বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ঢাকা

মেগা প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ নাকচ করলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০২৩, ০৮:৩৭ পিএম

শেয়ার করুন:

মেগা প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ নাকচ করলেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারের নেওয়া মেগা প্রকল্পে দুর্নীতির যে অভিযোগ তোলা হয় তা নাকচ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসব অভিযোগকে অমূলক বলে দাবি করেছেন সরকারপ্রধান। যারা এসব অভিযোগ তোলেন তাদের সুনির্দিষ্টভাবে কোথায় কত টাকা দুর্নীতি হয়েছে তা বলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তখন সরকারের পক্ষ থেকে এর জবাব দেওয়া হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

বুধবার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদে গণফোরামের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।


বিজ্ঞাপন


প্রধানমন্ত্রীকে সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে বিভিন্ন বড় বড় প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন মোকাব্বির খান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'মনে হচ্ছে আমাদের সংসদ সদস্য বিরোধী দলে শক্তিশালী হওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু যে সমস্ত অভিযোগ তিনি এনেছেন তা সম্পূর্ণ অমূলক। তিনি মেগা প্রকল্প নিয়ে কথা বলেছেন। এই মেগা প্রকল্পের সুবিধাভোগী কারা? এদেশের সাধারণ মানুষ। এই মেগা প্রকল্প অন্য কোনো সরকার করতে পারেনি, আওয়ামী লীগ সরকারই করেছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পদ্মা সেতু সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে আমরা করেছি। মেট্রো রেল- এটাও সাধারণ মানুষের যোগাযোগের জন্য। মেট্রো রেলে চড়ে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অল্পসময়ে আসতে পারছে স্বল্প খরচে। এটা সাধারণ মানুষ ভোগ করছে। মাননীয় সংসদ সদস্য অনেক অর্থশালী- সম্পদশালী, গাড়িতে চড়েন- ওনার এসব সমস্যা জানার কথা নয়।'

hasina2

এ সময় প্রশ্নকর্তাকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে তিনি বলেন, ‘কোথায়, কত দুর্নীতি হয়েছে, সেই কথাটা তাকে এখানে স্পষ্ট বলতে হবে। যার জবাব আমি দেব।'


বিজ্ঞাপন


এ সময় পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিল।  তারা প্রমাণ করতে পারেনি। কানাডার ফেডারেল কোর্টের মামলার রায়েই বলা হয়েছে- সব অভিযোগ মিথ্যা। কোনো অভিযোগ সত্য নয়, সব ভুয়া। দুর্নীতি যদি সত্যিই হতো তাহলে এত অল্প সময়ে এসব প্রকল্পের কাজ কি শেষ হতো?’

বিদ্যুৎ খাতে রেন্টাল, কুইক রেন্টালে যাওয়ার কারণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো করার কারণে মানুষকে বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এখানে দুর্নীতি হলে এত বিদ্যুৎ দিতে পারার কথা ছিল না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'যেখানে বড় বড় মহারথিরা আমাদের দুর্নীতির খোঁজ পায়নি, সেখানে কিছু লোক ভাঙা রেকর্ডের মতো বলেই যাচ্ছে কুইক রেন্টাল, কুইক রেন্টাল। সব বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হতো এখন! আওয়ামী লীগ সরকার এসে যতগুলি বিদ্যুত কেন্দ্র করেছে সেই সবগুলি যদি বন্ধ করে দিই কী অবস্থা হবে আপনাদের? বলেন? কয়েকদিন মাত্র লোডশেডিং দিয়েছিলাম তাই চারিদিকে হাহাকার। সেই লোডশেডিং যাতে না হয় সেজন্য কুইক রেন্টাল আবার চালু রাখতে হয়েছে। নিজেরা ভোগ করবেন আর বলার সময়ে অভিযোগ করবেন। এটা মেনে নেওয়া যায় না।'

pm2

গণফোরামের মোকাব্বির খানকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, 'মাননীয় সংসদ সদস্য বাংলাদেশের নাগরিক। ওনার একটা সেকেন্ড হোমও আছে। সেই সেকেন্ড হোম যেখানে অর্থাৎ ইংল্যান্ডে বিদ্যুতের দাম কত শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে? সেখানে বিদ্যুতের দাম দেড়শ পার্সেন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। সেখানে ভোগ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ। সেখানে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিটি পরিবারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যেন বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা হয়। নির্দেশনা নিয়ে তা মনিটরিং করা হয়। নিয়মের ব্যত্যয় হলে জরিমানা করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো সেই অবস্থায় নয়।'

পিরোজপুর-৩ আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য রুস্তুম আলী ফরাজীর তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আবার সরকার গঠন করলে, আমাদের লক্ষ্য হবে ২০৪১ সালের মধ্যে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তোলা। স্মার্ট বাংলাদেশ হবে স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সরকার এবং স্মার্ট সোসাইটির ওপর ভিত্তি করে।

সংসদ নেতা বলেন, আওয়ামী লীগের ‘নির্বাচনী ইশতেহার-২০১৮: সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশ’ যা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে জাতির সামনে পেশ করা হয়েছে তাতে ‘২০৪১ সালের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ’ গড়ার পরিকল্পনার রূপরেখা এবং ২১০০ সালের মধ্যে একটি ‘নিরাপদ ব-দ্বীপ’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, উন্নত বাংলাদেশের যাত্রার প্রথম ধাপ হিসেবে দেশ ইতোমধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে।

জেবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর