রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

৩০ মিনিটে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২৩, ০৮:৩৯ এএম

শেয়ার করুন:

৩০ মিনিটে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি

এমআরটি লাইন-৫ সাউদান রুট বা ঢাকা মহানগরীর দ্বিতীয় পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোরেলে আগামী ২০৩০ সালে প্রতিদিন ৯ লাখ ২৪ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। প্রতিটি একমুখী মেট্রোরেল ৩ মিনিট পরপর ১৫টি স্টেশনে থেমে ৩০ মিনিটে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত যাতায়াত করবে। ট্রেনটির সর্বোচ্চ যাত্রী ধারণ ক্ষমতা ২ হাজার ৩০৮ জন। এতে অল্প সময়ে অধিক সংখ্যায় যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে। 

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে ছোট ছোট যানবাহনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় হ্রাস পাবে। জীবাশ্ম ও তরল জ্বালানির ব্যবহার কম হবে। ঢাকা মহানগরীর জীবনযাত্রায় ভিন্ন মাত্রা ও গতি যোগ হবে। যানজট বহুলাংশে হ্রাস পাবে। মহানগরবাসীর কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হবে। সাশ্রয় হওয়া কর্মঘণ্টা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যবহার করা যাবে।

এশিয়ান ডেপলোপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০৩০ থেকে ২০৩১ অর্থ বছরে মোট ২১ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হবে। বছরে ৪১ দশমিক ২২ হাজার টন জ্বালানি সাশ্রয় হবে। রাস্তার গাড়ি দূরত্ব বছরে ৬৪২ হাজার কিলোমিটার হ্রাস পাবে এবং ফলশ্রুতিতে রাস্তায় ১ হাজার ৪৯ সংখ্যক গাড়ির চলাচল কমে যাবে। বায়ুতে ১৬ দশমিক ১৯ হাজার টন কার্বনডাই অক্সাইড নির্গমন কমে যাবে এবং অন্যান্য গ্যাসের নির্গমন ৫ দশমিক ৭৩ হাজার টন হ্রাস পাবে।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় পূর্ব-পশ্চিম মেট্রোরেল এমআরটি লাইন-৫ সাউদান রুট সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ চালিত বিধায় কোনো জীবাশ্ম ও তরল জ্বালানি ব্যবহৃত হবে না। ফলে বায়ুদূষণ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। রোলিংস্টকগুলো ব্রেক কন্ট্রোল স্কিমে ইলেক্ট্রো-নিউমেটিক সার্ভিস সিস্টেম থাকবে যার দরুণ ব্রেকিং কন্ট্রোলের সময় ঝাঁকুনির হারও কম হবে। উড়াল মেট্রোরেলের ভায়াডাক্টের উভয় পার্শ্বে শব্দ প্রতিবন্ধক দেয়াল থাকবে এবং পাতাল মেট্রোরেলের টানেল সংলগ্ন মাটি শব্দ প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করবে। ফলশ্রুতিতে মেট্রোরেলে শব্দ ও কম্পন দূষণ মাত্রা মানদণ্ড সীমার অনেক নিচে থাকবে। সার্বিকভাবে পরিবেশ দূষণের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বরং পরিবেশ উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। এর টানেল মাটির উপরিভাগ থেকে ১৬ থেকে ৩৪ মিটার গভীরতায় নির্মাণ করা হবে। 

জানা গেছে, পাতাল ও উড়াল মেট্রোরেলের সমন্বয়ে এমআরটি লাইন-৫ সাউদান রুট ১৫টি স্টেশনের মধ্যে ৪টি স্টেশন হবে উড়াল এবং ১১টি স্টেশন হবে পাতাল। পাতাল স্টেশনের আন্ডারগ্রাউন্ড কনকোর্স দিয়ে আন্ডারপাসের মতো স্টেশনের সিঁড়ি, লিফ্‌ট এবং এস্কেলেটর ব্যবহার করে রাস্তার এপার থেকে ওপারে আসা যাওয়া করা যাবে। একইভাবে উড়াল স্টেশনের সিঁড়ি, লিফ্‌ট এবং এস্কেলেটর ব্যবহার করে কনকোর্স লেভেল দিয়ে রাস্তার এপার-ওপার যাতায়াত করা যাবে। পথচারীগণ রাস্তা পারাপারের জন্য এই ব্যবস্থাকে বিদ্যমান ফুটওভার ব্রিজ/আন্ডারপাসের অতিরিক্ত সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। তবে পথচারীগণ পেইড জোন এলাকায় ও প্লাটফর্মে প্রবেশ করতে পারবেন না।

এই অংশের নির্মাণকাজের সম্ভাব্য উদ্বোধনের তারিখ ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে নির্ধারণ করা হয়েছে। যা সমাপ্তিতে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর নাগাদ সময় লাগতে পারে। 

ডিএইচডি/এইউ 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর