মুন্সিগঞ্জের মাটিতে দাফন করা হয়েছে আদরের সন্তানকে। যে বুকটা খালি হয়ে গেছে, সেই বুকের ভেতর জ্বলতে থাকা আগ্নেয়গিরি নিয়ে এক বাবা ছুটে এসেছেন মেয়ের চেনা আঙিনায়—পল্লবীর পপুলার হাইস্কুলে।
স্কুল শুরুর সময় সকাল ১১টা। ঠিক ৫ মিনিট আগে, ঠিক যে সময়টায় প্রতিদিন রামিসা স্কুলে আসতো, আজ সেই সময়েই এলেন তার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা। কিন্তু আজ তো রামিসা নেই! ঘাতক জুয়েল রানার নিষ্ঠুরতা কেড়ে নিয়েছে তার নিষ্পাপ প্রাণ। রামিসা চলে গেছে চিরজীবনের জন্য।
বিজ্ঞাপন
টেলিভিশন সাংবাদিক হিসেবে সেই বেদনাবিধুর মুহূর্তে ক্লাসরুমে একমাত্র আমিই উপস্থিত ছিলাম। যখন বাচ্চাদের সাথে কথা বলছিলাম, ঠিক তখনই শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করলেন আবদুল হান্নান সাহেব। আমি তাকে আগে চিনতাম না, চেনার কথাও নয়। কিন্তু নিজের সন্তানের সহপাঠীদের দেখামাত্রই তিনি আবেগে আপ্লুত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছিলেন। আমি তাকে ধরে ফেললাম। পরম মায়ায় তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠলেন।
এরপর ক্লাসের প্রতিটি সহপাঠীকে বুকে টেনে নিলেন তিনি। চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বললেন—তোরাই আমার মেয়ে, তোরাই আমার রামিসা... সেই মুহূর্তে ক্লাসরুমের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল। অভিভাবক, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে উপস্থিত সবার চোখের পানি বাঁধ মানেনি।
বিদায় নিয়ে চলে যাওয়ার সময় তিনি আমাকে বললেন, আমি আপনার প্রতিবেদন দেখি। আপনাকে স্যালুট। একজন শোকার্ত পিতাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা আমার জানা ছিল না। আমি তাকে আবার জড়িয়ে ধরে বললাম, আপনি কাঁদুন, মন হালকা করুন। কিন্তু শক্ত দুটি হাত দিয়ে আমাকে খুব জোরে চেপে ধরে তিনি যা বললেন, তা পাথরকেও গলিয়ে দেয়। তিনি বললেন—চোখ দিয়ে তো আর পানি পড়ে না। আমার রামিসা একা হয়ে গেল...।
বিজ্ঞাপন
যে বাবার চোখের জল শুকিয়ে পাথর হয়ে গেছে, তার সেই বুকফাটা হাহাকারের সাক্ষী এই ভিডিও। রামিসার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং ঘাতক জুয়েল রানার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
লেখক: গণমাধ্যমকর্মী
এআরএম




