যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের পরে বিশ্বজুড়ে আলোচিত হচ্ছে একটি নতুন শব্দযুগল ‘রেয়ার মিনারেলস’। এটি নিয়ে অনেকের জিজ্ঞাসা।
আসলে বিশ্ব রাজনীতির শক্তির মানচিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। একসময় তেল ও গ্যাস ছিল বৈশ্বিক ক্ষমতার প্রধান উৎস; এখন সেই জায়গায় উঠে আসছে ‘রেয়ার আর্থ মিনারেলস’ বা বিরল-মৃত্তিকা খনিজ।
বিজ্ঞাপন
আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সভ্যতার প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র—স্মার্টফোন, স্যাটেলাইট, ইলেকট্রিক গাড়ি (EV), উইন্ড টারবাইন, সেমিকন্ডাক্টর চিপস, যুদ্ধবিমান, সাবমেরিন, রাডার ও মিসাইল গাইডেন্স সিস্টেম—এসবের কেন্দ্রেই রয়েছে এই খনিজ। ফলে রেয়ার মিনারেলস এখন কেবল শিল্প উপাদান নয়; এটি হয়ে উঠেছে কৌশলগত ক্ষমতার ভিত্তি, ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবের হাতিয়ার এবং ভবিষ্যৎ অর্থনীতির নিয়ন্ত্রক শক্তি।
রেয়ার আর্থ মিনারেলস কী?
রেয়ার আর্থ মিনারেলস বলতে মূলত ১৭টি বিশেষ রাসায়নিক মৌলকে বোঝায়। এর মধ্যে রয়েছে পর্যায় সারণির ১৫টি ল্যান্থানাইড (Lanthanides), সঙ্গে স্ক্যান্ডিয়াম ও ইট্রিয়াম। নিওডিয়ামিয়াম, ডিসপ্রোসিয়াম, টারবিয়াম, সেরিয়াম ও ল্যান্থানামের মতো উপাদানগুলোর বিশেষ চৌম্বকীয়, আলোকীয় ও তাপ-সহনশীল বৈশিষ্ট্য আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রায় অপরিহার্য।
এগুলোকে ‘বিরল’ বলা হলেও বাস্তবে পৃথিবীতে এদের উপস্থিতি খুব কম নয়। সমস্যা হলো—এগুলো সাধারণত ক্ষুদ্র ঘনত্বে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। ফলে উত্তোলন, পৃথকীকরণ ও পরিশোধন অত্যন্ত ব্যয়বহুল, প্রযুক্তিনির্ভর এবং পরিবেশগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়ায় তেজস্ক্রিয় বর্জ্যও তৈরি হয়। এই খনিজগুলো প্রধানত মোনাজাইট (Monazite), ব্যাসনাসাইট (Bastnasite) এবং লোপারাইট (Loparite) আকরিক থেকে উত্তোলন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
আধুনিক প্রযুক্তির ‘অদৃশ্য জ্বালানি’
বর্তমান বিশ্বের প্রায় সব উচ্চপ্রযুক্তি শিল্প রেয়ার মিনারেলসের ওপর নির্ভরশীল।
ইলেকট্রনিক্স শিল্পে
স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ক্যামেরা, টেলিভিশন, ফাইবার অপটিকস ও সেমিকন্ডাক্টর চিপস তৈরিতে রেয়ার আর্থ অপরিহার্য।
গ্রিন এনার্জিতে
ইলেকট্রিক গাড়ির মোটর এবং উইন্ড টারবাইনের শক্তিশালী পারমানেন্ট ম্যাগনেট তৈরিতে নিওডিয়ামিয়াম ও ডিসপ্রোসিয়াম ব্যবহৃত হয়। ফলে ‘সবুজ জ্বালানি বিপ্লব’ অনেকাংশেই রেয়ার আর্থের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
সামরিক খাতে
রাডার, সোনার, ড্রোন, যুদ্ধবিমান, মিসাইল গাইডেন্স সিস্টেম এবং সাবমেরিন প্রযুক্তিতে এই খনিজের বিকল্প নেই। আধুনিক স্টেলথ ফাইটার যেমন লকহিড মার্টিন এফ-৩৫ লাইটনিং টু তৈরিতেও বিপুল রেয়ার আর্থ উপাদান লাগে। ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র এবং নিরাপত্তা বেষ্টনির ক্ষমতা অর্ধেকে নেমে আসার পরে প্রশ্ন উঠেছে মার্কিন সক্ষমতা পূর্ণ করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। কেননা প্যাট্রিয়ট (Patriot) ক্ষেপণাস্ত্রসহ রাডার প্রযুক্তিতে নিওডিয়ামিয়াম (Neodymium), সামেরিয়াম (Samarium), ডিসপ্রোসিয়াম (Dysprosium) এবং টারবিয়ামের (Terbium) মতো রেয়ার আর্থ উপাদান বা খনিজ অপরিহার্য।
চিকিৎসা প্রযুক্তিতে
এমআরআই স্ক্যানার, এক্স-রে মেশিন ও বিভিন্ন মেডিকেল সেন্সরেও রেয়ার আর্থ ব্যবহৃত হয়।
চীনের একচেটিয়া আধিপত্য: কেবল খনি নয়, পুরো সাপ্লাই চেইনের নিয়ন্ত্রণ
বর্তমানে এই খাতের সবচেয়ে প্রভাবশালী শক্তি হলো চীন। বিশ্বে রেয়ার আর্থ উত্তোলনের প্রায় ৬১ শতাংশ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রায় ৯২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে একাই চীন। বিশ্বের জ্ঞাত রেয়ার মিনারেল মজুদের প্রায় ৩৮ থেকে ৪৯ শতাংশ চীনের ভূখণ্ডে রয়েছে।
তবে চীনের প্রকৃত শক্তি শুধু খনিজ উত্তোলনে নয়; বরং ‘প্রসেসিং’ বা পরিশোধন প্রযুক্তিতে। যুক্তরাষ্ট্র বা অস্ট্রেলিয়া কিছু খনিজ উত্তোলন করলেও, সেগুলো শেষ পর্যন্ত পরিশোধনের জন্য চীনে পাঠাতে হয়। বিশেষ করে ডিসপ্রোসিয়াম ও টারবিয়ামের মতো ভারী রেয়ার আর্থ উপাদান প্রক্রিয়াজাতকরণে বেইজিংয়ের প্রায় নিরঙ্কুশ মনোপলি তৈরি হয়েছে।
চীন শুধু খনি নিয়ন্ত্রণ করেনি; তারা পুরো শিল্প-শৃঙ্খল নিয়ন্ত্রণ করেছে—
* উত্তোলন
* রাসায়নিক পৃথকীকরণ
* ধাতব মিশ্রণ উৎপাদন
* ম্যাগনেট তৈরি
* চূড়ান্ত প্রযুক্তিপণ্যে ব্যবহার
এই ‘পূর্ণ সাপ্লাই চেইন কন্ট্রোল’ই চীনকে অপরাজেয় অবস্থানে নিয়ে গেছে।
চীন কীভাবে এত প্রভাবশালী হলো?
