বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ঢাকা

কোথায় নিরাপদ আমাদের সন্তানরা?

জুয়েল আহমেদ
প্রকাশিত: ২০ মে ২০২৬, ০৫:১৬ পিএম

শেয়ার করুন:

Ramisa
নিহত রামিসা ও লেখক জুয়েল আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

যে বয়সে শিশুদের হাসি, আনন্দ আর স্বপ্নে পৃথিবী আলোকিত হওয়ার কথা, সেই বয়সেই তারা হয়ে উঠছে কিছু বিকৃত মানসিকতার মানুষের লালসা ও নিষ্ঠুরতার শিকার। এটি শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্য গভীর লজ্জা, বেদনা ও উদ্বেগের বিষয়।

একটি শিশুকে দেখে যার মনে স্নেহ, মায়া ও দায়িত্ববোধ জাগার কথা, তার মনে যদি পৈশাচিক চিন্তা জন্ম নেয়, তবে বুঝতে হবে আমাদের সমাজের মানবিকতা ভয়াবহ সংকটে পড়েছে। মানুষরূপ ধারণ করলেই মানুষ হওয়া যায় না; প্রকৃত মানুষ হতে হলে প্রয়োজন বিবেক, নৈতিকতা, আত্মসংযম এবং অন্যের প্রতি সম্মানবোধ।


বিজ্ঞাপন


রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু লামিসা হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।  পুলিশ জানিয়েছে, ছোট্ট এই শিশুকে একই বাসার আরেক ভাড়াটিয়া ধর্ষণের পর হত্যা করেছে। কতটা পাষাণ হলে এই ফুটফুটে শিশুটির সঙ্গে পৈচাশিক আচরণের পর তার মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ঘটনার মূল ঘাতক স্বামীকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন স্ত্রী স্বপ্না।  স্বামীকে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যেতে দিয়েছেন তিনি। এই ঘটনায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া রিকশা মেকানিক জাকিরের বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। সে একজন বিকৃত যৌনরুচি সম্পন্ন মানুষ।

এই বর্বরোচিত ঘটনা সামনে আসার পর মনে হচ্ছে মানুষের বিবেক যেন ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন সংবাদপত্র, টেলিভিশন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশু নির্যাতনের খবর আমাদের হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করে। প্রতিটি ঘটনার পর আমরা ক্ষোভ প্রকাশ করি, প্রতিবাদ জানাই, কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়-কবে আমাদের সন্তানরা সত্যিকারের নিরাপদ হবে?

Ramisa2
রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে খুন করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য শুধু কঠোর আইন করলেই হবে না; আইনের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি পরিবার থেকে শিশুদের সচেতন করতে হবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষা জোরদার করতে হবে এবং সমাজের প্রতিটি মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। অপরাধী যে-ই হোক, তার পরিচয়, ক্ষমতা বা অবস্থান বিবেচনা না করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

শিশুরা আমাদের ভবিষ্যৎ, আমাদের আশা, আমাদের স্বপ্ন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়; এটি আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। আসুন, আমরা এমন একটি সমাজ গড়ে তুলি যেখানে প্রতিটি শিশু নির্ভয়ে হাসতে পারবে, স্বপ্ন দেখতে পারবে এবং নিরাপদে বেড়ে উঠতে পারবে।

আজ আমাদের সবার কণ্ঠে একটাই প্রশ্ন আল্লাহ্ আমাদের সবার বাচ্চাদের সকল আপদ বিপদ থেকে নিরাপদে রাখুন – আমিন।

লেখক: বেসরকারি চাকরিজীবী ও সমাজকর্মী

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর