ব পালন করার জন্য। আমি নিজেও বলেছি, আমি এই দায়িত্ব নিতে চাই না, বিতর্কিত হতে চাই না। কিন্তু তারপরেও তারা আমার ওপর এই দায়িত্ব অর্পণ করল। এটা মূলত রেজা কিবরিয়া বিদেশে রয়েছেন সেই কারণেই করা হয়েছিল। এখন দেখছি রেজা কিবরিয়া আমাকে এবং নুরুল হককে পাল্টা বহিষ্কার করল। এখন বহিষ্কার করতে গেলে তো কেন্দ্রীয় মিটিংয়ের দরকার ছিল, এখন কোন মিটিংয়ে বা বিদেশে কী মিটিংয়ের মাধ্যমে আমাদের বহিষ্কার করা হয়েছে জানি না। বিদেশে থেকে মিটিং করলে তো আর বহিষ্কার করা যায় না। তিনি বহিষ্কার করার আগে কেন্দ্রীয় নেতাদের জিজ্ঞেস করতে পারতেন।’

দলীয় ফান্ড ও বাইরের দেশের গোয়েন্দার সাথে বৈঠক প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এসব বিষয়ে একজন আরেকজনকে পাল্টাপাল্টি কিছু অভিযোগ তুলেছেন, আমরা দেখছি বিষয়গুলো কীভাবে কী করা যায়। আমরা কেন্দ্রীয় কমিটি বিষয়গুলো নিয়ে বসেছি এবং আরও বসব। আশা করছি খুব শিগগিরই এসব বিষয় নিষ্পত্তি হবে।’

টিএই/জেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর