আগামী নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী করছে মায়ের ডাকের সংগঠক সানজিদা ইসলাম তুলিকে। তাকে ইতোমধ্যে সবুজ সংকেতও দেওয়া হয়েছে। তুলি গুম হওয়া এক পরিবারের সদস্য। তার ভাই ঢাকা মহানগর ৩৮ (বর্তমান ২৫) নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সুমন, যিনি ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ মেলেনি।
ভাই নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তুলি যুক্ত হন গুমবিরোধী আন্দোলনে এবং ধীরে ধীরে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে এক সাহসী কণ্ঠ হিসেবে পরিচিতি পান। তিনি মানবাধিকারকেন্দ্রিক নানা আন্তর্জাতিক ফোরাম ও গণমাধ্যমে গুমের শিকার পরিবারের পক্ষে কথা বলেছেন। বিশেষ করে মায়ের ডাক সংগঠনটি তার নেতৃত্বে গুম হওয়া পরিবারগুলোর ন্যায়বিচারের দাবিকে জনসমক্ষে তুলে ধরে।
বিজ্ঞাপন
একই আসনে জামায়াতে ইসলামী আগেই প্রার্থী করেছে ব্যারিস্টার আরমানকে, যিনি দীর্ঘ সময় গুম হয়ে আয়নাঘরে ছিলেন। আরমানকে বিবেচনায় নিয়েই এই আসনে তুলিকে প্রার্থী করেছে বিএনপি।
দলটির দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, এটি বিএনপির একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত এবং একই সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে বিবেচনায় নিয়ে তুলিকেই প্রার্থী করা হয়েছে। অর্থাৎ যে আসনে যিনি উপযুক্ত, সেই আসনেই তাকে প্রার্থী করা হচ্ছে—তিনি দলের হোন কিংবা বাইরের। মূলত গুম ও মানবাধিকার ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকার কারণেই তুলিকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। আর তুলির বিজয় নিশ্চিত করতে দলের নেতাকর্মীরা ইতোমধ্যে মাঠে নেমে পড়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থী চূড়ান্তকরণে এখন ব্যস্ত সময় পার করছে বিএনপি। চলতি অক্টোবরের মধ্যেই দুই শতাধিক আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তা প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একাধিক মাঠ জরিপ ও সাংগঠনিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাইয়ের সর্বশেষ ধাপ হিসেবে সারাদেশের সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঢাকায় ডেকে এনে নির্বাচনী দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রবিবার ও সোমবার ঢাকায় দুই দিনের বৈঠকে তারেক রহমান সম্ভাব্য প্রার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আগামী নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি আসনে একাধিক যোগ্য প্রার্থী আছেন, সবার ত্যাগ-তিতিক্ষা অপরিসীম। তবে যাকে প্রার্থী করা হবে, তার পক্ষেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মূল লক্ষ্য হবে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করা।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তার প্রথম কাজ হবে নিজ আসনে গিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে পরামর্শ করে মাঠে নামা। স্থানীয় সহকর্মীদের সহযোগিতা ছাড়া নির্বাচন করা কঠিন হবে। প্রতিটি নেতাকর্মীর সঙ্গে সৌহার্দ্য বজায় রেখে মানুষের কাছে গিয়ে দলকে উপস্থাপন করতে হবে এবং ধানের শীষের পক্ষে তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
জানা গেছে, গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে এবার প্রার্থী বাছাই করছে বিএনপি। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সম্ভাবনাময়, জনপ্রিয় ও ক্লিন ইমেজধারী প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিতর্কিত কাউকে মনোনয়ন দেবে না দলটি। এছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থী কে—এ বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
রাজধানীতে ইতোমধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে ঢাকা-১৩ আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজকে এবং ঢাকা-১৭ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। নতুন কোনো দলের সঙ্গে জোট হলে ঢাকায় আরও নতুন মুখ প্রার্থী হিসেবে দেখা যেতে পারে।
লেখক: সাংবাদিক




