বিদেশি পর্যটক টানতে কতটুকু তৈরি বাংলাদেশ? 

নাঈম আবির
প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০:৪৭ পিএম
বিদেশি পর্যটক টানতে কতটুকু তৈরি বাংলাদেশ? 

ভূটান থেকে আসা ১৫ নারী পর্যটক শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে বসে রইলেন পাক্কা চার ঘণ্টা। শুধু অন অ্যারাইভাল ভিসার কাজ করতেই এত দীর্ঘ সময়ের ভোগান্তি। ঘটনা গেল ৪ সেপ্টেম্বরের। 

দেশের প্রবেশমুখেই বিদেশি পর্যটকদের এমন হয়রানি। তাহলে নিজের গাঁটের টাকা খরচ করে কে আসবে এই দেশে? প্রশ্ন আছে কিন্তু এর সদুত্তর দেবেন কে? সমাধান কী মিলবে আদৌ?

অথচ বিদেশি পর্যটক টানার ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাফল্য ঈর্ষণীয়। ২০১৯ সালে সবচেয়ে বেশি ১ কোটি ৭৯ লাখ পর্যটক এসেছিলো ভারতে। সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা এমনকি পাকিস্তানের থেকেও নিচে। বিদেশি পর্যটক সঠিক হিসাব না থাকলেও ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য বলছে ২০১৯ সালে বাংলাদেশে এসেছিলো ৩ লাখ ২৩ হাজার বিদেশি ভ্রমণকারী। কিন্তু এখানেও রয়েছে শুভঙ্করের ফাঁকি। এদের মধ্যে সবোচ্চ ৫ শতাংশ প্রকৃত ভ্রমণকারী। বেশিরভাগই এসেছেন মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কারণে বিভিন্ন এনজিওর পক্ষ হয়ে আর কিছু এসেছেন ব্যবসার কাজে।

ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের (ডব্লিউটিটিসি) তথ্য বলছে , বাংলাদেশের পর্যটন খাতে ২০১৯ সালে বিদেশি পর্যটকরা খরচ করেছে ৩ হাজার কোটি টাকা বিপরীতে দেশী পর্যটকদের খরচ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। ২০২০ সালে বিদেশি পর্যটকদের ক্ষেত্রে সেই সংখ্যা নেমে দাঁড়ায় ১২ শ কোটি টাকা আর দেশি পর্যটকদের খরচ ৪৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ দেশীয় পর্যটন শিল্পে ৯৫ ভাগের উপরে অবদান রাখছে দেশীয় পর্যটকরাই।

পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত, ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট, অনেক প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শন, বিস্তৃত পার্বত্য অঞ্চল, উপতাক্য, ঝর্ণা, নদী কি নেই এদেশে? ষড় ঋতুর বৈচিত্র ও নাতিশীতোষ্ণ বাংলাদেশ পর্যটনের জন্য সম্ভাবনাময়। কিন্তু এ সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না কেন?

পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে যাওয়ার জন্য নেই ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা। নেই বিনোদনের ব্যবস্থা, পেশাদারিত্ব, দক্ষতা, আর আন্তর্জাতিক প্রচারণা।
পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিত কক্সবাজারের কথাই ধরা যাক। সেখানে সমুদ্র দেখা ছাড়া আর কী করার আছে পর্যটকদের। রাতেও নেই সময় কাটানোর কোন ব্যবস্থা। সমুদ্রস্নানের পরে আপনাকে পোশাক বদলাতে হন্য হয়ে চেঞ্জিংরুম খুঁজতে হবে। ফটোগ্রাফারদের ক্লিকের দৌরাত্ম্যে নারীরা বিচে সমুদ্রস্নানেও ঘটে নানা বিপত্তি। এদেশের সবচেয়ে বড় পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থা যদি এই হয় তাহলে বাকিগুলোর প্রসঙ্গ বলাই বাহুল্য। 

বিশ্বব্যাপী ’পর্যটনের নতুন ভাবনা’ এই প্রতিপাদ্যে পালিত হলো বিশ্ব পর্যটন দিবস । বেশ ঢাকঢোল পিটিয়েই এই দিবস পালিত হয়েছে বাংলাদেশেও। কিন্তু কোভিড পরবর্তী বৈশ্বিক অর্থনীতির পালাবদলে দেশের পর্যটন শিল্পের বিনিয়োগ বাড়াতে আর ভিনদেশি ভ্রমণকারীদের টানতে সরকার এই খাত নিয়ে কতোটা নতুন করে ভাববে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

নাঈম আবির ।। প্রতিবেদক, এখন টেলিভিশন