সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একটি প্রবল আকারের প্রবণতা। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি সিলেটের একজন শিক্ষকের গান গেয়ে তা অনলাইনে শেয়ার করার ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সমাজে মতপার্থক্যের সৃষ্টি করেছে।
এ ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, ডিজিটাল যুগে পেশাগত দায়িত্ব, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সামাজিক মূল্যবোধের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা কতটা জরুরি। শিক্ষকের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ অবশ্যই থাকবে, তবে তা যেন তার পেশার মর্যাদা ও সম্মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
শিক্ষকের সৃষ্টিশীল প্রতিভা প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে; এটি তার ব্যক্তিগত ও সাংস্কৃতিক অধিকার। এ ধরনের স্বতঃস্ফূর্ত প্রকাশ শিক্ষককে ছাত্র-ছাত্রী ও সমাজের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য ও ঘনিষ্ঠ করে তোলে। শিক্ষকতা পেশার বাইরেও সৃজনশীলতার প্রদর্শন সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
তবে আমাদের মনে রাখতে হবে—পেশার সীমা ও সামাজিক প্রত্যাশার বাইরে গিয়ে এ ধরনের কাজ করা কখনোই বাঞ্ছনীয় নয়।
আমাদের সকলেরই শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষকদেরও সামাজিক মর্যাদা, দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতি সচেতন থাকতে হবে। আমাদের সমাজে এমন অনেক শিক্ষক আছেন, যারা অসীম জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও নৈতিক গুণাবলির অধিকারী।
তারা শুধু পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানই প্রদান করেন না, বরং ছাত্রের চরিত্র গঠনে এবং জীবনের সঠিক পথ দেখাতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এ কারণে তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন করা আমাদের একান্ত কর্তব্য।
শাস্ত্র ও সমাজনীতি উভয়ের মতেই গুরু বা শিক্ষকের স্থান সর্বোচ্চ। তিনিই আমাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে পরিচালিত করেন। তাই কখনোই তাদের অবমাননা, অসম্মান বা অবহেলা করা সমীচীন নয়। শিক্ষককে অসম্মান করা মানে নিজের জীবনের মূল ভিত্তিটিকেই ক্ষুণ্ণ করা। বরং তাদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমেই আমাদের নিজেদের মানবিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখা সম্ভব।
ফ্রিল্যান্স জার্নালিস্ট, ওয়ার্ক ফর ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস UK, চিফ এডিটর thesylhetpost.com
এআরএম




