হয়তো আমার মৃত্যু হবে আফসোস নিয়ে!

প্রকাশিত: ০২ জুলাই ২০২২, ০৯:০৯ পিএম
হয়তো আমার মৃত্যু হবে আফসোস নিয়ে!

একটি পাখির সুরের প্রেমে পড়ে ঠিক তার পাশেই বাসা নিলাম। একটি গাছের প্রেমে পড়ে প্রায় দিনই বাসা থেকে দেড় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে গাছটিকে দেখতে যেতাম। আবার, বাসা খুঁজতে গিয়ে একটা কদম গাছের প্রেমে পড়ে বাসাটির অনেক সমস্যা জেনেও ওই বাসায় উঠলাম। আর নতুন করে পেয়েছিলাম গাছটিতে থাকা বেশ কয়েক জোড়া পাখি। পাখিগুলোই ছিল আমার পরিবারের সদস্য। কিন্তু হঠাৎ এক ভোরে সবকিছু যেন উলোটপালোট হয়ে যায়। দেখলাম আমার প্রিয় গাছটির ডালপালাগুলো কেটে ফেলা হচ্ছে। সত্যি ওই দিন আমি পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। চিৎকার করতে করতে বলছিলাম, কত টাকা লাগবে আমি দিবো, তবুও গাছটি কাটবেন না। কিন্তু আমি পারিনি...!

নিজে অন্যের বাড়িতে থেকে পড়ি। কখনও হাতে দুই-এক টাকাও থাকে না। কিন্তু মনের গহীনে লুকিয়ে থাকা স্বপ্ন দেখতে ভুলি না। হাত খালি তবুও লুকিয়ে কাজ করে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত শিশুর শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে অবিরাম ছুটে চলি। যার প্রতিদানও পেয়েছি। একটা সময় বিয়ের আগেই ৫১টি শিশুর বাবা হয়ে যাই! এমন বাবা হওয়ার সৌভাগ্য অবশ্য সবার কপালে জুটে না। যে কারণে এটি আমার কাছে অন্যরকম পাওয়া।

এক সন্ধ্যায় বাসায় ফিরছিলাম। প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টিতে একটা বিড়ালের বাচ্চাকে ভিজতে দেখে বাসায় নিয়ে আসি। যার ঘরে মাসে দুই একদিন মাছ কেনাও কঠিন, সেই মানুষটা কি না হাওলাত করে বিড়ালের জন্য মাছ, দুধ এবং গোশতের ব্যবস্থা করলাম। এখন আমার বাসায় প্রতিদিন বেশ কয়েক জোড়া পাখির নাস্তা হয়। প্রতিটা ভোর হয় তাদের শব্দে।

একটা কবুতর আমাকে ভালোবেসে আমার কাছেই থেকে গেলে। এখন আমার ঘরই তার ঘর। সে আমার জন্য অপেক্ষা করে। আমিও তার জন্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমি অনেক কিছুই শেয়ার করি না, যা আমি নিয়মিতই করি।

যাই হোক, আসলে জীবের প্রতি প্রেম আমার আজন্ম। মানুষ কিংবা অন্য যেকোনো প্রাণী যদি ভালো না থাকে তাহলে আমার কাছে এই পৃথিবীর কোনো মূল্য নেই। যদিও অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ অবুঝ প্রাণীদের থেকেও নির্বোধ!

অসহায়কে সাহায্য না করতে পারার আফসোস, গাছটিকে রক্ষা করতে না পারার আফসোস, প্রকৃতির কাছে থাকতে না পারার আফসোস, কাউকে খুব বেশি মায়া করার আফসোস, আবার অনেকেই প্রচণ্ড ভালোবেসেও কাছে রাখতে না পারার আফসোস কিংবা প্রিয় মানুষগুলো দেখতে না পারার আফসোস...! এত এত আফসোস আমার বুঝি থেকেই যাবে?

লেখক: সংবাদকর্মী