চীনের আধিপত্য রাতারাতি তৈরি হয়নি। এটি কয়েক দশকের কৌশলগত পরিকল্পনার ফল।
১৯৮০-এর দশকে চীনের নেতা ডেং জিয়াওপিং গর্বের সাথে বলেছিলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের তেল যেমন গুরুত্বপূর্ণ, চীনের জন্য রেয়ার আর্থ তেমন গুরুত্বপূর্ণ।’ এই বক্তব্যের মধ্যেই ভবিষ্যৎ কৌশলের ইঙ্গিত ছিল।
চীন কয়েকটি বড় সুবিধা কাজে লাগায়—
১. কম খরচে উৎপাদন
পশ্চিমা দেশগুলো যেখানে পরিবেশগত বিধিনিষেধ ও উচ্চ শ্রম ব্যয়ের কারণে খনি বন্ধ করে দেয়, সেখানে চীন রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি দিয়ে কম খরচে উৎপাদন বাড়ায়।
২. পরিবেশগত ছাড়
রেয়ার আর্থ প্রক্রিয়াজাতকরণ পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। পশ্চিমা বিশ্ব পরিবেশগত কারণে পিছিয়ে গেলেও চীন দীর্ঘদিন এসব ঝুঁকি উপেক্ষা করেছে।
৩. দীর্ঘমেয়াদি শিল্পনীতি
চীন কাঁচামাল বিক্রি করে থেমে থাকেনি; বরং ম্যাগনেট, ব্যাটারি, EV ও প্রযুক্তিপণ্য তৈরির শিল্প গড়ে তুলেছে।
৪. কৌশলগত বিনিয়োগ
আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে খনিজ খাতে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যৎ সরবরাহও তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে।
রেয়ার মিনারেলস এখন ভূ-রাজনৈতিক অস্ত্র
চীন বহুবার দেখিয়েছে যে, তারা রেয়ার আর্থকে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে প্রস্তুত। বিভিন্ন সময় বেইজিং গ্যালিয়াম, জার্মেনিয়াম, অ্যান্টিমনি এবং রেয়ার-আর্থ ম্যাগনেট রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি উৎপাদনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের সময় চীন বুঝিয়ে দিয়েছে—তাদের সরবরাহ বন্ধ হলে পশ্চিমা প্রযুক্তি শিল্প বড় সংকটে পড়বে।

২০২৫ সালে চীন রেয়ার আর্থ ও ম্যাগনেট রপ্তানিতে কড়াকড়ি আরোপ করলে মার্কিন গাড়ি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রে রেয়ার আর্থ ও ম্যাগনেট সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছেন।
ট্রাম্প-শি আলোচনা: কেন রেয়ার মিনারেলস ছিল কেন্দ্রীয় ইস্যু?
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চীন সফর ও টেলিফোন আলোচনায় রেয়ার মিনারেলস একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে ওঠে। ওয়াশিংটনের প্রধান উদ্বেগ ছিল—চীনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের কারণে মার্কিন শিল্প ও প্রতিরক্ষা খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ট্রাম্প পরে বলেন যে, দুই দেশের আলোচনায় ‘রেয়ার আর্থ ম্যাগনেট’ও কৌশলগত খনিজ সরবরাহ নিয়ে অগ্রগতি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখন বুঝতে পারছে—
* চীনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি,
* সেমিকন্ডাক্টর ও AI প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে রেয়ার আর্থ অপরিহার্য,
* ভবিষ্যতের যুদ্ধ ও প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা এই খনিজ ছাড়া অসম্ভব।
এই কারণেই ট্রাম্প প্রশাসন চীনের বিকল্প সরবরাহ খুঁজতে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ভারত, এমনকি গ্রিনল্যান্ড ও আফ্রিকার খনিজ সম্পদের দিকেও নজর বাড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র কি চীনের আধিপত্য ভাঙতে পারবে?
যুক্তরাষ্ট্র এখন নতুন করে রেয়ার আর্থ খাতে বিনিয়োগ শুরু করেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ‘Mountain Pass’ খনি পুনরায় সক্রিয় করা হয়েছে। একইসঙ্গে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও ভারতের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হচ্ছে।
তবে বড় সমস্যা হলো—
* খনি তৈরি করতে সময় লাগে,
* পরিবেশগত অনুমোদন জটিল,
* পরিশোধন প্রযুক্তিতে চীন বহু বছর এগিয়ে,
* দক্ষ জনবল ও শিল্পভিত্তি গড়ে তুলতে দশকের প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের পূর্ণ আধিপত্য ভাঙতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১০-১৫ বছর সময় লাগতে পারে।
বিশ্বে কি ‘রেয়ার মিনারেল যুদ্ধ’ হতে পারে?
বিশ্বে সরাসরি ‘রেয়ার মিনারেল যুদ্ধ’ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কারণ ইতিহাস বলে—যে সম্পদ বৈশ্বিক শক্তির কেন্দ্র হয়ে ওঠে, তা নিয়েই প্রতিযোগিতা ও সংঘাত তৈরি হয়।
যেমন—
* বিংশ শতাব্দীতে তেল নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত হয়েছে,
* এখন একবিংশ শতাব্দীতে রেয়ার মিনারেলস হতে পারে নতুন কৌশলগত প্রতিযোগিতার কেন্দ্র।
ভবিষ্যতে কয়েক ধরনের সংঘাত দেখা যেতে পারে—
অর্থনৈতিক যুদ্ধ
রফতানি নিষেধাজ্ঞা, ট্যারিফ, নিষেধাজ্ঞা ও সাপ্লাই চেইন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাপ।
প্রযুক্তি যুদ্ধ
AI, সেমিকন্ডাক্টর ও EV শিল্পে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই।
ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা
আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও আর্কটিক অঞ্চলের খনিজসম্পদ নিয়ে প্রতিযোগিতা।
সামরিক উত্তেজনা
দক্ষিণ চীন সাগর, তাইওয়ান বা আর্কটিক অঞ্চলে কৌশলগত উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
ভবিষ্যৎ বিশ্বব্যবস্থা: তেলের যুগ থেকে খনিজের যুগে
বিশ্ব এখন ‘ফসিল ফুয়েল জিওপলিটিক্স’ থেকে ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেল জিওপলিটিক্স’এ প্রবেশ করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বৈদ্যুতিক যানবাহন, মহাকাশ প্রযুক্তি ও সামরিক আধুনিকীকরণ যত বাড়বে, রেয়ার আর্থের গুরুত্বও তত বাড়বে।
তবে প্রশ্ন হলো—চীনের আধিপত্য কি স্থায়ী?
সম্ভবত না। কিন্তু স্বল্পমেয়াদে বিশ্ব অর্থনীতি এখনও চীনের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। পশ্চিমা বিশ্ব বিকল্প উৎস, পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি (Recycling) এবং নতুন খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তুলতে পারলে আগামী এক-দুই দশকে চীনের একচেটিয়া অবস্থান কিছুটা দুর্বল হতে পারে।
তবুও বাস্তবতা হলো—আজকের বিশ্বে যে রাষ্ট্র রেয়ার মিনারেলস, প্রযুক্তি ও সাপ্লাই চেইন নিয়ন্ত্রণ করবে, ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক ক্ষমতার কেন্দ্রও মূলত সেই রাষ্ট্রের হাতেই থাকবে।
খনিজসম্পদ নিয়ে প্রতিযোগিতা।
সামরিক উত্তেজনা
দক্ষিণ চীন সাগর, তাইওয়ান বা আর্কটিক অঞ্চলে কৌশলগত উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
ভবিষ্যৎ বিশ্বব্যবস্থা: তেলের যুগ থেকে খনিজের যুগে
বিশ্ব এখন ‘ফসিল ফুয়েল জিওপলিটিক্স’ থেকে ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেল জিওপলিটিক্স’-এ প্রবেশ করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বৈদ্যুতিক যানবাহন, মহাকাশ প্রযুক্তি ও সামরিক আধুনিকীকরণ যত বাড়বে, রেয়ার আর্থের গুরুত্বও তত বাড়বে।
তবে প্রশ্ন হলো—চীনের আধিপত্য কি স্থায়ী?
সম্ভবত না। কিন্তু স্বল্পমেয়াদে বিশ্ব অর্থনীতি এখনও চীনের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। পশ্চিমা বিশ্ব বিকল্প উৎস, পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি (Recycling) এবং নতুন খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তুলতে পারলে আগামী এক-দুই দশকে চীনের একচেটিয়া অবস্থান কিছুটা দুর্বল হতে পারে।
তবুও বাস্তবতা হলো—আজকের বিশ্বে যে রাষ্ট্র রেয়ার মিনারেলস, প্রযুক্তি ও সাপ্লাই চেইন নিয়ন্ত্রণ করবে, ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক ক্ষমতার কেন্দ্রও মূলত সেই রাষ্ট্রের হাতেই থাকবে।
লেখক: সিনিয়র ব্যুরোক্রেট




