বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন বেশ কিছু গুরুতর বাস্তব ও কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যার মধ্যে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ, বিনিয়োগে স্থবিরতা, শিল্প উৎপাদন হ্রাস, জ্বালানি সরবরাহে সংকট এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা অন্যতম।
একটি দেশের চালিকাশক্তি হলো অর্থনীতি। অর্থনীতি না বাঁচলে দেশ বাঁচে না। কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে মানুষ ভালো থাকতে পারে না। বিগত সরকারগুলোর কেউ মানুষের এই সামান্য মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারেনি। জনগণ দীর্ঘদিন থেকে আশাহত।
অর্থনীতি বিশ্লেষক ও ফিন্যান্সিয়াল এক্সিলেন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান মামুন রশীদ বলেছেন, নির্বাচিত এ সরকারের প্রথম এবং প্রধান কাজ হতে হবে ভেঙে পড়া অর্থনৈতিক কাঠামোকে মেরামত করা। দীর্ঘদিনের লুণ্ঠনমূলক অর্থনীতি আর সুশাসনের অভাব বিনিয়োগকারীদের মনে যে গভীর আস্থাহীনতা তৈরি করেছে, তা দূর করাই হবে প্রধান চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের মনে এই বিশ্বাস জন্মানো জরুরি যে বিনিয়োগ সুরক্ষিত থাকবে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে তারা ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন।
স্বৈরাচার হাসিনার সময়ে সরকারের আর্থিকখাতের দুর্নীতি-অনিয়ম সম্পর্কে যে ফিরিস্তি প্রকাশিত হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এ নিয়ে যে শ্বেতপত্র প্রকাশিত হয়েছে। যদিও তার বাস্তবায়ন হয়নি কিছুই। তার যাতে পুনরাবৃত্ত না হয় সে বিষয়ে সরকারকে এখন থেকে সজাগ থাকতে হবে। এ ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে কী কী করণীয় তা ঠিক করতে হবে। সরকার গঠনের পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হলেও অর্থনীতিতে এখনো কোনো সুবাতাসের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তাই সরকারকে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার দিকে লক্ষ্য রেখে দেশের অর্থনীতিকে ঠিক করতে হবে। চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলায় করণীয় দিক ঠিক করতে হবে।
বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকারের সামনে থাকা প্রধান প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
বিনিয়োগে স্থবিরতা দূর করা: বিনিয়োগ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চাবিকাঠি। বিগত বছরগুলোতে দেশে বিনিয়োগের পরিমাণ আশানুরূপ বাড়েনি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশের বিনিয়োগ-জিডিপি অনুপাত ৩০ দশমিক ৯৮ শতাংশ ছিল, যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের ৩০ দশমিক ৯৫ শতাংশ থেকে সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অপর্যাপ্ত।
স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অনিশ্চিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে বিনিয়োগে উৎসাহ পায়নি। বর্তমান তারেক রহমান সরকার বাংলাদেশকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির রূপান্তর করতে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কেবল বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর নির্ভর করে না বরং তা নির্ভর করে দীর্ঘস্থায়ী ও বিশ্বাসযোগ্য অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর। তিনি বিশেষ কিছু প্রণোদনার কথা উল্লেখ করেন যার মধ্যে রয়েছে ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিক ডিজিটাল সেবা, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত শিল্প ও স্বাস্থ্য সেবা।
তিনি বলেন, বাজেটে এসব খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। অতীতেও এ ধরনের প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে লুটপাট ছাড়া কোনো ফলাফল বয়ে আনেনি। যা পরবর্তীতে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পাহাড় তৈরি করে।
