সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ঢাকা

ভালোবাসা, ত্যাগ, মমতা ও চিরন্তন ত্যাগের প্রতীক মা

মো. তানভীর মাহমুদ রিফাত
প্রকাশিত: ১০ মে ২০২৬, ১০:৫২ পিএম

শেয়ার করুন:

ভালোবাসা, ত্যাগ, মমতা ও চিরন্তন ত্যাগের প্রতীক মা
মো. তানভীর মাহমুদ রিফাত

মা— ছোট্ট একটি শব্দ, অথচ এর ভেতরেই লুকিয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভালোবাসা, নিরাপত্তা আর নিঃস্বার্থ ত্যাগের গল্প। পৃথিবীর সবচেয়ে মধুরতম ডাক ‘মা’। ছোট্ট এ শব্দের অতলে লুকানো থাকে গভীর স্নেহ, মমতা সন্তানের হাসির জন্য নিজের স্বপ্ন বিসর্জন মানুষটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিন।

ব্যস্ত জীবনের ভিড়ে অনেক সময় বলা হয় না, ‘মা, তোমাকে ভালোবাসি।’ অথচ একজন মা সন্তানের জন্য নির্ঘুম রাত কাটান, অসুস্থতায় পাশে থাকেন, কষ্ট নিজের ভেতরে লুকিয়ে রাখেন। তাই এই দিনটি যেন মায়ের প্রতি অন্তরের অনুভূতি প্রকাশের একটি উপলক্ষ হয়ে ওঠে।  


বিজ্ঞাপন


মা হলেন পৃথিবীর একমাত্র নিঃস্বার্থ ভালোবাসার আধার, যার ছায়ায় সন্তান পায় নিরাপত্তা ও অনুপ্রেরণা। তিনি সন্তানের আদর্শ, বন্ধু এবং শিক্ষক, যিনি জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সাহস ও আত্মবিশ্বাস জোগান।প্রতিটি সন্তানের অন্যতম সপ্ন থাকে নিজের "মা"কে গর্বিত করার।

তবে মুদ্রার উল্টো চিত্র আবার ভিন্ন যাদের মা হারিয়েছে তারায় জানে মায়ের কতটা কষ্টের। রাজশাহী কলেজ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মশিউর রহমান মুন্না বলেন, `মা নেই মানে এই দুনিয়া অন্ধকার । যে কোন মানুষের জীবনে মায়ের ভুমিকা অপরিসীম। এই মা শব্দটার মাঝে এক অদ্ভুত পরিতৃপ্তি, অদ্ভুত এক শান্তি। মা ছাড়া সন্তানের জীবন ধু ধু মরুভূমির মতো হয়ে যায়। দুনিয়াতে একমাত্র মায়ের মমতা মায়ের স্নেহতেই থাকে নিঃশ্বার্থ ভালোবাসা ও আবেগ।'

অনেকেই বলেন, মাকে ভালোবাসার ও শ্রদ্ধা জানাতে  কোন নিদিষ্ট দিনের প্রয়োজন  হয় নাহ।মায়ের প্রতি সন্তানের ভালোবাসা প্রতিদিনই। তবুও আলাদা করে ভালোবাসা জানাতেই আজকের এই বিশেষ দিন।

১৯০৮ সালের ১০ মে, পশ্চিম ভার্জিনিয়ার গ্রাফটনের একটি চার্চে আনা জার্ভিস তার প্রয়াত মায়ের স্মরণে প্রথম মা দিবস উদযাপন করেন। আনা জার্ভিসের অক্লান্ত প্রচেষ্টায়, ১৯১৪ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে মা দিবস বা মাতৃ দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন।যদিও আধুনিক মা দিবসের শুরু যুক্তরাষ্ট্র থেকে, তবে প্রাচীন গ্রিস ও রোমে মাতৃরূপী দেবীদের আরাধনার মাধ্যমে মাতৃত্বকে সম্মান জানানোর চল ছিল। 


বিজ্ঞাপন


এছাড়া ইউরোপে 'মাদারিং সানডে' নামে একটি পুরনো ঐতিহ্য ছিল।বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কার্ড, ফুল এবং উপহার দিয়ে মা দিবস পালন করা হয়, যদিও আনা জার্ভিস চেয়েছিলেন এটি আরও ঘরোয়া এবং ব্যক্তিগত শ্রদ্ধার দিন হিসেবে পালিত হোক। এরই ধারাবাহিকতায় আমেরিকার পাশাপাশি মা দিবস এখন বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চীন, রাশিয়া ও জার্মানসহ শতাধিক দেশে মর্যাদার সঙ্গে পালিত হচ্ছে। তাই বিশ্ব মা দিবসে পৃথিবীর সব মায়েরাই যেন সুখী থাকেন, সন্তান হিসেবে এই যেন হয় আমাদের সবার প্রত্যাশা।

লেখক: শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, রাজশাহী কলেজ 

এএইচ/  

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর