বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ঢাকা

কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ

রহমান মৃধা
প্রকাশিত: ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ০২:৫৩ পিএম

শেয়ার করুন:

কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ

অবিভক্ত পাকিস্তানের প্রথম ও শেষ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর। এই দিনটিতে আওয়ামী লীগ সেই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। তখন আর যাই হোক ভোট চুরি বা ছিনতাই হয়নি। তবে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী সে নির্বাচনের পর বিজয়ী শেখ মুজিবের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা করেছিল। এর জের ধরে কিন্তু শুরু হয়েছিল তীব্র রাজনৈতিক সংকট এবং শেষ পর্যন্ত গড়ায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে। যার পরিণাম এবং পরিসমাপ্তি ঘটেছিল স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের মধ্য দিয়ে।

মনে করিয়ে দিতে চাই পূর্ব পাকিস্তানে গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ১৯৬৯ সালের মার্চ মাসে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খানের মতো জেনারেলও। এরপর তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খান দায়িত্ব গ্রহণ করে সামরিক শাসন জারি করে। তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সময়ও একটি অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে কোনো ঘাটতি ছিল না, কিন্তু বাংলাদেশে সে ঘাটতি গত ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে দেখা গেছে। এবারও যদি সেই ঘাটতি দেখা যায় তবে তা জাতির এবং দেশের জন্য অভিশাপ হয়ে থাকবে।


বিজ্ঞাপন


আমার অনুরোধ থাকবে জনগণের প্রতি— ঘরে বা লন্ডনে বসে ডিজিটাল না হয়ে পথে নামুন, ভোট কেন্দ্রে যান, নিজের ভোট নিজে দিন, বাধা দিলে হাত ভেঙ্গে দিন। সাংবাদিক ভাইয়েরা সঠিক ও সত্য খবর বিশ্ববাসীর দরবারে পেশ করুন। দেখবেন সত্যের জয় হবে, দেশ গণতন্ত্র ফিরে পাবে, শ্বৈরশাসনের পতন ঘটবে। আপনারা যদি সময়ের ডাকে সাড়া দিতে ব্যর্থ হন তবে আগামী প্রজন্ম আপনাদেরকেই দায়ী করবে।

আমি সেই চল্লিশ বছর ধরে কলুর বলদের মতো ঘানি টেনে বেড়াচ্ছি দূর পরবাসে। কে চায় ঘুরে ঘুরে সরষে ভাঙাতে? কিন্তু বেচারা গরু এসবের কিছু ভাবতেই পারে না। অন্ধকারে অবিরাম ঘোরে সে। ছুটে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। কর্তার (চালক) মর্জি হলে হয়তোবা গরুটির জন্য কিছুটা বিশ্রামের ব্যবস্থা হয়, কখনো হয় না। এভাবেই দিনের পর দিন একটানা খাটছে গরুটি। তার খাটুনির বিনিময়ে ফোঁটা ফোঁটা করে তেল পড়ে। খাঁটি সরষের তেল। ঘানির তেল নামে যাকে চিনি আমরা। তেল মাড়াইয়ের এই প্রাচীন পদ্ধতিটা নিষ্ঠুর বা কঠিন হলেও সবার কাছে এর চাহিদা দারুণ। জানিনে এ যুগে তার মূল্য কত এবং এত দামের তেল মাড়ানোর জন্য পরিশ্রম করা বলদ গরুটির বেতনই বা কত?

তোমরা যারা এসময়ের ডিজিটাল তোমরা নিজেরাই না হয় অঙ্ক করে বের করে নিও। একই সাথে দেশটি লুটপাট হয়ে যাচ্ছে সেদিকে একটু খেয়াল কর। পুরো জাতিকে বোকা ডিজিটাল বানানো হয়েছে যাতে করে তারা ২০৪১ সালে স্মার্ট ডিজিটাল হতে পারে। আমি নিজে কোনো পার্টির সাপোর্টার না, তবে আমি জনগণের ন্যায্য অধিকারে বিশ্বাসী। তবে এই ন্যায্য অধিকার তো ঘরে বসে আদায় করা যাবে না। দেশকে ডিজিটাল করার অর্থ এই নয় যে সবাই ঘরে বসে টিকটক তৈরি করবে, রূপকথার বাণী রসিকতায় পরিপূর্ণ করে টকশো বা ইউটিউবে ছাড়বে আর জাতি অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করবে। সেগুলো নিয়ে চায়ের দোকানে, স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আড্ডাখানায় শেয়ার করবে এবং অট্টহাসির খোরাক যোগাবে। মানব জাতির সৃষ্টি হয়েছে চলমান গতিতে থাকার জন্য, ডিজিটাল হয়ে শুধু ঘরে ঘরে টকশো আর ইউটিউবটার হবার জন্য নয়। ঘরে বসে যেমন কৃষিকাজ করা সম্ভব নয়, ঘরে বসে ডিজিটাল হয়ে টিকটক, ইউটিউব বা টকশো করে দেশের পরিকাঠামো বা রাজনীতির পরিবর্তন করা যেমন সম্ভব নয়, ঠিক তেমনি আদর্শ এবং যুগোপযোগী সুশিক্ষাও পাওয়া সম্ভব নয়।

গরিব দেশ সমস্যা নেই, দুর্নীতিগ্রস্ত জাতি সমস্যা আছে। দিনের ভোট রাতে, সমস্যা আছে। অন্যায় করবা বলা যাবে না সেটা হবে না। দেশের দুর্দিনে থাকবা না সেটাও হবে না। আমি আমার দেশকে ভালোবাসি, এটাই আমার শক্তি। আমার শক্তি, আমার বিশ্বাস, আমার দুর্বলতা, আমার ভালোবাসা আর আমার বাংলাদেশ আমার মত প্রকাশের স্বাধীনতা।


বিজ্ঞাপন


লেখক: রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন। [email protected]

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর