বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

অনলাইনে এক মাসে ৩২৫ কোটি টাকার ভূমিকর আদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২৩, ০৮:৪৬ পিএম

শেয়ার করুন:

অনলাইনে এক মাসে ৩২৫ কোটি টাকার ভূমিকর আদায়

চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল থেকে শতভাগ অনলাইনে ভূমিকর আদায় শুরু হয়। এরপর এক মাসে ৩২৫ কোটি টাকা আদায় হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান।

বুধবার (২৪ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘স্টেট অ্যান্ড স্কোপ অব প্রোপার্টি ট্যাক্সসেশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য দেন।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ডা. ফাহমিদা খাতুনের সভাপতিত্বে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সিপিডির বিশিষ্ট ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

ভূমিমন্ত্রী আশাপ্রকাশ করেছেন, আগামী বছর থেকে প্রায় ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ দুই হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হিসেবে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া সম্ভব হবে। এই অর্থের পরিমাণ ডিজিটাল ভূমি উন্নয়ন কর সিস্টেম স্থাপনের পূর্বে ভূমিকর বাবদ আদায়কৃত অর্থের প্রায় তিন গুণ বা ২০০ শতাংশেরও বেশি।

সাইফুজ্জামান আরও জানান, গত ১৪ এপ্রিল থেকে শতভাগ ক্যাশলেস সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে সারা দেশে এখন প্রায় শতভাগ ভূমি উন্নয়ন কর আদায় হচ্ছে অনলাইনে এবং এই এক মাসেই আদায় হয়েছে ৩২৫ কোটি টাকা।

ভূমিমন্ত্রী আরও বলেন, ভূমিকর ব্যবস্থাকে আধুনিক করে গড়ে তোলার জন্য ভূমি উন্নয়ন কর আইনের খসড়া ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভায় নীতিগতভাবে অনুমোদন পেয়েছে। খুব দ্রুত এই খসড়া জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়নের জন্য পাঠানো হবে।

সাইফুজ্জামান বলেন, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কথা মাথায় রেখে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের বর্ষ দেশে প্রচলিত অর্থবছরে (জুন-জুলাই) করার প্রস্তাব করা হয়েছে খসড়া আইনে।

স্বাধীন বাংলার প্রথম ভূমি সংস্কারক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কথা মাথায় রেখেই ভূমি করের হার নির্ধারণ করা হয় আমাদের দেশে, এজন্য সর্বনিম্ন ভূমি করের হারের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

মন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কর-জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) অনুপাত বাড়ানোর জন্য ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্সসহ অন্যান্য ডিরেক্ট ট্যাক্স বাড়াতে হবে। এ ব্যাপারে সরকার কাজ করছে। ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে বলে মন্ত্রী মতপ্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি দলের হেড অব কো-অপারেশন মোরিজিও সিয়ান সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসিরউদ্দিন আহমেদ, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান হাবিব মনসুর এবং স্নেহাশিস মাহমুদ অ্যান্ড কোম্পানির পার্টনার স্নেহাশিস বড়ুয়া এফসিএ প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

প্যানেল বিশেষজ্ঞগণ নতুন ধরণের কর তৈরি করার চেয়ে বিদ্যমান কর ব্যবস্থাতেই দক্ষতা বৃদ্ধি করে রাজস্ব বৃদ্ধি করা, কর ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের জন্য সহজ ও বোধগম্য করা, ভূমি নিবন্ধন ব্যবস্থাকে ভূমির অন্যান্য সেবা প্রদানকারী একই মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত করা, ভিন্ন-ভিন্ন সরকারি সেবাদানকারী দফতরের ডাটাবেজের মধ্যে আন্তঃপরিচালনযোগ্যতা নিশ্চিত করা এবং কর বিষয়ক নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি করার ওপর জোর দেন।

ডব্লিউএইচ/এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর