বাংলাদেশের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার জাতীয় বাজেট নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে ক্ষমতায় আসা সরকারের এটি প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। ফলে এটি কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; বরং অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, প্রশাসনিক সংস্কার, সামাজিক সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির একটি রূপরেখা।
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা এবং সংস্কারের অঙ্গীকারকে সামনে রেখেই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি, বাজারভিত্তিক অর্থনীতি, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং সামাজিক নিরাপত্তা সম্প্রসারণ বাজেটের মূল দর্শন হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে। তবে বাজেট ঘোষণার পর অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী মহল এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে এর বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
বাজেটের সামগ্রিক চিত্র: সংখ্যা কী বলছে?
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের মোট আকার ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকা, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বাজেট।
প্রধান সূচকগুলো হলো:
সূচক পরিমাণ
মোট বাজেট ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকা
মোট রাজস্ব আয় ৬.৯৫ লাখ কোটি টাকা
বাজেট ঘাটতি ২.৪৩ লাখ কোটি টাকা
ঘাটতি (জিডিপির %) ৩.৬%
প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য ৬.৫%
মূল্যস্ফীতি লক্ষ্য ৭.৫%
কর-জিডিপি অনুপাত ৬.৮%
সামাজিক নিরাপত্তা বরাদ্দ ১.৪৪ লাখ কোটি টাকা
ব্যাংক ঋণ গ্রহণের লক্ষ্য ১.১২ লাখ কোটি টাকা
সরকারের দাবি, এটি একটি “স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধিমুখী” বাজেট। কিন্তু আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস অনেক বেশি সতর্ক।
বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩.৯ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে। অন্যদিকে IMF ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি ৪.৭ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৮.৯-৯.২ শতাংশের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা দেখিয়েছে। ফলে বাজেটে নির্ধারিত ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং ৭.৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য অর্জন সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
বিজ্ঞাপন
খাতভিত্তিক বরাদ্দ ও অগ্রাধিকার
শিক্ষা খাত: মানবসম্পদ উন্নয়নের ভিত্তি
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জিডিপির তুলনায় শিক্ষায় কম ব্যয় করে আসছে। এবারের বাজেটে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে:
* মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা;
* দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম, জুতা ও স্কুলব্যাগ বিতরন;
* মেধাভিত্তিক বৃত্তি সম্প্রসারণ;
* কারিগরি ও দক্ষতা উন্নয়ন শিক্ষা সম্প্রসারণ।
অর্থনীতির Human Capital Theory অনুযায়ী শিক্ষা ব্যয়কে ব্যয় নয়, বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর এবং মালয়েশিয়ার উন্নয়নের পেছনে মানবসম্পদে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ছিল প্রধান চালিকা শক্তি।
তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা কেবল ভর্তির হার নয়; বরং শিক্ষার মান, গবেষণা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ।
স্বাস্থ্য খাত: উৎপাদনশীলতার পূর্বশর্ত
একটি দেশের শ্রমশক্তির উৎপাদনশীলতা সরাসরি স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে।
বাংলাদেশে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ব্যয় এখনও মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। ফলে দরিদ্র পরিবারগুলো প্রায়ই স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বহন করতে গিয়ে অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে।
স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও প্রয়োজন:
* উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন;
* চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ;
* ওষুধ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা;
* ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা।
সামাজিক নিরাপত্তা: কল্যাণ রাষ্ট্রের দিকে অগ্রগতি
সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ ১.২৬ লাখ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১.৪৪ লাখ কোটি টাকা করা হয়েছে।
এটি মোট বাজেটের প্রায় ১৫ শতাংশ।
সুবিধাভোগীদের মধ্যে রয়েছে:
* বয়স্ক ভাতা;
* বিধবা ভাতা;
* প্রতিবন্ধী ভাতা;
* দরিদ্র জনগোষ্ঠী;
* নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।
কিন্তু বাংলাদেশে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অন্যতম দুর্বলতা হলো Targeting Error। প্রকৃত দরিদ্রের পরিবর্তে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সুবিধা পেয়ে থাকে।
ডিজিটাল ডাটাবেস এবং জাতীয় সামাজিক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করা না গেলে বরাদ্দ বৃদ্ধির সুফল সীমিত থাকবে।
কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা
বাংলাদেশের প্রায় ৩৫-৪০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত।
বাজেটে কৃষি, খাদ্য উৎপাদন এবং সার ভর্তুকিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ:
* ইউক্রেন যুদ্ধ-পরবর্তী খাদ্যবাজার অস্থিতিশীল;
* মধ্যপ্রাচ্য সংকট জ্বালানি মূল্য বাড়াতে পারে;
* জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমবে এবং আমদানি নির্ভরতা হ্রাস পাবে।�
অবকাঠামো ও উন্নয়ন ব্যয়
সরকার উন্নয়ন ব্যয়ের অংশ ৩৩.৭ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে।
অবকাঠামো খাতের অগ্রাধিকার:
* সড়ক;
* বন্দর;
* বিদ্যুৎ;
* জ্বালানি;
* ডিজিটাল অবকাঠামো।
অর্থনীতিতে Multiplier Effect অনুযায়ী ১ টাকা অবকাঠামো বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে ১ টাকার বেশি অর্থনৈতিক কার্যক্রম সৃষ্টি করতে পারে।
তবে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা বলে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি, সময়ক্ষেপণ এবং দুর্নীতি উন্নয়ন ব্যয়ের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।
রাজস্ব সংগ্রহ: বাজেট বাস্তবায়নের প্রধান চ্যালেঞ্জ
এই বাজেটের সবচেয়ে দুর্বল দিক হলো রাজস্ব আহরণের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা। ৬.৯৫ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব সংগ্রহ করতে হলে উল্লেখযোগ্য হারে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। অথচ বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৬.৮ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম নিম্ন।
ভারতে কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ১৭-১৮ শতাংশ, নেপালে ২২ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় ১২-১৩ শতাংশ। ফলে বাংলাদেশের রাজস্বভিত্তি সম্প্রসারণ ছাড়া বড় বাজেট দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না।
বাজেট ঘাটতি ও অর্থায়নের কৌশল
প্রস্তাবিত বাজেটে ২.৪৩ লাখ কোটি টাকার ঘাটতি পূরণের জন্য সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করবে।
অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে প্রায় ১.২৭ লাখ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে প্রায় ১.১৬ লাখ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের মধ্যে প্রায় ১.১২ লাখ কোটি টাকা ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই কৌশল স্বল্পমেয়াদে অর্থের জোগান নিশ্চিত করলেও দীর্ঘমেয়াদে কয়েকটি ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, বেসরকারি খাতে ঋণ সংকট, সুদ ব্যয়ের চাপ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: সবচেয়ে বড় পরীক্ষা
২০২৪ সালের জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি ১১.৬৬ শতাংশে পৌঁছেছিল। সরকার এটিকে ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। কিন্তু খাদ্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি, উচ্চ ডলার বিনিময় হার, জ্বালানি ব্যয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা মূল্যস্ফীতির প্রধান কারণ হিসেবে রয়ে গেছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাজস্বনীতি ও মুদ্রানীতির সমন্বয় অপরিহার্য। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বৃদ্ধি, তারল্য সংকোচন এবং কঠোর মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে। অন্যদিকে সরকার বড় আকারের ব্যয় ও ঋণনির্ভর বাজেট বাস্তবায়ন করতে চায়। এই দুই নীতির মধ্যে সমন্বয় না হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে।
ব্যাংকিং খাত ও খেলাপি ঋণের সংকট
বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা বর্তমানে ব্যাংকিং খাত। খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৩৫.৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে বলে সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ১০০ টাকার ঋণের মধ্যে প্রায় ৩৬ টাকা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
এতে ব্যাংকের মূলধন ক্ষয় হয়, নতুন ঋণ প্রদানে অনীহা সৃষ্টি হয় এবং সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সুস্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় খেলাপি ঋণের হার সাধারণত ৩ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
Crowding-Out Effect ও বেসরকারি বিনিয়োগ
সরকার যখন ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করে, তখন বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের প্রাপ্যতা কমে যায়। অর্থনীতিতে একে Crowding-Out Effect বলা হয়।
এর ফলে সুদের হার বৃদ্ধি পায়, নতুন শিল্প বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয় এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কমে যায়। বাংলাদেশের মতো বিনিয়োগ-নির্ভর অর্থনীতির জন্য এটি একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।
বন্ড মার্কেট ও ঋণ ব্যবস্থাপনার ঝুঁকি
বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ নিজে কোনো সমস্যা নয়; বরং অর্থ ব্যবহারের ধরনই মূল বিষয়। যদি বন্ড থেকে সংগৃহীত অর্থ উৎপাদনশীল অবকাঠামো বা শিল্প খাতে বিনিয়োগ করা হয়, তবে তা ভবিষ্যতে আয় সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু যদি সেই অর্থ রাজস্ব ব্যয়, ভর্তুকি বা অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় করা হয়, তবে ঋণের বোঝা বাড়বে।
বন্ডভিত্তিক অর্থায়নের প্রধান ঝুঁকিগুলোর মধ্যে রয়েছে ঋণের ফাঁদ (Debt Trap), সুদের হার ঝুঁকি, ম্যাচিউরিটি মিসম্যাচ, বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি এবং আর্থিক বাজারে আস্থার সংকট।
কর ব্যবস্থা, ব্যাংকিং ও বিনিয়োগ পরিবেশের সংস্কার
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য তিনটি ক্ষেত্রে কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য।
প্রথমত, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ আদায়, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ঋণ বিতরণ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, কর ব্যবস্থায় ডিজিটালাইজেশন, করজাল সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি রোধ এবং উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের কার্যকর কর কাঠামোর আওতায় আনতে হবে।
তৃতীয়ত, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের জন্য প্রশাসনিক জটিলতা, দুর্নীতি, চুক্তি বাস্তবায়নের দুর্বলতা এবং জ্বালানি অনিশ্চয়তা দূর করতে হবে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও জনমত
সরকার বাজেটকে সংস্কারমুখী ও জনকল্যাণমূলক হিসেবে উপস্থাপন করলেও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এটিকে উচ্চাভিলাষী ও অবাস্তব বলে সমালোচনা করেছে। তাদের মতে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত নয় এবং ব্যাংক ঋণনির্ভরতা অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
অন্যদিকে সরকারের দাবি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিয়েই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে যথার্থ অর্থে ‘সংস্কার ও প্রত্যাশার বাজেট’ বলা যায়। এর মধ্যে কল্যাণমূলক ব্যয়, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের একটি ইতিবাচক দিকনির্দেশনা রয়েছে। তবে উচ্চ প্রবৃদ্ধি, নিম্ন মূল্যস্ফীতি, সীমিত রাজস্ব এবং বড় সামাজিক ব্যয়ের সমন্বয় বাস্তবে অর্জন করা সহজ নয়।
এই বাজেটের সফলতা নির্ভর করবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর। শেষ পর্যন্ত বাজেটের সাফল্য নির্ধারিত হবে ঘোষণার মাধ্যমে নয়, বরং বাস্তবায়নের দক্ষতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার মাধ্যমে।