অতীতে ব্যবসায়ীরা সরকার থেকে নানা সুবিধা গ্রহণ করেছে কিন্তু পরবর্তীতে তারা দেশের অর্থনীতিতে তা না লাগিয়ে বরং দেশের বাইরেই বেশি অর্থ পাচার করেছে। এজন্য ব্যাংক খাতে আন্ডার ইনভোয়েস ও ওভার এনভোয়েসিং রোধ করার চেষ্টা করতে হবে। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে নিচে নেমে আসায় বিনিয়োগ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা বিরাজ করছে। কঠোর মুদ্রানীতি ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাবে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক অক্টোবর-ডিসেম্বরে দেখা গেছে ব্যক্তি খাতে ব্যাংকঋণের প্রবৃদ্ধি কমে ৬ দশমিক ১০ শতাংশ হয়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও কম। নতুন বিনিয়োগ না বাড়ায় প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর হয়ে পড়েছে।
উচ্চ মূল্যস্ফীতি
বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেশি থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। সাধারণ মানুষ বাজেটের ভালো মন্দ এতো সব বুঝে না, তারা মনে করে কমদামে সাধ্যের মধ্যে পণ্য ক্রয় করতে পারবে কিনা, কিন্তু বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যে হারে বেড়ে চলেছে তাতে মানুষকে খুব হিসাব করে কেনাকাটা করতে হচ্ছে, বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষ বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য কেনাকাটা করতে হীমসীম খেতে হচ্ছে।
গত ডিসেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ হয়েছিল, যা নভেম্বরে ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৭ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি এখনও ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯.১৬ শতাংশে, যা মে মাসে ছিল ৯.৪২ শতাংশ। এখন চ্যালেঞ্জ হলো—মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রবৃদ্ধিকে টেকসই পথে ফেরানো। বর্তমানে মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণে রেখে দেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
ব্যাংকিং খাতের সমস্যা
ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণ এবং সুশাসনের অভাব আর্থিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ দিন দিন বেড়ে চলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত ডিসেম্বর মাস শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। মার্চ ২০২৬ শেষে দেশের তফসিলি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, মার্চ মাস শেষে দেশের ৬১টি তফসিলি ব্যাংকে মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। তিন মাসের ব্যবধানে ঋণ বিতরণ বেড়েছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। আর এখন মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ খেলাপি হয়ে পড়েছে। খেলাপি ঋণ আদায়ে জোর প্রচেষ্টা চালাতে হবে। ইচ্ছাকৃত খেলাপি গ্রাহকদের পুনরায় ঋণসুবিধা দেয়া বন্ধ করতে হবে।
ভালো গ্রাহকদের উৎসাহ ও সুবিধা প্রদান করে অর্থনীতিকে আরো বেগবান করতে হবে। সিএমএসএমই বিনিয়োগে জোর দেওয়া উচিত। উৎপাদনমুখী শিল্পে যাচাই বাচাই করে ঋণ বিতরণ করতে হবে। অর্থঋণ আদালতে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
ঋণখেলাপি যেই হোক সামাজিকভাবে তাদের ঘৃণাচোখে দেখে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। প্রচার মাধ্যম গুলোতে ঋণখেলাপিদের তালিকা প্রচার করা। সরকার ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এক্ষেত্রে কঠোর না হলে খেলাপি ঋণ আদায় দূরহ হবে।
জ্বালানি নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো হলো অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতা, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির মূল্য ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, এবং দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন হ্রাস।
জ্বালানি যেকোনো দেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি ও অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ। তবে বাস্তবতা হলো, বিশ্বের প্রতিটি দেশ জ্বালানি সম্পদে সমানভাবে সমৃদ্ধ নয়। সম্পদের মজুতের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের দেশগুলোকে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়—জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশ এবং জ্বালানি আমদানিকারক দেশ। তবে জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে একটি কাঠামোর মধ্যে আনতে হলে জ্বালানি নিরাপত্তা বিষয়ে সরকারকে বাস্তবভিত্তিক ও টেকসই পরিকল্পনা নিয়ে হবে।
জ্বালানি সংকট উত্তরণের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, দেশীয় গ্যাসের অনুসন্ধান ও উত্তোলন বাড়াতে হবে। জ্বালানি সাশ্রয় ও দক্ষতা বাড়াতে হবে। ঘরবাড়ি ও শিল্প কারখানায় বিদ্যুৎ বা গ্যাসের অপচয় রোধ করা এবং রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সিস্টেম লস ও দুর্নীতি কমানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহার এবং ডিজেলচালিত যানের বদলে সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক যান চালু করা যেতে পারে।
রফতানি বহুমুখীকরণ: অর্থনীতিকে গতিশীল করতে হলে পোশাক শিল্পের পাশাপাশি অন্যান্য খাতের রফতানি বৃদ্ধিতে প্রচেষ্টা থাকতে হবে। রফতানি আয় শুধু পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভর করলে অর্থনীতি কখনো গতিশীল থাকবে না। রফতানিতে বহুমুখীকরণের নানা সমস্যা চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলা করে চা শিল্প, চামড়া শিল্প, পাদুকা শিল্প, ওষুধ ও কৃষি ও হালকা প্রকৌশল খাত প্রসারে গতি আনতে হবে।
কৃষি ও প্রযুক্তি: কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও উন্নয়নের বড় সুযোগ রয়েছে। কৃষিতে যান্ত্রিকতার প্রাধান্য বাড়াতে হবে। কৃষি পণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ উন্নত ও যুগোপযোগী করতে হবে।
সরকারি ঋণ ও বাজেট চাপ: ২০২৬ সালে সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনায় বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের কিস্তি পরিশোধের চাপ তো রয়েছেই তাছাড়া দেশীয়- অভ্যন্তরীণ ঋণ, ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। উন্নয়ন বাজেটের বড় অংশ চলে যাচ্ছে ঋণ পরিশোধে ও ঋণের সুদ প্রদানে।
রাজস্ব আহরণ: কাঙ্ক্ষিত হারে রাজস্ব আদায় না হলে অর্থনীতিতে ও সার্বিক উন্নয়নে শ্লথ দেখা দেবে। তাই কর কাঠামোকে ঢেলে সাজাতে হবে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর অর্থনীতিতে সংস্কার ও পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও বেসরকারি খাতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসেনি, এখনো বিরাজ করছে অস্থিরতা। এতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বিনিয়োগ।
অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা মনে করেন অর্থনীতিকে গতিশীল ও টেকসইভাবে চলমান রাখতে চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলা করতে হবে। মূল্যস্ফীতি কেন নিয়ন্ত্রণে আসছে না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় রাজস্ব আদায় করা সম্ভব না হলে বহু পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।
কৃষি ও শিল্প উৎপাদন বাড়িয়ে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য দূরীকরণের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কর ব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন। যাতে সহজ, ন্যায্য ও কার্যকর রাজস্ব পরিবেশ গড়ে ওঠে এবং আর্থিক খাতের দুর্বলতাগুলো সমাধান করা যায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ‘আমাদের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ঝুড়ির চেয়ে নেতিবাচক ঝুড়ি বেশি ভারী। অর্থাৎ অর্থনীতির সংগ্রামের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবিকার সংগ্রামও কম নয়।
ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ, তারল্যসংকট ও দুর্বল সুশাসন ব্যবসায়িক আস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সংকট থেকে উত্তরণের মূল চাবিকাঠি হলো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নীতিগত নিশ্চয়তা। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে হবে। স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রোডম্যাপ, ব্যাংকিং খাত সংস্কার, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ছাড়া অর্থনীতির গতি ফেরানো কঠিন হবে। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের মধ্যে একটি দুষ্টচক্র রয়েছে। বিনিয়োগ না এলে কর্মসংস্থান হয় না, কর্মসংস্থান না হলে চাহিদা বাড়ে না, আর চাহিদা না বাড়লে প্রবৃদ্ধি কাগজ-কলমেই থেকে যায়। এ দুষ্টচক্রকে ভাঙতে হবে। এজন্য সাহসী ও সময়োপযোগী নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
লেখক: অর্থনীতি বিশ্লেষক ও ব্যাংকার




