বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া মেয়েকে হারিয়ে হাসপাতালে কাঁদছেন মাসুদ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯ মার্চ ২০২৩, ০১:৪৬ পিএম
বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া মেয়েকে হারিয়ে হাসপাতালে কাঁদছেন মাসুদ

পদ্মা সেতুর কাছাকাছি এক্সপ্রেসওয়েতে রোববার (১৯ মার্চ) সকালের দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া মেয়ে মারা গেলেও প্রাণে বেঁচে গেছেন এসেনশিয়াল ড্রাগসের নিরাপত্তরক্ষী বাবা মাসুদ মিয়া। মেয়েকে ঢাকায় পৌঁছে দিতে গোপালগঞ্জ থেকে উঠেছিলেন দুর্ঘটনায় ধুমড়ে মুচড়ে যাওয়া ইমাদ পরিবহনের বাসটিতে। কিন্তু এই দুর্ঘটনায় অকালে নিভে গেল মেধাবী এই শিক্ষার্থীর জীবন প্রদীপ।

জানা গেছে, দুর্ঘটনায় তাৎক্ষণিক মারা যাওয়াদের মধ্যে মাসুদ মিয়ার মেয়ে সুইটিও ছিলেন। আর তাকে আহত অবস্থায় ভর্তি করা হয় শিবচরের পাঁচ্চর এলাকার ইসলামিয়া হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।

মাসুদ মিয়ার বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের পাঁচুরিয়া গ্রামে। সেখানেই পরিবার নিয়ে থাকেন। এসেনশিয়াল ড্রাগসে নিরাপত্তরক্ষী হিসেবে কাজ করছেন তিনি।

88

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাসুদ মিয়া স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, সুইটি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষে পড়তেন। ঢাকার মিরপুরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। সকালে মেয়েকে ঢাকায় পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন। পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থলে আহত, মৃতদের নাম লিপিবদ্ধের দায়িত্বে থাকা হাইওয়ে পুলিশের একজন সদস্য জানিয়েছেন, নিহত সুইটি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন বলে তারা জেনেছেন। তবে কোন বিষয়ে পড়তেন তা তারা জানতে পারেননি।

মাসুদ মিয়া জানান, রোববার ভোরে গোপালগঞ্জ থেকে তারা বাসে ওঠেন। মাদারীপুরের শিবচরের কুতুবপুর এলাকায় বাসটি পৌঁছালে পদ্মা সেতুর এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে পড়ে যায়।

এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জন মারা গেছেন। বাসটিতে ৫০ জনের মতো যাত্রী ছিল।

বাসটির সামনের দিকে যে যাত্রীরা ছিলেন তারাই বেশি মারা গেছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

বিইউ/জেবি